বাংলা রচনাঃ ডেঙ্গুজ্বর ও প্রতিকার

বাংলা রচনাঃ ডেঙ্গুজ্বর ও প্রতিকার

ভূমিকা: রোগ-শোক মানুষের জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জানতে পারছি। তেমনি একটি রোগ ‘ডেঙ্গুজ্বর’। আর এ রোগের বাহক হচ্ছে ‘এডিস’ নামক বিশেষ এক ধরনের মশা। বর্তমানে মশাবাহিত এই রোগটি প্রায় মহামারির রূপ নিয়েছে। প্রতিবছর এ রোগের সংক্রমণে অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এমনকি বহুলোক অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে আমাদের দেশেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ইতোমধ্যেই এদেশের জনমানসে ডেঙ্গুজ্বর এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এডিস মশার পরিচয়:

এডিস মশা দেখতে গাঢ় নীলাভ-কালো রঙের। এ মশার সারা শরীরে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ আছে, যেন রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এর পাগুলো একটু লম্বাটে ধরনের। মূলত, এডিস ইজিপটাই এবং এডিস এলবোপিকটাস নামক এ দু প্রজাতির স্ত্রী মশা ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাস বহন করে থাকে। এডিস এলবোপিকটাসকে বলা হয় টাইগার মশা। ভারতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১২১ মিটার এবং কলম্বিয়ায় ২২০০ মিটার উচ্চতায়ও এডিস মশা পাওয়া গেছে। এডিস মশা সাধারণত খুব সকালে বা শেষ বিকেলের দিকে বেশি আক্রমণ করে। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য এদের মধ্যে দ্রুত জেনেটিক পরিবর্তন হয় এবং মশার একটি নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয়। নতুন স্টেইনের মশা নিজেকে শহরের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়। এমনকি এই নতুন স্ট্রেইনের এডিস মশা মানুষের তৈরি মাটির ও চিনামাটির পাত্রে সারা বছর ধরে ডিম পাড়ার ক্ষমতা অর্জন করে। এভাবে মানুষের নাগরিক জীবনের সাথে নতুন স্ট্রেইনের এডিস মশা খাপ খাইয়ে নেয়। এভাবে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে এডিস মশা শহরের বর্জ্য, পড়ে থাকা টায়ার, চিপস-এর প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদিতে ডিম পাড়ার ও বেঁচে থাকার ক্ষমতা অর্জন করে। প্রধাণত দু’ধরনের এডিস মশা দেখতে পাওয়া যায়। একটি বুনো অন্যটি শহুরে । বুনো মশা আফ্রিকা থেকে জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ক্রমেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এ মশাটি এখনও আফ্রিকায় দেখা যায়। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রথম বাহক মশা না বানর এ নিয়ে সুস্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে এটা জানা গেছে ডেঙ্গু ভাইরাস এশিয়ার দেশগুলোতে ‘মশা-বানর-মশা’ এমন চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে।

ডেঙ্গুজ্বরের ইতিহাস:

ডেঙ্গুজ্বর প্রথম মহামারি আকারে দেখা দেয় ১৭৭৯ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকায়। হেমোরেজিক ডেঙ্গু অর্থাৎ রক্তক্ষরণ ঘটানোর মধ্যে রয়েছে পাকস্থলি ও অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, যা ১৯২২ সালে প্রথম টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে । এসময় ফিলিপিন্সে শিশুদের মাঝে মারাত্মক আকারে হেমোরেজিক ডেঙ্গু দেখা দেয়। ডেঙ্গুর কারণে প্রথম ১৯২৭ সালে অস্ট্রেলিয়াতে এবং ১৯২৮ সালে গ্রিসে রোগীর মৃত্যু হয়। ১৯৮১ সালে ভেনিজুয়েলায় ডেঙ্গুর সবচেয়ে মারাত্মক ধরন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়াও ১৯৭০ সালে বিশ্বের ১০টি দেশে হেমোরেজিক জ্বর দেখা দেয়। বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্কলিক এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের পর থেকে বিশ্বে প্রতিবছরই ৫১ মিলিয়ন লোক ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৬ জন এবং ডেঙ্গুর কারণে মারা গেছে ৯ হাজার ৭৭৪ জন। (হেলথ টেকনোলজির তথ্যসূত্রে আরও বলা হয়েছে— সারা বিশ্বে প্রায় আড়াই বিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু মহামারির ঝুঁকির সম্মুখীন।) ডেঙ্গুজ্বরের ইতিহাস থেকে জানা যায়, কোনো দেশে একবার ডেঙ্গুজ্বর দেখা দিলে সেই দেশে ২/৩ বছর অন্তর অন্তর এটি আবারও দেখা দিতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বরের প্রকারভেদ:

ডেঙ্গুজ্বর এডিস মশাবাহিত এক ধরনের আরএনএ ফ্ল্যাবি ভাইরাসজনিত তীব্র জ্বর। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন— ১. ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বর ও ২. হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বর। ডেঙ্গু ভাইরাসের ৪টি সেরোটাইপ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- DEN-1, DEN2, DEN-3 ও DEN-4। এ ৪টি সেরোটাইপের যেকোনোটি থেকেই ডেঙ্গুজ্বর হতে পারে। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক DEN-2, DEN-3 সেরোটাইপ। এ দুটি সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসই হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরের কারণ।

জ্বরের উপসর্গ:

ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে সাধারণত তীব্র জ্বর হয়। এক্ষেত্রে জ্বর সাধারণত ১০৪/১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও বমি, পেটব্যথা ও মাথাব্যথা, কোমরব্যথা, অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, ত্বকে ছোটো ছোটো লাল ফুসকুঁড়ি দেখা দেওয়া এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে নড়াচড়ার ক্ষমতা পর্যন্ত হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে হাড় ব্যথা এতটাই প্রচণ্ড হয় যে, মনে হয় যেন হাড় ভেঙে গেছে। এ কারণে এ জ্বরকে ‘ব্যাক বোন ফিভার’ বলা হয়ে থাকে। এই জ্বরে অনেক সময় শরীরের ত্বকে অ্যালার্জির র‍্যাশের মতো র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। এ র‍্যাশগুলো কখনও কখনও চুলকানির উদ্রেক করে। হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বর সবচেয়ে জটিল। এ সময় শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যেমন: চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সাথে, পায়খানার সাথে, চোখে, নারীদের ঋতুস্রাব হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। এসময় অনেকের রক্তবমি হয়, বুকে ও পেটে পানি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে জন্ডিস এমনকি কিডনি আক্রান্ত হয়ে রেনাল রেজাল ফেইলিউরের মতো জটিলতা দেখা দেয়। হয়ে শক সিনড্রম হয়। এক্ষেত্রে হঠাৎ ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো করেই রোগীর রক্তচাপ কমে যায়। শক সিনড্রম। ডেঙ্গু এর প্রধান লক্ষণ হলো হেমোরেজিক ফিভারের সাথে সার্কুলেটরি ফেইলিউর নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, শরীর ঠান্ডা হয়ে আসা, প্রস্রাব কমে যাওয়া। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে। তবে এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলো একটু ভিন্ন। আগে ডেঙ্গু হলে জ্বর হতো, মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতো। কিন্তু এবার তীব্র পেটব্যথা এমনকি হার্টের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। আবার কারো কারো ব্রেনে অ্যাফেক্ট করছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা তাই অনেক বেশি।

ভাইরাস শনাক্তকরণ:

ডেঙ্গু ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগর উপকূল অঞ্চলে। ১৯৪৪ সালে ড. আলবার্ট সাবিন ডেঙ্গুর ভাইরাস শনাক্ত করেন এবং DEN-1 ও DEN-2 নামে দুটি ভাইরাসকে পৃথক করেন। এ সময় ড. আলবার্ট সাবিন ইউএস আর্মি কমিশনে ডেঙ্গু এবং স্যান্ডফ্লাই ফিভারের ওপর কাজ করতে গিয়ে সর্বপ্রথম ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত করেন। ১৯৪৩ সালে প্রথম ভাইরাসের সেরোটাইপ পৃথক করেন জাপানি কর্মীরা। কিন্তু তাদের সে কাজ তখন প্রকাশিত হয়নি। আমেরিকার কর্মীরা একই সময়ে ভারত ও নিউগিনিতে ভাইরাসগুলো পৃথকীকরণের কাজটি করেন। তাঁরা সেগুলোর নাম দেন ‘ডেঙ্গু-১’ ও ‘ডেঙ্গু-২’ সেরোটাইপ। এগুলোকে প্রোটোটাইপ ভাইরাস রূপে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৫৬ সালে হ্যামন এবং তার সহকর্মীরা মিলে আরও নতুন দুটি ডেঙ্গু ভাইরাসকে শনাক্ত করেন। যাদের নাম দেয়া হয়েছে ‘ডেঙ্গু-৩’ ও ‘ডেঙ্গু-৪’।

কীভাবে সংক্রমিত হয়:

ম্যালেরিয়ার মতো ডেঙ্গুর ভাইরাসও মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণেই ডেঙ্গুজ্বর হয়। এই ভাইরাসের বাহক এডিস ইজিপটাই নামক মশা। কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী মশা দ্বারা আক্রান্ত হলে চার থেকে ছয় দিনের মধ্যেই সেই ব্যক্তি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়। আবার ঐ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা আক্রমণ করলে সেও ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবেই মশার মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা পদ্ধতি:

ডেঙ্গুজ্বরের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই ডেঙ্গুজ্বর সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর হওয়ার তিন দিনের মধ্যে সিবিসি এবং রক্তের প্লাটিলেট টেস্ট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্লাটিলেট এক লাখের কম হলে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে চিকিৎসক যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে ব্লাড সুগার, লিভার পরীক্ষা, এপিটিটি, ডি-ডাইমার, প্রোথ্রোম্বিন ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ের ডেঙ্গু হলে দিনে চারবার প্যারাসিটামল খেতে হবে। তাছাড়া বেশি করে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। অ্যান্টিবায়েটিক, অ্যাসপিরিন বা অন্যকোনো ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না। যাদের রক্তের প্লাটিলেট কমে যাবে তাদের জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দিতে হবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।

প্রতিরোধ:

ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধে এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি এ কথা ঠিক নয়। হয়েছে তবে এখনো ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে আছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পর থাইল্যান্ড বিশেষ ভ্যাকসিন ডেভেলপ করেছে। পরীক্ষামূলক এ ভ্যাকসিন থাইল্যান্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবুও বলা যায় যে, এ রোগ প্রতিরোধের জন্য এখনো অবধি প্রমাণিত কোনো ওষুধ নেই। তাই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে আমাদের প্রধান করণীয় হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া। এছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেসকল সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো:

১. স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা যায় ।

২. ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার করতে হবে।

৩. এডিস মশা থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য সম্ভব হলে ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলন্ট স্প্রে লোশন, ক্রিম, প্রভৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. ঘরের ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা বা যেকোনো পাত্রে যেন পানি না জমে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া বাড়ির বাথরুম, অ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের যেন পানি না জমে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

৫. সপ্তাহে অন্তত তিনদিন মশা নিধনের জন্য স্প্রে বা ফগিং করতে হবে। তাছাড়া রাস্তার পাশে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যেসব গাছ লাগানো হয়। সেগুলোর গোড়ায় যেন পানি না জমে তা লক্ষ রাখতে হবে।

৬. প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়াতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে কর্পূর জ্বালিয়ে রেখেও মশা তাড়ানো সম্ভব হবে।

এছাড়াও রোগটির ভয়াবহতার দিক বিবেচনায় সরকার এডিস মশা রোধ করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তবেই ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

উপসংহার: বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুজ্বর এক ভয়াবহ সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ রোগ শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা আশঙ্কার বিষয়। যেহেতু এ রোগের কার্যকর কোনো প্রতিষেধক এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, তাই এর বিস্তার রোধে সচেতনতা অবলম্বন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই। আর তাই ডেঙ্গুজ্বরের কারণে আর কোনো অমূল্য জীবন যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে সকলের সদিচ্ছা এবং চেষ্টাই পারে ডেঙ্গুর মতো সমস্যার মোকাবিলা করতে।

Leave a Comment