এসএসসি সাজেশন্স পৌরনীতি ও নাগরিকতা সৃজনশীল ২০২৩

প্রশ্ন ১: জনাব হাবিবুর রহমান ‘ক’ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত। অন্যদিকে ডেভিড জনসন ‘খ’ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীও বটে।

ক. রাষ্ট্র কী?
খ. সরকার বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ রাষ্ট্রের কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ‘খ’ রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল? বিশ্লেষণ করো।’ [ঢা. বো. ২০২২]

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) জনগণ, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ, স্থায়ী ও সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্র বলা হয়।

খ) সরকার বলতে সেই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়।

সরকারের মাধ্যমেই একটি দেশের জনগণ তথা রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রকাশিত ও বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। সরকার শব্দটি সংকীর্ণ ও ব্যাপক দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। সংকীর্ণ অর্থে সরকার বলতে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বোঝায়। আর ব্যাপক অর্থে সরকার বলতে দেশের সব নাগরিককে বোঝায়। সব রাষ্ট্রে সরকারের মৌলিক গঠন একই রকম হলেও রাষ্ট্রভেদে এর রূপ ভিন্ন হয়। যেমন— বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বিদ্যমান।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের উপর নির্ভরশীল তাকে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলে। এতে মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসন ক্ষমতা থাকে। সাধারণ ‘নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করেন। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের সরকারের একজন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা হয় প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ‘ক’ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ও নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হলেন জনাব হাবিবুর রহমান। তা সত্ত্বেও তার দেশের মন্ত্রিসভাই দেশের শাসন ক্ষমতার অধিকারী। ‘ক’ রাষ্ট্রের এসব বৈশিষ্ট্য সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। কেননা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান হন নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। আর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার হাতেই দেশের শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ‘খ’ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বিদ্যমান। তাই ‘খ’ রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল।

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তিনি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও নির্বাহী প্রধান। উদ্দীপকে দেখা যায়, ‘খ’ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন ডেভিড জনসন। এছাড়া তিনি ‘খ’ রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীও। ‘খ’ রাষ্ট্রের এসব বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। কেননা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকেন না।

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের শাসন ব্যবস্থা স্থিতিশীল হয়। কেননা এ ধরনের সরকারের রাষ্ট্রপতি একটি নির্ধারিত মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। এ সময় একমাত্র অভিশংসন (কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনসভার দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন সাপেক্ষে অপসারণ করা) ছাড়া তাকে অপসারণ করা যায় না। ফলে শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যেহেতু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল হয় এবং ‘খ’ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বিদ্যমান, সেহেতু বলা যায়, ‘খ’ রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল।

প্রশ্ন ২: ‘X’ রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ আছে। রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত। নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেয়া হয়। অপরদিকে ‘Y’ রাষ্ট্রটি পরিচালনায় জনগণের কোনো ভূমিকা থাকে না। সরকারই রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা পাঠের সৃজনশীল প্রশ্ন

ক. কল্যাণ রাষ্ট্র কী?
খ. এককেন্দ্রিক সরকার বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ‘X’ রাষ্ট্রটি কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র? যুক্তি দাও। [ঢা. বো. ২০২২]

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে তাকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলে।

খ) যে শাসনব্যবস্থায় সরকারের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকে দেশের শাসন পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।

এককেন্দ্রিক সরকারের কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন করা হয় না। এ সরকার ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকারের কোনো অস্তিত্ব নেই। রাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রদেশ বা প্রশাসনিক অঞ্চল থাকতে পারে। তবে তারা কেন্দ্রের প্রতিনিধি বা সহায়ক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ, জাপান, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি দেশে এককেন্দ্রিক সরকার প্রচলিত আছে।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ‘X’ রাষ্ট্রটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মত প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এ ধরনের রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে, সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উদ্দীপকের ‘X’ রাষ্ট্রের প্রকৃতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনুরূপ। কেননা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো ‘X’ রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতাও জনগণের হাতে ন্যস্ত। এছাড়া ‘X’ রাষ্ট্রের জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো ‘X’ রাষ্ট্রেও নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। তাই বলা যায়, ‘X’ রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিদ্যমান।

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ‘X’ রাষ্ট্রটি জনকল্যাণমূলক উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘X’ রাষ্ট্রের প্রকৃতি গণতান্ত্রিক। কেননা ‘X’ রাষ্ট্রে জনগণই প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী। তাদের মতামত প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ‘X’ রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনের গুরুত্ব রয়েছে। এগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, ‘y’ রাষ্ট্রটি একনায়কতান্ত্রিক প্রকৃতির। কেননা একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বৈচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে সরকারই রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাই এ দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে আমি ‘X’ রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক বলে মনে করি।

‘X’ রাষ্ট্রে জনগণের হাতে শাসন ক্ষমতা বিদ্যমান থাকায় সকলে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এর ফলে নাগরিকদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। এছাড়া ‘X’ রাষ্ট্রে জনগণের মত প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকায় সরকার জনস্বার্থবিরোধী কাজ করতে পারে না। ‘X’ রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন বিদ্যমান থাকায় ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বোপরি জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে ‘Y’ রাষ্ট্রে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ না থাকায় এবং সরকার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী জনকল্যাণের দিকটি উপেক্ষিত হয়।

উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘Y’ রাষ্ট্রের চেয়ে ‘X’ রাষ্ট্রটি জনকল্যাণমূলক। আর এ কারণেই ‘X’ ও ‘y’ রাষ্ট্রের মধ্যে ‘X’ রাষ্ট্রকে নিঃসন্দেহে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে অভিহিত করা যায়।

প্রশ্ন ৩:

প্রশ্ন ৩:

ক. যুক্তরাষ্ট্র কাকে বলে?
খ. গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. প্রথম দৃশ্য কোন ধরনের ব্যবস্থা প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. দ্বিতীয় দৃশ্যে যে ধরনের ব্যবস্থা প্রকাশ পেয়েছে তা ত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করো। [ম. বো. ২০২২]

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলে যে সরকার গঠিত হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে।

খ) বর্তমান যুগে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্র।

গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণ তাদের ইচ্ছামতো শাসক নির্বাচন করতে পারে। আবার নির্বাচিত সরকার জনগণের পক্ষে কাজ না করলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে পারে। গণতন্ত্রে জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসক। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে। তাই সবার স্বার্থ রক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকদের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অন্য কোনো শাসনব্যবস্থায় জনগণকে এতটা প্রাধান্য দেওয়া হয় না। এসব কারণেই গণতন্ত্রকে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা বলা হয়।

গ) প্রথম দৃশ্য সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রকাশ করে।

আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম শাসন ব্যবস্থা হলো সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। এ ব্যবস্থায় সরকার জনমতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং জনসাধারণের প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংসদীয় সরকার গণতান্ত্রিক হওয়ার কারণে এ ব্যবস্থায় প্রচার মাধ্যমগুলো মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। এখানে আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলো বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা শাসন কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।

প্রথম দৃশ্যে সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হিসেবে জনমত দ্বারা পরিচালিত, প্রচার মাধ্যম স্বাধীন ও মুক্ত, বহুদলের উপস্থিতি এবং সার্বভৌম আইনসভার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসবই সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, প্রথম দৃশ্যে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার স্বরূপই প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ) দ্বিতীয় দৃশ্যে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে, যার কতগুলো ত্রুটি লক্ষ করা যায়।

গণতান্ত্রিক সরকারের একটি প্রধান রূপ হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এ ব্যবস্থায় আইন বিভাগের সাথে পরামর্শ না করে রাষ্ট্রপতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এ ব্যবসায় রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার

প্রধান হওয়ার কারণে তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কারণে বিভাগগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে এ ব্যবস্থায় প্রচার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত থাকে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের এসব বৈশিষ্ট্য দ্বিতীয় দৃশ্যে নির্দেশিত সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। অর্থাৎ দ্বিতীয় দৃশ্যে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রকাশ পেয়েছে, যার কতগুলো ত্রুটি বিদ্যমান।

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের ত্রুটির ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির হতে সর্বময় কর্তৃত্ব থাকায় এবং শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী না থাকায় রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছাচারী শাসকে পরিণত হতে পারেন। এছাড়া এ ধরনের সরকারে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের গঠন ও ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতার অভাব ও বৈরিতা দেখা দেয়। আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে সহজে সংবিধান সংশোধন করা যায় না বলে এ শাসন ব্যবস্থা অনমনীয় প্রকৃতির হয়।

এছাড়া আইন প্রণয়নে অসুবিধা, শাসন বিভাগের উদ্যোগহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব প্রভৃতি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের অন্যতম ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের যেসব ত্রুটি আলোচিত হলো তা এ সরকার ব্যবস্থার গুণাবলিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তাই চলমান বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হিসেবে এ সরকার ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

প্রশ্ন ৪: বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসকের মর্যাদাকে বাদশা, সুলতান বা আমীর হিসেবে দেখা যায়। অন্যদিকে আরও কিছু রাষ্ট্র আছে যেখানে ‘A’ ও ‘B’ নামের দুটি সরকার বিদ্যমান। প্রত্যেক সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র এবং কেউ স্থানীয় আবার কেউ জাতীয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

ক. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কাকে বলে?
খ. ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় কোন ধরনের রাষ্ট্রে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশের শাসনব্যবস্থার কয়টি ধরন রয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘A’ ও ‘B’ কোন ধরনের পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বলে তুমি মনে কর? এর গুণগুলো আলোচনা করো। [ম. বো. ২০২২]

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে।

খ) পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয়। ধরন রয়েছে।

পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।

গ) উদ্দীপকের প্রথম অংশের শাসনব্যবস্থা হলো রাজতন্ত্র যার দুটি উদ্দীপকের প্রথম অংশে কিছু রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনের মর্যাদাকে বাদশাহ, সুলতান এবং আমীর হিসেবে অভিহিত করা হয়। উদ্দীপকের প্রথম অংশের এসব তথ্য রাজতন্ত্রকে নির্দেশ করে। কেননা রাজতন্ত্রে প্রকৃত শাসককে বাদশাহ, সুলতান, আমীর বলে সম্বোধন করা হয়। রাজতন্ত্র দুই ধরনের হয়। যথা- নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে রাজা বা রাণী রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। অন্যদিকে, নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পাঞ্জেরী মাধ্যমিক সৃজনশীল পৌরনীতি ও নাগরিকল্প রাষ্ট্রপ্রধান হন। কিন্তু তিনি সীমিত ক্ষমতা ভোগ করেন। রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। যুক্তরাজ্যে (গ্রেট ব্রিটেন) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।

ঘ) ‘A’ ও ‘B’ যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বলে আমি মনে। করি। এ ধরনের সরকারের বেশকিছু গুণাবলি রয়েছে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ‘A’ ও ‘B’ সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন। স্বতন্ত্র। এ সরকার দুটির মধ্যে একটির নিকট স্থানীয় এবং অপরটির নিকট জাতীয় বিষয় ন্যস্ত রয়েছে। ‘A’ ও ‘B’ সরকার সম্পর্কিত উদ্দীপকের এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। কেননা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থার কতগুলো গুণ রয়েছে। যেমন- এ সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্যের সমন্বয় ঘটে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্য ও ভিন্নতা বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে। এছাড়া এ ধরনের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কমায়। এ সরকার ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়া হয়। ফলে কেন্দ্রের কাজের চাপ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানেরও উপযোগী। কারণ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকার সহজেই অঞ্চলের সমস্যাগুলে বুঝতে এবং তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে পারে। এছাড়া রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি ও স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশেও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার সহায়ক। কারণ এ ব্যবস্থায় জনগণ দুটি সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখায় এবং দুই প্রকার আইন ও আদেশ মেনে চলে। ফলে জনগণ রাজনৈতিকভাবে অধিকতর সচেতন হয়ে ওঠে। এ ধরনের ব্যবস্থা স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশে খুবই সহায়ক। আবার যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্রের স্বেচ্ছাচারিতারও লোপ পায়। কারণ কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের ফলে কেন্দ্র নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে না। ফলে কেন্দ্রের স্বেচ্ছাচারী হওয়ার আশংকা থাকে না।

পরিশেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকারের একটি ধরন হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। এ সরকার তার নানাবিধ গুণের কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত হয়েছে।

প্রশ্ন ৫:

প্রশ্ন ৫:

ক. নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কী?
খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
গ. রাষ্ট্র-২ এ কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘রাষ্ট্র-১ এ অধিক নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান’— তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। [রা. বো. ২০২২]

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে শাসনব্যবস্থায় রাজা বা রানি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাকে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বলে।

খ) যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলে গঠিত সরকারব্যবস্থাকে বোঝায়।

যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। ফলে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় উভয় সরকারই মৌলিক ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থেকে দেশ পরিচালনা করে।

গ) রাষ্ট্র-২-এ একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।

একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারের সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল অথবা কোনো শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাকে বলা হয় একনায়ক বা ডিকটেটর। এ ব্যবস্থায় একনায়কের আদেশই আইন এবং শাসকের কারও কাছে জবাবদিহিতা থাকে না। এতে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে। এই দলের নেতাই সরকারপ্রধান। তার ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালিত হয় এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে দল গঠিত হয়। একনায়কতন্ত্রে গণমাধ্যমগুলো নেতা ও তার দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আইন ও বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এক জাতি, এক দেশ, এক নেতাএকনায়কতন্ত্রের আদর্শ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, রাষ্ট্র-২-এ দেশের সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। সে দেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল বিদ্যমান এবং সরকার প্রধানের আদেশই আইন। এগুলো সবই একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র-২-এ একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।

ঘ) ‘রাষ্ট্র-১-এ অধিক নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান’- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত। কেননা রাষ্ট্র-১ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

উদ্দীপকে দেখা যায়, রাষ্ট্র-১-এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবাদহি করে। এ সবই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনকাজ জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত হয়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিক ভোটদানে অংশগ্রহণ করতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দল এবং সবার স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে। এ ধরনের রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ঘটে এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়। এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে জনগণের ইচ্ছা ও যুক্তি প্রাধান্য পায়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনের প্রাধান্য থাকে বলে নাগরিক অধিকার রক্ষিত হয়, যা একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সম্ভব হয় না।

পরিচালিত উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নাগরিকদের সুবিধার্থে শাসনব্যবস্থা। তাই রাষ্ট্র-১ তথা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিক নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান।

প্রশ্ন ৬:

ক. অধস্তন আদালত কী?
ক. অধস্তন আদালত কী?
খ. ‘একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিপ্লবের ভয় থাকে ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘খ’ সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলো কোন সরকার ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘ক’ এবং ‘খ’ সরকার ব্যবস্থার মধ্যে কোনটিকে তুমি উত্তম মনে কর? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। [রা. বো, ২০২২]

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) অধস্তন আদালত হলো সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় বিচার বিভাগের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা পরিচালনার জন্য গঠিত আদালত।

খ) একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে সর্বদা বিপ্লবের ভয় থাকে।

ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের একটি ধরন হলো একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র। একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও গণ-অসন্তোষের কারণে সাধারণত একনায়কতন্ত্র বেশিদিন টিকতে পারে না।

গ) উদ্দীপকের ‘খ’ সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলো মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

যে সরকার ব্যবস্থায় শাসন ও আইন বিভাগের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বলে। এ সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকে। সংসদের নির্বাচিত বিরোধী দলকে এ ব্যবস্থায় বিকল্প সরকার বলা হয়। তারা সংসদে সরকারের কাজের সমালোচনার সুযোগ পায় এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারে। এ সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হয়। বলে জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী উভয় দলকে তৎপর থাকতে হয়। উদ্দীপকের ‘খ’ সরকার ব্যবস্থায়ও সরকারের এসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

উদ্দীপকের ‘খ’ সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- সরকারি ও বিরোধী দল জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, আইন ও শাসন বিভাগের সুসম্পর্ক এবং উভয় দল জনমতকে অনুকূলে রাখার চেষ্টা করে। ‘খ’ সরকারের এসব বৈশিষ্ট্য উপরে আলোচিত মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদীয় সরকারের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ‘খ’ সরকার ব্যবস্থাটি হলো সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।

ঘ) উদ্দীপকের ‘ক’ হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত এবং ‘খ’ হলো মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। এ দুটির মধ্যে আমি মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় ব্যবস্থাকে উত্তম বলে মনে করি।

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। এতে রাষ্ট্রপতি বা সরকার প্রধান একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি দলের চেয়ে জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকে অধিক গুরুত্ব দেন বলে এ সরকার ব্যবস্থায় দলীয় মনোভাবের প্রতিফলন কম। এ সরকারের শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের গঠন ও ক্ষমতা আলাদা। এছাড়া এ সরকার ব্যবস্থা অনমনীয় প্রকৃতির হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো যায় না। উদ্দীপকের ‘ক’ সরকার ব্যবস্থায় উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতিফলন রয়েছে বলে এটি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারকে ইঙ্গিত করছে।

অপরদিকে সংসদীয় সরকার হলো দায়িত্বশীল সরকার। কেননা এতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকে। এ সরকারের শাসন বিভাগের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য হওয়ায় আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। এ সরকার ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ

সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। ফলে সরকার ভালো কাজ করার চেষ্টা করে। এছাড়া এ সরকারের বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয়। ফলে জাতীয় সংকটে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল একসাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকের ‘খ’ সরকার ব্যবস্থায় এ সরকারের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ।

পরিশেষে বলা যায়, সংসদীয় সরকার রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের চেয়ে তুলনামূলক বেশি জনকল্যাণমূলক হওয়ায় একে আমি উত্তম মনে করি।

প্রশ্ন ৭: জনাব রহিম ৯ম শ্রেণির ক্লাসে একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে আলোচনা করার সময় বলেন, এটি এমন এক ব্যবস্থা যেখানে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। এটি জনগণের স্বার্থে। পরিচালিত হয়। এখানে একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা সফল করার জন্য নাগরিকের গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে।

ক. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কাকে বলে?
খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা সফল করার জন্য নাগরিকের গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে”- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। [রা. বো. ২০২২]

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় তাকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলে।

) আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে।

আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে- কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন। অন্যকথায় আইনের চোখে সবাই সমান। ফলে ধনী-দরিদ্র, সবলদুর্বল সকলে সমান অধিকার লাভ করে। আইনের শাসনের প্রাধান্য থাকলে সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকবে এবং জনগণ আইনের বিধান মেনে চলবে।

গ) উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাহিদার ভিন্নতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সরকারব্যবস্থা বা রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা রাষ্ট্রের সকল সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। উদ্দীপকে এ ধরনের রাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

উদ্দীপকের শিক্ষক এমন এক রাষ্ট্রের কথা বলেন, যেখানে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। সেটি জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা এবং সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। অনুরূপভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করতে পারে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা, জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মত প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে, সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ) উক্ত ব্যবস্থার অর্থাৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সফলতার জন্য নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে- প্রশ্নোত্ত এ বক্তব্যটি যথার্থ। বর্তমান যুগে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা। কিন্তু এর চর্চা বা বাস্তবায়নের পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে গণতছে। সাফল্যের জন্য প্রয়োজন শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক পাৰ্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন, উপযুক্ত নেতৃত্ব, পরমতসহিষ্কৃত আইনের শাসন প্রভৃতি।

উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনার শেষে বলা হয়েছে। যে, এটি সচল করার জন্য নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে। এ কথাটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক। আর গণতান্ত্রিক আচরণের জন্য নাগরিকদের পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। সবাইকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে এবং অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ পরিহার করে দেশের মঙ্গলকে হবে। নিজের অধিকার ভোগ যেন অন্যের প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে অধিকার ভঙ্গের কারণ না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং দলের মধ্যে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে শ্রদ্ধা করতে হবে। সেই সাথে নাগরিকদের সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন। তাই অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত হতে না পারে, সে জন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোককে নির্বাচিত করতে হবে। তাছাড়া আইনের শাসন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। এজন্য সবাইকে আইন মানতে হবে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সফল করতে সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তা হলো, রাষ্ট্রের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া। তাই উপযুক্ত গণতান্ত্রিক আচরণ শেখা ও তা প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সফল করার জন্য নাগরিকদের যত্নবান হতে হবে।

মাধ্যমিক সৃজনশীল পৌরনীতি ও নাগরিকতা ২০২৩

প্রশ্ন ৮: মি. হাসিবের দেশের সরকার জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত নয়। তার দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল বিদ্যমান এবং সরকার প্রধানের আদেশই তার দেশ পরিচালিত হয়। অপরদিকে, মি. রাজনের দেশের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকার তার কাজের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করে। ফলে তার দেশ সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ক. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কাকে বলে?
খ. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
গ. মি. হাসিবের রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা চালু আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মি. রাজনের রাষ্ট্রে নাগরিক সুবিধা অনেক বেশি’— তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে রাষ্ট্রের সমুদয় সম্পদ ও শক্তি জনকল্যাণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয় তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে।

খ) যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার কাছে দায়ী থাকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে।

গ) সংসদীয় সরকারে শাসনবিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভর করে। জাতীয় নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিপ্লবী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রীদের নিয়োগ ও তানে দার বণ্টন করেন। এ মন্ত্রিসভা যতক্ষণ পর্যন্ত আইনসভার আস্থাভাজন থাকবে, ততক্ষণ শাসনক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবে। আইনসভার আম্মা হয়ালে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। আবার মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের কাজের জন্য আইনসভার কাছে জবাবদিহি করেন।

ঘ) মি. হাসিবের রাষ্ট্রে একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।

একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারের সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। এটি এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। কেননা এতে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমত জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

একনায়কতান্ত্রিক শাসককে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রী বা উপদেষ্টা পরিষদ থাকে। কিন্তু তারা শাসকের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলে। একনায়কের আদেশই আইন। এ ব্যবস্থায় শাসকে বারও কাছে জবাবদিহিতা থাকে না। এতে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে। এই দলের নেতাই সরকারপ্রধান। তার ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালিত হয় এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে দল গঠিত হয়। একনায়কতন্ত্রে গণমাধ্যমগুলো নেতা ও তার দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আইন ও বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এক জাতি, এক দেশ, এক নেতাএকনায়কতন্ত্রের আদর্শ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. হাসিবের দেশের সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। সে দেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল বিদ্যমান এবং সরকার প্রধানের আদেশই আইন। এগুলো সবই একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, মি. হাসিবের রাষ্ট্রে একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।

ঘ) “মি. রাজনের রাষ্ট্রে অধিক নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান” – আমি এ উক্তির সাথে একমত। কেননা মি. রাজনের রাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি সরকার পরিচালনা করে, তাকে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসনকার্যে জনগণের সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে এবং জনগণই সরকার গঠন করে। সরকার তার কাজের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রাজনের দেশের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করে। এগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনকার্য জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত হয়। এতে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিক ভোটদানে অংশগ্রহণ করতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দল এবং সবার স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ঘটে এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়। এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগসুবিধা লাভ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে জনগণের ইচ্ছা ও যুক্তি প্রাধান্য পায়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনের প্রাধান্য থাকে বলে নাগরিক অধিকার রক্ষিত হয়, যা একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সম্ভব হয় না।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নাগরিকদের সুবিধার্থে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। তাই বলা যায়, মি. রাজনের রাষ্ট্রে অধিক নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান।

প্রশ্ন ৯: সম্প্রতি বিবিসি অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বেকার সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিকেরা তাদের মতামত পেশ করে। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীগণ নানাবিধ বিষয় নিয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করেন।

ক. দ্বৈত নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?
খ. সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিবিসি সংলাপ দ্বারা কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার ব্যবস্থার সফলতার জন্য বর্ণিত গুণাবলিই কি যথেষ্ট? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। [রা. বো. ২০২২]

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) দ্বৈত নাগরিকতা বলতে একজন ব্যক্তির একই সাথে দুই দেশের নাগরিকতা অর্জনকে বোঝায়।

খ) সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না।

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য্যকে স্বীকার করা হয় না। এ ধরনের রাষ্ট্রে একটি মাত্র দল থাকে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিরোধী মত প্রচারের সুযোগ থাকে না। যেমন— চীন ও কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত বিবিসির সংলাপ দ্বারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা তথা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ ব্যবস্থায় শাসনকার্যে জনগণের সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে এবং জনগণই সরকার গঠন করে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়। জনগণের সম্মতিক্রমে। জনসমর্থন হারালে নির্বাচনে সরকারকে পরাজিত হতে হয়। গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিদ্যমান থাকে। এর মাধ্যমে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করতে পারে। অর্থাৎ গণতন্ত্রে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিদ্যমান।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বিবিসির সংলাপ অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিকরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের নানাবিধ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেন। অর্থাৎ বিবিসির মাধ্যমে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করেন, যা গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম গুণ। তাই বলা যায়, এখানে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ফুটে উঠেছে।

ঘ) না, উদ্দীপকে বর্ণিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার সফলতার জন্য শুধু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি না। গণতন্ত্র বর্তমান সময়ে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এর চর্চা বা বাস্তবায়নের পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। গণতন্ত্রকে সফল করার জন্য এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন।

উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা গুণটি প্রকাশ পেয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য গুণ। তবে এটি ছাড়াও গণতন্ত্রকে সফল করার জন্য আরও অনেক শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নাগরিকদের গণতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন হওয়া। তাদেরকে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে। নাগরিকদের পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থপরতা পরিহার করতে হবে। নিজের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। নাগরিকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং দলের মধ্যে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। তাই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অযোগ্য লোক যাতে নির্বাচিত না হতে পারে তাই সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোক নির্বাচন করতে হবে। এছাড়াও আইনের শাসন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। আইনের চোখে সবাই সমান। গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, গণতন্ত্রকে সফল করার জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়াও আরও অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই বলা যায়, গণতন্ত্রকে সফল করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লেখিত গুণটিই যথেষ্ট।

প্রশ্ন ১০: বিবিসির সংলাপ অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যমান সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিকরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীগণ সরকারের নানাবিধ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেন।

ক. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কী?
খ. নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে গণতন্ত্রের কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. গণতন্ত্রকে সফল করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লেখিত গুণটিই কী যথেষ্ট? যুক্তি দাও। [দি. বো. ২০২২]

১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় তাকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলে।

খ) যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজা বা রানি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাকে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বলে।

নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে জনগণের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না। কেননা উত্তরাধিকারসূত্রে রাজা বা রানি নির্ধারিত হয় এবং তারাই সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হয়। বর্তমান বিশ্বে এ ধরনের রাষ্ট্রের সংখ্যা নগণ্য। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

গ) উদ্দীপকে গণতন্ত্রে নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা গুণটি ফুটে উঠেছে।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ ব্যবস্থায় শাসনকার্যে জনগণের সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে এবং জনগণই সরকার গঠন করে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয় জনগণের সম্মতিক্রমে। জনসমর্থন হারালে নির্বাচনে সরকারকে পরাজিত হতে হয়। গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিদ্যমান থাকে। এর মাধ্যমে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করতে পারে। অর্থাৎ গণতন্ত্রে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিদ্যমান।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বিবিসির সংলাপ অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যমান সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিকরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের নানাবিধ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেন। অর্থাৎ, বিবিসির সংলাপ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করেন। তাই বলা যায়, এখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা গুণটি ফুটে উঠেছে।

ঘ) সৃজনশীল ৯ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’ এর উত্তরের অনুরূপ।

প্রশ্ন ১১:

ক. এককেন্দ্রিক সরকার কাকে বলে?

ক. এককেন্দ্রিক সরকার কাকে বলে?
খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দ্বৈত সরকার বিদ্যমান কেন?
গ. তথ্য ছক-২ এর সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. তথ্য ছকে বর্ণিত কোন সরকার ব্যবস্থাটি বাংলাদেশের জন্য উপযোগী? মতামত উপস্থাপন করো। [কু. বো. ২০২২]

১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে শাসন ব্যবস্থায় সরকারের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকে দেশের শাসন পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।

খ) যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্র ও প্রদেশে আলাদা সরকার গঠিত হওয়ায় সেখানে দ্বৈত সরকার বিদ্যমান।

একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়। আর যুক্তরা সরকার বলতে এমন সরকারকে বোঝায় যেখানে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংবিধানের ভিত্তিতে ক্ষমতা বন্টন হয়। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের কিন্তু ক্ষমতা প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে এবং জাতীয় বিষয়গু কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। ফলে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক উভয় সরকারই মৌলিক ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থেকে দেশ পরিচালনা করে। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বেত সরকার বিদ্যমান।

গ) তথ্য ছক-২-এর সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি একাধারে সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন। তাই জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি আইন বিভাগের সাথে পরামর্শ না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ শাসন ব্যবস্থায় সরকারের তিনটি বিভাগ পরস্পরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে পৃথকভাবে কাজ করে। ফলে এতে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ ঘটে।

উদ্দীপকে তথ্য হুক-২-এর সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রের সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান একই ব্যক্তি। এতে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণে নীতির প্রয়োগ সম্ভব হয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। উল্লিখিত বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, তথ্য ছক-২-এর সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত।

ঘ) তথ্য ছক-১-এ মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা এবং তথ্য ছক-২-এ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। উক্ত সরকার ব্যবস্থাদ্বয়ের মধ্যে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অধিক উপযোগী।

সংসদীয় সরকার দায়িত্বশীল সরকার। কেননা এতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকে। এ সরকারে শাসন বিভাগের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য হওয়ায় আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। যেমনটি উদ্দীপকের হক-১-এর সরকার ব্যবস্থায়ও দেখা যায়। এ সরকার ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। ফলে সরকার জনকল্যাণমূলক কাজ করার চেষ্টা করে। এছাড়া এ সরকারে বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয়। ফলে জাতীয় সংকটে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল একসাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় সরকার প্রধানই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন, যা ছক-২-এর সরকার ব্যবস্থায় লক্ষণীয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতির হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব থাকায় এবং শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী না থাকায় রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছাচারী শাসকে পরিণত হতে পারেন। এ সরকারের শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের গঠন ও ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতার অভাব ও বৈরি মনোভাব দেখা দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি সরকারকে নাজুক অবস্থায় ফেলতে পারে। এছাড়া এ সরকার ব্যবস্থা অনমনীয় প্রকৃতির হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো যায় না। সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা শেষে আমি

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।

প্রশ্ন ১২: A ও B নামক দুটি দেশের সরকারের বৈশিষ্ট্য নিচের ছকে দেখানো হলো-

প্রশ্ন ১২: A ও B নামক দুটি দেশের সরকারের বৈশিষ্ট্য নিচের ছকে দেখানো হলো-

ক. গণতন্ত্র কাকে বলে?
খ. পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় কেন?
গ. A দেশে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকার ব্যবস্থার মধ্যে তুমি কোন সরকার ব্যবস্থাটিকে বাংলাদেশের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে কর? মতামত দাও। [চ. বো, ২০২২]

১২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থাকে গণতন্ত্র বলে।

খ) পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন। তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয়।

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায় যেখানে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকার ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।

গ) ‘A’ দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি একটি নির্ধারিত মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। এ সময় একমাত্র অভিশংসন ছাড়া তাকে অপসারণ করা যায় না। ফলে শাসন ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি আইন ভিাগের সাথে পরামর্শ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে যুদ্ধ, জরুরি অবস্থা ও অন্য কোনো সংকটকালে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পারদর্শিতার পরিচয় দেয়। এছাড়া এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও ভারসাম্য বজায় থাকে।

‘A’ দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেখানকার শাসন ব্যবস্থা সাধারণত স্থায়ী, সংকটকালে সহজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সরকারের বিভাগগুলোর ক্ষমতা আলাদা করা থাকে। ‘A’ দেশের সরকার সম্পর্কিত এসব তথ্য রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার অনুরূপ। তাই বলা যায়, ‘A’ দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

ঘ) উদ্দীপকের ‘A’ দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা এবং ‘B দেশের সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুটি সরকার ব্যবস্থার মধ্যে আমি সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।

সংসদীয় সরকার দায়িত্বশীল সরকার। কেননা এতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকে। এ সরকারে শাসন বিভাগের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য হওয়ায় আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। এ সরকার ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। ফলে সরকার ভালো কাজ করার চেষ্টা করে। এছাড়া এ সরকারে বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয়। ফলে জাতীয় সংকটে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল একসাথে আলাপআলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতির হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব থাকায় এবং শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী না থাকায় রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছাচারী শাসকে পরিণত হতে পারেন। এ সরকারের শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের গঠন ও ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতার অভাব ও বৈরি মনোভাব দেখা দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি সরকারকে নাজুক অবস্থায় ফেলতে পারে। এছাড়া এ সরকার ব্যবস্থা অনমনীয় প্রকৃতির হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো যায় না।

সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা শেষে আমি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।

প্রশ্ন ১৩: আজাদের দেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল আছে। জনগণের ভোটের কোনো অধিকার নেই। সরকার প্রধানের আদেশই রাষ্ট্র। অন্যদিকে আমিনের দেশে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। তিনি জনগণের নিকট জবাবদিহি করেন। এখানে একাধিক দল থাকে। নাগরিকের অধিকার ও আইনের অনুশাসন স্বীকৃত হয়।

ক. এককেন্দ্রিক সরকার কাকে বলে?
খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে দ্বৈত সরকার ব্যবস্থা বলা হয় কেন?
গ. আজাদের দেশে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আমিনের দেশের সরকার ব্যবস্থা আজাদের দেশের সরকার ব্যবস্থা থেকে অধিক উত্তম- বিশ্লেষণ করো। [চ. বো. ২০২২]

১৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে শাসন ব্যবস্থায় সরকারের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকে দেশের শাসন পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।

) যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও প্রদেশে আলাদাভাবে সরকার গঠিত হয় বলে একে দ্বৈত সরকার ব্যবস্থা বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের সরকারকে বোঝায়, যেখানে একাধিক রাষ্ট্র বা প্রদেশ মিলে একটি সরকার গঠন করে। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা প্রদেশ বা আঞ্চলিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ভাগ করা হয়। ফলে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় উভয় সরকারই মৌলিক ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থেকে দেশ পরিচালনা করে। অর্থাৎ এতে দ্বৈত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে।

গ) আজাদের দেশে একনায়কতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান ।

একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে সরকারের সব ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। এটি স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। কেননা এতে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল অথবা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাকে বলা হয়। একনায়ক বা ডিকটেটর। এ ব্যবস্থায় শাসককে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। এতে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে। এ দলের নেতাই সরকারপ্রধান। তার ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালিত হয় এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে দল গঠিত হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, আজাদের দেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল বিদ্যমান। এখানে জনগণের ভোটের অধিকার নেই। এছাড়া আজাদের দেশের সরকার প্রধানের আদেশই আইন। এসবই একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, আজাদের দেশে একনায়কতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

ঘ) আমিনের দেশে গণতান্ত্রিক এবং আজাদের দেশে একনায়কতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই আমিনের দেশের সরকার ব্যবস্থা আজাদের দেশের সরকার ব্যবস্থা থেকে অধিক উত্তম- উক্তিটি যথার্থ।

আজাদের দেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল বিদ্যমান এবং সরকার প্রধানের আদেশই আইন, যা একনায়কতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, আমিনের দেশে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে এবং এখানে নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য। এ দুটি সরকার ব্যবস্থার মধ্যে গণতান্ত্রিক সরকার চলমান বিশ্বে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সরকার ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা রাষ্ট্রের সকল সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা।

অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ঘটে। অন্যদিকে একনায়কতন্ত্র ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বীকার করে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসকগণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে দায়ী থাকে। ফলে দেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কারণ একনায়ককে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। তার কথাই আইন। গণতন্ত্রে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তন করা যায় বলে এখানে বিপ্লবের সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু একনায়কতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণ নেই বলে সর্বদা বিপ্লবের ভয় থাকে। আলোচনা শেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকার হলো জনগণের কল্যাণার্থে

পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। আর একনায়কতান্ত্রিক সরকার হলো গণতন্ত্রের বিপরীত শাসনব্যবস্থা। তাই এ দুটি সরকার ব্যবস্থার মধ্যে গণতান্ত্রিক সরকার নিঃসন্দেহে অধিক উত্তম।

প্রশ্ন ১৪: রিনা উচ্চ শিক্ষার জন্য চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। দেশটিতে নাগরিকের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না। অন্যদিকে তার বান্ধবী রূপা নরওয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হয়। ধনীদের উচ্চহারে কর আরোপ করা হয় এবং দরিদ্রদের সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয়।

ক. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কাকে বলে?
খ. একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের রিনার অধ্যয়নরত দেশটির রাষ্ট্র ব্যবস্থা কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের রূপার দেশটির প্রধান কাজ হলো সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা- মতামত দাও। [চ. বো, ২০২২]

১৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে সরকার ব্যবস্থায় একাধিক রাষ্ট্র বা প্রদেশ মিলে একটি সরকার গঠন করে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।

খ) একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধান নিজের ইচ্ছেমতো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বলে একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।

একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে ক্ষমতা জনগণের হাতে না থেকে একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। একনায়কের ইচ্ছানুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। এখানে গণমাধ্যমগুলোর কোনো স্বাধীনতা থাকে না। একনায়কের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারে না। এ ব্যবস্থায় শাসককে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। এসব কারণে একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।

গ) উদ্দীপকের রিনার অধ্যয়নরত দেশটিতে তথা চীনে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিদ্যমান ।

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায় যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না। এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের সরকার ব্যবস্থায় জনগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন নয়। এটি পুঁজিবাদী সরকার ব্যবস্থার বিপরীত।

উদ্দীপকে তথ্যানুযায়ী, রিনা চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। দেশটিতে নাগরিকের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না। যেহেতু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না এবং চীন একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেহেতু বলা যায় রিনার অধ্যয়নরত দেশ অর্থাৎ চীনে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।

ঘ) উদ্দীপকের রূপার দেশটির অর্থাৎ কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হলো সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা- উক্তিটি যথার্থ।

এসএসসি প্রস্তুতি ২০২৩ – মাধ্যমিক সৃজনশীল পৌরনীতি ও নাগরিকতা

যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হলোজনকল্যাণ সাধন করা। এ ধরনের রাষ্ট্র সমাজের সবার মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। রাস্তাঘাট, এতিমখানা, সরাইখানা, খাদ্য ভক প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। বেকার ভাতা, অবসরকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে। মোট কথা, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যেই যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, রূপা নরওয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখানরওয়েতে ধনীদের উচ্চহারে করারোপ করা হয় এবং দরিদ্রদের সাহায্য করছে। সেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষিত হয়। এছাড়া ও সহযোগিতা করা হয়। নরওয়ে অর্থাৎ উদ্দীপকের রূপার দেশের এসব বৈশিষ্ট্য কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যেহেতু কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হলো নাগরিকের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা এবং নরওয়ে অর্থাৎ রূপার দেশ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, সেহেতু বলা যায় উদ্দীপকের রূপার দেশটির প্রধান কাজ হলো অনুরূপ প্রশ্ন নম্বর: নাগরিকের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা।

প্রশ্ন ১৫:

প্রশ্ন ১৫:

ক. এককেন্দ্রিক সরকার কাকে বলে?
খ. গণতন্ত্রকে কেন দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা বলা হয়?
গ. তথ্য-১-এ কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. তথ্য-২ যে ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করে তা অধিক জনপ্রিয়— বিশ্লেষণ পূর্বক মতামত দাও । [সি. বো. ২০২২]

১৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয় তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।

খ) গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসক জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকে বলে গণতন্ত্রকে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা বলা হয়।

যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ জনগণের মতামতের প্রেক্ষিতে এবং তাদের কল্যাণে এটি পরিচালিত হয়। নির্বাচিত শাসকগণ প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের নিকট দায়ী থেকে জনস্বার্থমূলক কাজ করার চেষ্টা করে। ফলে রাষ্ট্রে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্যই গণতন্ত্রকে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা বলা হয়।

গ) তথ্য-১-এ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না। এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের সরকার ব্যবস্থায় নাগরিকরা সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন নয়। পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিপরীত।

উদ্দীপকের তথ্য-১-এ এমন রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত নয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় উৎপাদন হয়এবং সম্পত্তি ভোগে স্বাধীনতা নেই। ছকের এসব বৈশিষ্ট্যের সাথে উল্লিখিতসমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মিল রয়েছে। অতএব বলা যায়, তথ্য-১ হলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উদাহরণ।

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকার ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী ।

ঘ) তথ্য-২ পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করছে।

উদ্দীপকের তথ্য-২ এ এমন রাষ্ট্র ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সম্পত্তিতে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত। এছাড়া অবাধ প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং সম্পত্তি ভোগে স্বাধীনতা রয়েছে। যা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং তথ্য-২ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করছে। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে ব্যক্তিকে অধিক প্রাধান্য দেওয়ায় পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বিশ্বে অধিক জনপ্রিয়। যেমন— এ রাষ্ট্রে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা থাকায় জনগণ নিজের ইচ্ছা মতো সম্পদ ভোগ করতে পারে। সরকার ও জনগণের যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের ব্যবস্থা থাকায় জনগণ অবাধে পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে। যা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

উল্লিখিত সুবিধাবলির কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত। তাই বলা যায়, তথ্য-২ এর রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা পুঁজিবাদ অধিক জনপ্রিয়।

প্রশ্ন ১৭: জনাব আমিন ‘সোনার বাংলা’ সংগঠনের প্রধান। তিনি সংগঠনের অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের উপর ভিত্তি করে সংগঠনটি সফলতার সাথে পরিচালনা করেন।

অপরদিকে জনাব আমিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জনাব আজিম ‘সোনার তরী’ নামক সংগঠনের প্রধান। সংগঠন পরিচালনার জন্য অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মতামতের প্রাধান্য দেন না। তিনি উক্ত সংগঠনটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

ক. গণতন্ত্র কাকে বলে?
খ. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কাম্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. আমিন সাহেবের সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে সরকার ব্যবস্থার মিল পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সোনার তরী’ সংগঠনের প্রধানের সঙ্গে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে সরকার ব্যবস্থার মিল আছে তা স্বেচ্ছাচারী কেন? বিশ্লেষণ করো। [য. বো. ২০২২]

১৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) গণতন্ত্র বলতে জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।

খ) কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণ এবং নাগরিক জীবনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয় বলে এ রাষ্ট্র কাম্য।

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে, খাদ্যে ভতুর্কি প্রদান করে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র যেকোনো বিপর্যয়ে জনগণের পাশে থাকে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যাতে দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পদে পরিণত হতে পারে।

গ) সৃজনশীল ৯ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’ এর উত্তরের অনুরূপ।

ঘ) ‘সোনার তরী’ সংগঠনের প্রধানের সাথে পাঠ্যবইয়ের একনায়কতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার মিল রয়েছে। এ ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে এটি চরম স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থা।

একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে ক্ষমতা জনগণের হাতে না থেকে একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। একনায়কের ইচ্ছানুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। এখানে গণমাধ্যমগুলোর কোনো স্বাধীনতা থাকে না। একনায়কের সিদ্ধান্তের । নয়। এটি বিশ্বশান্তির পরিপন্থি। একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কেননা এখানে একনায়কের কথাই আইন। এতে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুযোগ নেই। বর্তমান বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র বা জনগোষ্ঠী সাধারণত এ ধরনের শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে না।

বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারে না। এ ব্যবস্থায় শাসকের কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না বলে সে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করতে পারে। উদ্দীপকের জনাব আমিন ‘সোনার তরী’ সংগঠন পরিচালনার জন্য অধীনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীর মতামতের প্রাধান্য দেন না। তিনিই সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী। এ বৈশিষ্ট্য উপরে বর্ণিত একনায়কতন্ত্রের শাসকের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একনায়কতন্ত্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করেফলে ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যবস্থায় শুধু একজন নেতার সর্বময় কর্তৃত্ব চলে বলে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ থাকে না। জনগণ রাজনীতি সচেতন হয় না। এখানে ব্যক্তি রাষ্ট্রের জন্য, ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্র

উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, একনায়কতন্ত্র বস্তুত একটি স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘সোনার তরী’ সংগঠন পরিচালনা ব্যবস্থা অর্থাৎ একনায়কতন্ত্র একটি চরম স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থা।

Leave a Comment