পৌরনীতি ও নাগরিকতা : ১ম অধ্যায়, পর্ব-০১

প্রশ্ন ১।। জাহেদ একজন শিক্ষক। তিনি তার ছাত্রদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উক্ত বিষয়টি জনগণকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

ক. অধিকার কী?
খ. কর্তব্য বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেদ তার ছাত্রদের কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে গুরুত্ব আরোপ করেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করে”- বিশ্লেষণ করো। [ঢা. বো. ২০২২]

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তরঃ

ক) উত্তরঃ অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

) উত্তরঃ অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে।

কর্তব্য বলতে করণীয় কাজ বোঝায়। কর্তব্য হলো নাগরিকের দায়িত্ব। আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তা-ই কর্তব্য। যেমন— রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা, আইন মান্য করা, কর প্রদান করা প্রভৃতি প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেদ তার ছাত্রদের পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে গুরুত্ব আরোপ করেন।

পৌরনীতি ও নাগরিকতা হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। পৌরনীতি ও নাগরিকতার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা। এছাড়া পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি জনগণকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, শিক্ষক জাহেদ তার ছাত্রদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষালাভ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। যেটি নাগরিকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও সহায়তা করে। শিক্ষক জাহেদের নির্দেশিত এ বিষয়টি পৌরনীতি ও নাগরিকতাকে বিষয়কেই নির্দেশ করে। কেননা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি ব্যক্তিকে সুনাগরিকে পরিণত হওয়ার জন্য সুনাগরিকের গুণাবলি এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানদান করে। একই সঙ্গে কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগে সচেষ্ট হতে তাগিদ দেয়। এ সচেতনতার ফলে নাগরিকতা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেদ তার ছাত্রদের পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে জ্ঞানার্জনের প্রতিই গুরুত্বারোপ করেছেন।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় অর্থাৎ পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করে- উক্তিটি যথার্থ।

উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষক জাহেদ পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কেননা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকের গুণাবলি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করে।

ভূমিকা চলমান বিশ্বে নাগরিকের স্থানীয় ও জাতীয় সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করেছে। তাই স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নাগরিকের ভূমিকা কী হতে পারে তা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের মধ্যে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আমরা যেখানে বাস করি, সেখানে আমাদেরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেমন— ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদি। ঠিক তেমনি নাগরিককে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এসব স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি, অবদান এবং নাগরিকের সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করে, নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।

মাধ্যমিক সৃজনশীল পৌরনীতি ও নাগরিকতা ২০২৩

প্রশ্ন ২।। বায়েজিদ সাহেব পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রামে বাস করেন। বায়েজিদ সাহেবের পুত্র জিসান একটি সরকারি চাকরি করেন। তিনি সন্তানদের একটি ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। তিনি সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো ছাড়াও তাদের সততা ও উদারতার প্রতি খুবই গুরুত্ব দেন।

ক. নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?
খ. রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদানটির ব্যাখ্যা দাও।
গ. পরিবারের শ্রেণিবিভাগের দিক থেকে বায়েজিদ সাহেব কোন ধরনের পরিবারের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত জিসানের পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে- বিশ্লেষণ করো। [ঢা. বো. ২০২২]

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নির্ভর করে বলে সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র দেশের ভেতরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আর বাহ্যিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র সকল প্রকার বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে। সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের স্থিতি নির্ভর করে।

গ) উত্তরঃ পরিবারের শ্রেণিবিভাগের দিক থেকে বায়েজিদ সাহেব যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।

যে পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি ও অন্যান্য পরিজন একত্রে বাস করে তাকে যৌথ পরিবার বলে। মূলত যৌথ পরিবার হচ্ছে একাধিক একক পরিবারের সমষ্টি। বয়োজ্যেষ্ঠ পুরুষ সদস্যই সাধারণত এ ধরনের পরিবারে নেতৃত্ব দেন। যৌথ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জোরালো মানসিক বন্ধন থাকে। সবাই একসাথে থাকে বলে যৌথ পরিবারের সদস্যরা আনন্দময় জীবনযাপন করে।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বায়েজিদ সাহেব তার বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন। এখানে যৌথ পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা যৌথ পরিবারেই পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানসহ অন্যান্য ঘনিষ্ঠ পরিজন একত্রে বসবাস করে। তাই বলা যায়, বায়েজিদ সাহেব যৌথ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে বর্ণিত জিসানের পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেনউক্তিটি যথার্থ।

পরিবারের সদস্যদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে তোলার জন্য পরিবার নানাবিধ কাজ করে। এগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শিক্ষামূলক কাজ।

বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই পরিবার আমাদের বর্ণমালার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আবার শিষ্টাচার, বড়দের সম্মান ও ছোটদের ভালোবাসা, উদারতা, সততা, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি মানবিক গুণাবলি আমরা পরিবারের কাছ থেকেই অর্জন করি। এমনকি স্কুলে যে শিক্ষা দেওয়া হয় তাও পরিবারের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। এগুলো সবই পরিবারের শিক্ষামূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে বর্ণিত জিসানের পরিবারের কাজের মধ্যে এ শিক্ষামূলক কাজেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জিসান তার সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তিনি তার সন্তানদের সততা ও উদারতা শিক্ষার প্রতিও অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন। এগুলো সবাই পরিবারের শিক্ষামূলক কাজের আওতাধীন।

পরিশেষে বলা যায়, সন্তানের জীবনে পরিবারের শিক্ষামূলক কাজের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্দীপকে অনুরূপ উল্লেখিত জিসানের পরিবার সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই সমাধান করছে।

প্রশ্ন ৩।। প্রাচীনকালে ‘ক’ ও ‘খ’ এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হতো না। ‘ক’ স্থায়ী অপরিবর্তনীয় প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে ‘খ’ এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যার মাধ্যমে ‘ক’ এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ‘খ’ তিনটি বিভাগের মাধ্যমে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে থাকে।

ক. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড কাকে বলে?
খ. রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিধাতার সৃষ্টিমূলক মতবাদ কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ‘ক’-এর উপাদানগুলো ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ‘ক’ প্রতিষ্ঠান ‘খ’ এর দ্বারা পরিচালিত হয়বিশ্লেষণ করো। [ম. বো. ২০২২]

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ একটি রাষ্ট্রের স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমাকে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলে ।

) উত্তরঃ বিধাতার সৃষ্টিমূলক মতবাদ হলো রাষ্ট্র সৃষ্টির সবচেয়ে প্রাচীন মতবাদ। রাষ্ট্র সৃষ্টির অন্যতম মতবাদ হলো ঐশী মতবাদ। এতে বলা হয়, স্বয়ং বিধাতা বা স্রষ্টা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই এটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শাসক পাঠিয়েছেন। শাসক তাঁর প্রতিনিধি এবং তিনি তার কাজের জন্য একমাত্র স্রষ্টার কাছে দায়ী, জনগণের কাছে নয়।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ‘ক’ হলো রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের উপাদানগুলো হলো— জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।

রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য উপাদান হলো জনসমষ্টি। জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। একটি রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কমও হতে পারে আবার বেশিও হতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্র গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আবশ্যক। ভূখণ্ড বলতে একটি রাষ্ট্রের স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমাকে বোঝায়। রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ছোট বা বড় হতে পারে। রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকার। রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। তবে রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুটি দিক রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের সাহায্যে রাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আদেশনির্দেশ জারির মাধ্যমে ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর কর্তৃত্ব করে। আর বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।

উদ্দীপকে ‘ক’ কে স্থায়ী ও অপরিবর্তিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু রাষ্ট্র একটি স্থায়ী ও অপরিবর্তিত প্রতিষ্ঠান সেহেতু বলা যায়, উদ্দীপকে ‘ক’ বলতে রাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে ‘ক’ প্রতিষ্ঠান হলো রাষ্ট্র, আর ‘খ’ হলো সরকার। অর্থাৎ রাষ্ট্র সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়।

সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হয় না। সরকারের মাধ্যমেই রাষ্ট্রও পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে সরকার তিন ধরনের কাজ সম্পাদন করে। যথা- আইন প্রণয়ন, শাসন পরিচালনা ও বিচার-সংক্রান্ত। এ তিন ধরনের কাজ সম্পাদনের জন্য সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। আইন বিভাগ দেশের প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করে, সেই আইন প্রয়োগ করে শাসন বিভাগ সুষ্ঠুভাবে শাসন কার্য পরিচালনা করে এবং বিচার বিভাগ অপরাধীকে শাস্তি দেয় এবং নিরপরাধীকে মুক্তি দিয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। এভাবে সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়।

উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী ‘ক’ ও ‘খ’-এর মধ্যে প্রাচীনকালে কোনো পার্থক্য ছিল না। স্থায়ী ও অপরিবর্তিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ক’-এর যাবতীয় কার্যাবলি ‘খ’ তার তিনটি বিভাগের মাধ্যমে সম্পাদন করে। উদ্দীপকের এসব তথ্য সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিষয়টিই সুস্পষ্ট করে তোলে।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। আর সরকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।

প্রশ্ন ৪।। মি. দেলোয়ার ও মিসেস জেসমিন দম্পতি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির পাশে মৎস্য চাষ ও মুরগির খামার গড়ে তোলেন। তাদের অর্জিত অর্থ দিয়ে সুন্দরভাবে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে মাহমুদ দেলোয়ারের প্রতিবেশী। তিনি অনেক সম্পদের মালিক। তার পরিবারে কোনো সন্তান-সন্ততি নেই। কিন্তু তার বন্ধু রাজনের সন্তান-সন্ততি রয়েছে। সে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে। এতে তার সন্তান-সন্ততি তার স্ত্রীর পরিচয়ে বংশ পরিচিতি লাভ করে।

ক. মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলতে কী বোঝ?
খ. সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কেন?
গ. উদ্দীপকের মি. দেলোয়ারের কাজটি পরিবারের কোন ধরনের কাজ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মাহমুদ ও রাজন সাহেবের পরিবারের মধ্যে প্রকৃতি ও গঠনগত ভিন্নতা রয়েছে”— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। [রা. বো. ২০২২]

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ যে পরিবারে সন্তানেরা মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হয় এবং মা পরিবারের নেতৃত্ব দেন তাকে ‘মাতৃতান্ত্রিক পরিবার’ বলে।

খ) উত্তরঃ সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নির্ভর করে বলে সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলা হয় ।

সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এর দুটি দিক রয়েছে, যথা— অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব ও বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব। অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের সাহায্যে রাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর কর্তৃত্ব করে। অন্যদিকে, বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।

গ) উত্তরঃ মি. দেলোয়ারের কাজটি পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ।

যেসব কাজের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হয় সেগুলোই পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ। পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বাড়ির সবার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির চাহিদা পূরণ করে। আদিম সমাজেও পরিবারকে কেন্দ্র করেই খাদ্যসংগ্রহ, পশু-পাখি শিকার এবং পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজ, পশুপালন ইত্যাদি অর্থনৈতিক কাজ করা হতো। সভ্যতার অগ্রগতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজের আওতা ও ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা অফিস-আদালত, কলকারখানাসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠানে চাকরি এবং ব্যবসাসহ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমেও আয় করছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. দেলোয়ার ও মিসেস জেসমিন দম্পতি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এলাকায় মৎস্য ও মুরগির খামার গড়ে তোলেন। খামার থেকে অর্জিত আয় দিয়ে তারা সুন্দরভাবে তাদের সংসার পরিচালনা করছেন। যেহেতু পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ, সেহেতু মি. দেলোয়ারের কাজটিও পরিবারের অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত।

এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা ২০২২ সালের বোর্ড প্রশ্নের উত্তরমালা

ঘ) উত্তরঃ “উদ্দীপকের মাহমুদ ও রাজন সাহেবের গঠিত পরিবারের মধ্যে প্রকৃতি ও গঠনগত ভিন্নতা আছে”— উক্তিটি সঠিক।

আমরা সবাই পরিবারে বাস করি। কিন্তু সব পরিবারের প্রকৃতি ও গঠন কাঠামো একরকম নয়। কতগুলো নীতির ভিত্তিতে পরিবারের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যেমন— ১. বংশগণনা ও নেতৃত্ব, ২. পারিবারিক কাঠামো ও ৩. বৈবাহিক সূত্র।

পারিবারিক গঠন ও কাঠামোর ভিত্তিতে পরিবারের অন্যতম ধরন হলো একক পরিবার। এ ধরনের পরিবারে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানরা বসবাস করে। অর্থাৎ মা-বাবা, ভাই-বোন অথবা শুধু স্বামী-স্ত্রী নিয়ে একক পরিবার গঠিত হয়। উদ্দীপকের মাহমুদের কোনো সন্তান-সন্ততি নেই। অর্থাৎ তিনি এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে পরিবার গঠিত হয়েছে। গঠন কাঠামোর দিক থেকে তার পরিবারটি হলো একক পরি । অন্যদিকে, বংশগণনা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিবারের একটি ধরন হলো মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। মাতৃতান্ত্রিক পরিবারে সন্তানরা মায়ের বংশপরিচয়ে পরিচিত হয় এবং মা-ই পরিবারের নেতৃত্ব দেন। উদ্দীপকের রাজনের সন্তানেরা তার স্ত্রীর বংশপরিচয়ে পরিচিতি লাভ করে। অর্থাৎ রাজন সাহেবের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক পরিবার।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পরিবারের প্রকৃতি ও গঠন কাঠামোর ভিত্তিতে মাহমুদ ও রাজন সাহেবের পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রশ্ন ৫।। রহিম মিয়া দরিদ্র কৃষক। পরিবারের সচ্ছলতার জন্য তার স্ত্রী হাঁস-মুরগি পালন করে, বাঁশ ও বেতের ঝুড়ি তৈরি করেন। রহিম মিয়া সেগুলো বাজারে বিক্রি করেন। অপরদিকে সাদিয়া ও শর্মিলা দুই বান্ধবী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে সাদিয়া একটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। সে যতটুকু সম্ভব পরিবারের সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করে। সময় পেলে গল্পগুজব করা, বেড়াতে যাওয়া সবদিকে তার খেয়াল। অন্যদিকে শর্মিলা একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। সে নিজের জীবনকে যান্ত্রিক মনে করে। কর্মব্যস্ততার কারণে সে পরিবারকে সময় দিতে পারে না।

ক. পৌরনীতি কাকে বলে?
খ. “পরিবারকে শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়” – ব্যাখ্যা করো।
গ. রহিম মিয়া ও তার স্ত্রী পরিবারের কোন ধরনের কাজ করে থাকেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাদিয়া ও শর্মিলার পরিবারের মধ্যে কোনটিকে তুমি আদর্শ, বলে মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। [দি. বো. ২০২২]

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ নাগরিক, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে যে বিষয়টি আদর্শ নাগরিক জীবন সম্বন্ধে জ্ঞান দান করে, তাকে পৌরনীতি বলে।

খ) উত্তরঃ পরিবারেই শিশুর প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা শুরু হয় বলে পরিবারকে শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয় ।

বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে সাধারণত আমরা পরিবারেই বর্ণমালার সাথে পরিচিত হই। মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় নানা বিষয়ে শেখার হাতেখড়ি হয়। পরিবারেই সততা, শিষ্টাচার, উদারতা, সহানুভূতি, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি মানবিক গুণাবলি শেখার সূচনা হয়। এভাবে পরিবারেই শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় বলে একে শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়।

গ) উত্তরঃ রহিম মিয়া ও তার স্ত্রীর কাজটি পরিবারের অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত যেসব কাজের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা হয়। সেগুলোই পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ। পরিবারের কর্তা বা অন্য সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তাদের ভরণপোষণ অর্থাৎ খাদ্য, বস্তু, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদা পূরণ করে। অতীতেও পরিবারকে কেন্দ্র করেই কৃষিকাজ, পশুপালন, কুটির শিল্পসামগ্রী উৎপাদন ইত্যাদি।

অর্থনৈতিক কাজ সম্পাদিত হতো। বর্তমানে পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা ও আয়ের ক্ষেত্র দুটিই বেড়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ফলে পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রগুলো বদলে গিয়ে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা অফিসআদালত, কলকারখানায় চাকরির পাশাপাশি নানাবিধ আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ ও ব্যবসা করে উপার্জন করছে।

উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, রহিম মিয়া কৃষি কাজ করে, আর তার স্ত্রী পরিবারের সচ্ছলতার জন্য হাঁস-মুরগী পালন এবং বাঁশ ও বেতের ঝুড়ি তৈরি করে। এগুলো রহিম মিয়া বাজারে বিক্রি করে অর্থ আয় করে। অতএব বলা যায়, রহিম মিয়া ও তার স্ত্রীর কাজগুলো পরিবারের অর্থনৈতিক কাজকে নির্দেশ করে।

ঘ) উত্তরঃ সাদিয়া ও শর্মিলার পরিবারের মধ্যে সাদিয়ার পরিবারকে আমি আদর্শ পরিবার বলে মনে করি।

পরিবার হলো স্নেহ, মায়া ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ একটি ক্ষুদ্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সদস্যদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে তোলার জন্য পরিবার বহুবিধ কাজ করে। একটি আদর্শ পরিবার তার সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদা পূরণ করে থাকে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে এসব চাহিদা মিটিয়ে থাকে। পরিবার মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে এর সদস্যদের মানসিক চাহিদা পূরণ করে। পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের সাথে গল্প-গুজব ও হাসি-ঠাট্টা করা, বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে বিনোদন লাভ করে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সাদিয়া ও শর্মিলা দুই বান্ধবী। সাদিয়া একটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করে। সে চাকরি করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করে। সময় পেলে সবার সঙ্গে গল্প-গুজৰ করা, বেড়াতে যাওয়া সবদিকে তার লক্ষ থাকে। অর্থাৎ সাদিয়া পরিবারের অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পাদন করে। কিন্তু বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত বান্ধবী শর্মিলা এসব করতে পারে না। সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকার কারণে সে পরিবারকে সময় দিতে পারে না। শর্মিলা তার জীবনকে যান্ত্রিক মনে করে। অর্থাৎ সে যন্ত্রের মতো একটানা কাজ করে নিজেকে ও পরিবারকে বঞ্চিত করছে।

সাদিয়া ও শর্মিলার পরিবারের মধ্যে সাদিয়ার পরিবারটি আদর্শ পরিবার। কেননা সাদিয়ার পরিবারে অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজগুলো ভারসাম্যপূর্ণভাবে সম্পাদিত হয়। শিক্ষক সাদিয়া পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দময় সময় কাটায়। অপরদিকে শর্মিলা কর্মব্যস্ততার জন্য তা পারে না। সে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজটি করলেও মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজগুলো একেবারেই করে না। কিন্তু এগুলোও পরিবারের সদস্যদের মানসিক সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

প্রশ্ন ৬।। ‘ক’ ও ‘খ’ রাষ্ট্রের অবস্থান পাশাপাশি। ‘ক’ রাষ্ট্র তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্র ‘গ’ কে যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করে নেয়। “খ” রাষ্ট্র তার পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা দানের মাধ্যমে কালক্রমে সকলে মিলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

ক. রাষ্ট্র কাকে বলে?
খ. রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘ক’ রাষ্ট্র কর্তৃক ‘গ’ রাষ্ট্রকে দখল করে নেয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির যে মতবাদকে সমর্থন করে, তার ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. ‘খ’ রাষ্ট্রের শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পিছনে যে মতবাদের ধারণা রয়েছে সেটিই অধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদ— বিশ্লেষণ করো। [দি. বো. ২০২২]

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংঘটিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।

খ) উত্তরঃ রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা হলো সার্বভৌমত্ব।

রাষ্ট্র গঠনের চারটি মৌলিক উপাদানের (জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার, সার্বভৌমত্ব) মধ্যে সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সার্বভৌমত্ব শব্দটি ল্যাটিন ‘Superanus’ শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Sovereignty’। এর অর্থ চরম ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র দেশের ভেতরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আর বাহ্যিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র সকল প্রকার বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে। সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের স্থিতি নির্ভরশীল।

গ) উত্তরঃ সৃজনশীল ১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’ এর উত্তরের অনুরূপ।

ঘ) উত্তরঃ সৃজনশীল ১ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’ এর উত্তরের অনুরূপ।

প্রশ্ন ৭।। দৃশ্যকল্প-১: জনাব আমজাদ স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যাকে নিয়ে ঢাকার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। সম্প্রতি তিনি তার পুত্রকে বিয়ে করান। পুত্রবধু তাদের সাথেই থাকেন।

দৃশ্যকল্প-২: আবির একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ঘরে বিভিন্ন রকমের পিঠা, কেক তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করেন। ফলে দুজনের আয়ে পরিবারটি ভালোই চলছে।

ক. নাগরিকতা কাকে বলে?
খ. মানুষ সমাজে বাস করে কেন?
গ. পারিবারিক কাঠামোর ভিত্তিতে জনাব আমজাদের পরিবারটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আবিরের স্ত্রীর কর্মকাণ্ডটি পরিবারের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো। [কু. বো. ২০২২]

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকেই নাগরিকতা বলে ।

খ) উত্তরঃ সমাজকে সভ্য জীবনযাপনের আদর্শ স্থান মনে করে বলে মানুষ সমাজে বাস করে।

সমাজ বলতে এমন একটি সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা কোনো অভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্র হয়। সমাজের মধ্যেই মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল যথার্থই বলেছেন, ‘মানুষ স্বভাবগত সামাজিক জীব। যে সমাজে বাস করে না; সে হয় পশু, না হয় দেবতা’। বস্তুত সামাজিক পরিবেশেই মানুষ নিজেকে বিকশিত করে। এসব কারণেই মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমাজে বসবাস করে।

গ) উত্তরঃ পারিবারিক কাঠামোর ভিত্তিতে জনাব আমজাদের পরিবারটি হলো যৌথ পরিবার।

যে পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি ও অন্যান্য পরিজন একত্রে বাস করে তাকে যৌথ পরিবার বলে। যৌথ পরিবার বড় পরিবার। এটি একাধিক একক পরিবারের সমষ্টি। যৌথ পরিবারে সবাই এক সাথে বলে পরিবারের সদস্যরা আনন্দময় জীবনযাপন করে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ দেখা যায়, জনাব আমজাদ, স্ত্রী, একপুত্র ও দুই কন্যাকে নিয়ে ঢাকার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। সম্প্রতি তিনি তার পুত্রকে বিয়ে করালে তার পুত্রবধুও তাদের সাথেই থাকা শুরু করে। আমজাদ সাহেবের পুত্র ও পুত্রবধূ দুই জন মিলেই একটি একক পরিবার। যেহেতু এই নবদম্পতি তাদের বাবা-মা ও অন্যান্য ভাই-বোনের সাথে একত্রে থাকে সেহেতু বলা যায়, আমজাদ সাহেবের পরিবারটি একাধিক পরিবারের সমষ্টি বা যৌথ পরিবার।

ঘ) উত্তরঃ আবিরের স্ত্রীর কর্মকাণ্ড পরিবারের অর্থনৈতিক কাজকে নির্দেশ করে, যা পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদা পূরণের দায়িত্ব পরিবারের। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে এসব চাহিদা মিটিয়ে থাকে। উদ্দীপকের জনাব আবিরের স্ত্রী ঘরে বিভিন্ন রকমের পিঠা, কেক তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করে অর্থ আয় করেন, যা পরিবারের অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত।

আবিরের স্ত্রীর আয়মূলক কাজ তার পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, বস্তু, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন প্রভৃতি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবারের সদস্যদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য অর্থ আবশ্যক। পরিবারের আয় যদি চাহিদা মোতাবেক না হয় তাহলে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবারের পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি যদি নারীরাও আয়মূলক কাজে যুক্ত হয় তবে পরিবার হবে সচ্ছল এবং পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করাও সম্ভব হবে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের আবিরের স্ত্রীর অর্থ উপার্জনমূলক কাজ পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment