পৌরনীতি ও নাগরিকতা: অধ্যায়-২ নাগরিক ও নাগরিকতা: প্রশ্ন ও উত্তর

১. তাহমিদ সাহেব রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলেন, সময়মত কর প্রদান করেন এবং প্রতিটি নির্বাচনে তিনি সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করেন। অন্যদিকে রাকিন সাহেব একজন উচ্চ শিক্ষিত হয়েও ব্যক্তিগত স্বার্থের উপরে উঠে কোনো কাজ করতে পারেন না এবং তিনি কখনও অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেন না।

ক. নাগরিকতা কী?
খ. জন্মস্থান নীতি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. তাহমিদ সাহেবের আচরণে নাগরিকের কোন গুণের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত কোন গুণের অভাবে রাকিন সাহেবের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে— বিশ্লেষণ করো।  [ঢা. বো. ২০২২]

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ উরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তকে নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের অন্যতম একটি নীতি হচ্ছে জন্মস্থান নীতি।

জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন— কোনো বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ নীতি অনুযায়ী কোনো মা-বাবার সন্তান সংশ্লিষ্ট দেশের জাহাজ বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করলেও সে ঐ দেশের নাগরিক হবে।

গ) উত্তরঃ তাহমিদ সাহেবের আচরণে নাগরিকের অন্যতম গুণ বিবেকের প্রতিফলন ঘটেছে।

সুনাগরিকের অন্যতম একটি গুণ হলো বিবেক। বিবেকবান নাগরিক ন্যায়অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে। তারা একদিকে যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকে। বিবেকবান নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে, আইন মান্য করে, যথাসময়ে কর প্রদান করে, নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়।

উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, তাহমিদ সাহেব রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলেন এবনং তিনি সময়মত কর প্রদান করেন। এছাড়া তাহমিদ সাহেব প্রতিটি নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করে থাকেন। তাহমিদ সাহেবের এসব কর্মকাণ্ড সুনাগরিকের অন্যতম গুণ বিবেকের অনুরূপ। তাই বলা যায়, তাহমিদ সাহেবের আচরণে নাগরিকের বিবেক গুণটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ আত্মসংযম গুণের অভাবে উদ্দীপকে বর্ণিত রাকিন সাহেবের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে।

একজন সুনাগরিকের প্রধান তিনটি গুণের অন্যতম হলো আত্মসংযম। আত্মসংযম অর্থ সব ধরনের লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা। একজন আত্মসংযমী নাগরিক সব সময় নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখেন। দেশ ও সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করেন। এ গুণের অধিকারী ব্যক্তি স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের পাশাপাশি অন্যের মতামতকেও গুরুত্ব প্রদান করেন। আর আত্মসংযম গুণের অভাবে নাগরিকের নৈতিক অবক্ষয় ঘটে, যা উদ্দীপকে বর্ণিত রাকিন সাহেবের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে বর্ণিত রাকিন সাহেব উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করতে পারেনি। এছাড়া তিনি কখনও অন্যের মতামতকেও প্রাধান্য দেন না। রাকিন সাহেবের এরূপ আচরণ নৈতিকতার অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে। কেননা আত্মসংযমী ব্যক্তি সবসময়ই নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করেন। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করেন এবং অন্যের মতামতকে গুরুত্ব প্রদান করেন ।

আলোচনা শেষে বলা যায়, আত্মসংযম নাগরিককে সুশৃঙ্খল করে তোলে আর এর অভাবে ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয় ঘটে।

২. জনাব ‘X’ পৌরনীতি ক্লাসে বলেন, অধিকার সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, যা ব্যক্তির খেয়াল-খুশি মতো কিছু করার ক্ষমতাকে বুঝায় না। এটি পালন ছাড়া মানুষ তার ব্যক্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, জনাব ‘Y’ একজন নাগরিক হয়ে রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও রাষ্ট্রের প্রতি করণীয় সম্পর্কে অসচেতন। সে নির্বাচনে ভোটদান ও নিয়মিত কর প্রদান করে না।

ক. নাগরিকতা কাকে বলে?
খ. সকল সুনাগরিকই নাগরিক কিন্তু সকল নাগরিক সুনাগরিক নয়- ব্যাখ্যা করো।
গ. জনাব ‘X’ আলোচনায় যে বিষয়বস্তুটি তুলে ধরেছেন তা সঙ্গতিপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘Y’ নাগরিক হিসেবে যে বিষয়টি বর্জন করেছে তা বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও। [ম. বো. ২০২২]

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। নাগরিককে সুনাগরিক হতে হলে তাকে কতগুলো গুণাবলি অর্জন করতে হয় ।

যারা কোনো রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে, রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিক বলে। নাগরিককে সুনাগরিক হতে হলে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম এই তিনটি গুণের অধিকারী হতে হয়। তাই বলা যায়, সকল সুনাগরিকই নাগরিক কিছু সকল নাগরিক সুনাগরিক নয়।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে জনাব ‘x’ তার আলোচনায় অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরেছেন, যা সঙ্গতিপূর্ণ।

অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আর অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিক যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে। অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অধিকার ভোগ করতে হলে কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন— ভোটদান নাগরিকের অধিকার, আর ভোটাধিকার প্রয়োগ নাগরিকের কর্তব্য। একটি ভোগ করলে অন্যটি পালন করতে হয়। অর্থাৎ অধিকার ভোগ করতে হলে কর্তব্য পালন করতে হয়। কর্তব্য পালন ছাড়া অধিকার ভোগ করা যায় না। উদ্দীপকে জনাব ‘X’ এর আলোচনায় এ বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব ‘X’ পৌরনীতি ক্লাসে ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে অধিকারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। এছাড়া তিনি জনাব ‘Y’ এর অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্য পালন না করার বিষয়টিও আলোচনা করেছেন। অর্থাৎ জনাব ‘X’, জনাব, ‘Y’ এর অধিকার ভোগের পাশাপাশি তার কর্তব্য পালনের বিষয়টির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন। কেননা তিনি তার ক্লাসে বলেছেন, অধিকার বলতে ব্যক্তির খেয়াল-খুশি মতো কিছু করার ক্ষমতাকে বোঝায় না। কারণ কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা অযৌক্তিক ও নীতিবিরুদ্ধ। অর্থাৎ জনাব ‘X’ তার আলোচনায় অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সঙ্গতিপূর্ণ।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে ‘Y’ নাগরিক হিসেবে কর্তব্য বর্জন করেছে, যা অযৌক্তিক ও অসঙ্গতিপূর্ণ।

কর্তব্য বলতে করণীয় কাজ বোঝায়। কর্তব্য হলো নাগরিকের দায়িত্ব। আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে নাগরিকের কর্তব্য বলে। নাগরিকগণ রাষ্ট্র থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার পেয়ে থাকে। তাই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করা নাগরিকের কর্তব্য।

নাগরিকের কর্তব্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা— নৈতিক কর্তব্য ও .আইনগত কর্তব্য । নৈতিক কর্তব্য মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। আর রাষ্ট্রের আইন দ্বারা আরোপিত কর্তব্যকে আইনগত কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, রাষ্ট্রীয় আইন মান্য করা, সততার সাথে ভোটাধিকার প্রধান করা, নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি নাগরিকের আইনগত কর্তব্য। এসব কর্তব্য রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত। নাগরিকদের আইনগত কর্তব্য অবশ্যই পালন করতে হয়। এ কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি পেতে হয়। আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্র ও নাগরিকের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব ‘Y’ রাষ্ট্রের প্রতি তার কর্তব্য পালন থেকে বিরত রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব ‘y’ রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও সে নির্বাচনে ভোট প্রদান করে না। এছাড়া জনাব ‘Y’ নিয়মিত করও প্রদান করে না।

পরিশেষে বলা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য নাগরিকের অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্য পালনের গুরুত্ব অত্যধিক। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব ‘Y’ অধিকার ভোগ করলেও তার কর্তব্য পালনে উদাসীন, যা নিঃসন্দেহে অসঙ্গতিপূর্ণ।

৩. প্রান্ত ১০ম শ্রেণির ছাত্র এবং সে দায়িত্বশীল। একদিন টয়লেটের ট্যাপ ভেঙে পানি পড়তে দেখে, অনেক কষ্ট করে সেটা বন্ধ করে এবং পরে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়। আর একদিন শ্রেণির কাজ চলার সময় বৈদ্যুতিক সুইচে আগুন লেগে যায়। তখন সে দৌড়ে গিয়ে মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়। অপরদিকে তার সহপাঠী রাজুর স্মৃতিশক্তি ততো ভাল না হলেও শেখার জন্য খুবই চেষ্টা করে। সে কারো সাথে মিথ্যা কথা বলে না। শিক্ষকদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান করে। সে বিদ্যালয়ের সকল নিয়ম মেনে চলে। আবার তাদের ক্লাস মনিটর রাজ শ্রেণির টিফিন সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে। থাকলে নিজে খায়। অনেক সময় নিজেরটা অন্যকে দিয়ে দেয়। অপরের সমস্যা মন দিয়ে শোনে এবং সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। [ম. বো. ২০২২]

ক. দ্বৈত নাগরিকতা কী?
খ. জনগণের অধিকার রক্ষায় ‘তথ্য অধিকার আইন’ গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. প্রান্তর চরিত্রে নাগরিকের যে গুণের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রাজু ও রাজ-এর চরিত্রে কি সুনাগরিকের একই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করাকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হওয়ার কারণে জনগণের অধিকার রক্ষায় ‘তথ্য অধিকার আইন’ গুরুত্বপূর্ণ।

কাজকে আরো নিয়মতান্ত্রিক ও সত্যনিষ্ঠ করে তুলতে পারবে। যুগান্তকারী আইন। এ আইনটি চালু হওয়ার পূর্বে যেসব তথ্য গোপন ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন একটি এখন জনগণ তা জেনে নিজেদের অধিকার যেমন ভোগ করতে পারবে তেমনি সেইসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ওপর নজরদারি স্থাপন করে তাদের

গ) উত্তরঃ প্রান্তর চরিত্রে নাগরিকের বুদ্ধি গুণের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

সুনাগরিকের অন্যতম গুণ হলো বুদ্ধি। বুদ্ধিমান নাগরিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সুনাগরিকের বুদ্ধির উপর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শিক্ষাদানের মাধ্যমে বুদ্ধিমান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। সফলতা নির্ভর করে। তাই প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত নাগরিকদের যথাযথ গ্রহণ করতে পারে। তাই বলা যায়, প্রান্তর চরিত্র সুনাগরিকের বুদ্ধি গুণের পরিচয় ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, দশম শ্রেণির ছাত্র প্রান্ত অত্যন্ত দায়িত্বশীল। একদিন স্কুলের টয়লেটের ট্যাপ ভেঙে পানি পড়া শুরু হলে প্রান্ত অনেক চেষ্টা করে তা বন্ধ করে। এরপর বিষয়টি সে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়। এছাড়া বন্ধ করে দেয়। প্রান্তর এসব কর্মকাণ্ডে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ বুদ্ধির একদিন স্কুলের বৈদ্যুতিক সুইচে আগুন লেগে গেলে সে মেইন সুইচ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কেননা বুদ্ধিমান নাগরিকেরাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত।

ঘ) উত্তরঃ রাজু ও রাজ-এর চরিত্রে সুনাগরিকের একই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান নয়। কেননা রাজুর চরিত্রে সুনাগরিকের ‘বিবেক’ এবং রাজের চরিত্রে সুনাগরিকের ‘আত্মসংযম’ বৈশিষ্ট্যের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

সুনাগরিকের অন্যতম গুণ হলো বিবেক। এ গুণের মাধ্যমে নাগরিক ন্যায়অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে। বিবেকবান নাগরিক রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্যও পালন করে। উদ্দীপকের দশম শ্রেণির ছাত্র রাজু কারো সাথে মিথ্যা কথা বলে না। এছাড়া সে শিক্ষকদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান করে। রাজুর এরূপ কাজ সুনাগরিকের বিবেক গুণেরই প্রতিফলন।

আত্মসংযম সুনাগরিকের আরেকটি গুণ। আত্মসংযম অর্থ নিজেকে সকল প্রকার লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। অর্থাৎ সমাজের বৃহত্তম স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করার নাম আত্মসংযম। উদ্দীপকে বর্ণিত দশম শ্রেণির ছাত্র রাজ শ্রেণির টিফিন সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়। এছাড়া প্রায় সময় সে নিজের টিফিন অন্য কাউকে খেতে দেয়। পাশাপাশি অন্যের সমস্যা সমাধানেরও যথাসাধ্য চেষ্টা করে। অর্থাৎ রাজ তার দায়িত্ব-কর্তব্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে এবং বৃহত্তম স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে। রাজের এরূপ কর্মকাণ্ডে সুনাগরিকের আত্মসংযম গুণের পরিচয় ফুটে উঠেছে। বলা যায়, রাজুর চরিত্রে সুনাগরিকের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে তাই অন্যতম গুণ বিবেক এবং রাজের চরিত্রে সুনাগরিকের আত্মসংযম গুণের পরিচয় ফুটে উঠেছে। তাই তাদের চরিত্রে সুনাগরিকের একই বৈশিষ্ট্য নয়, বরং ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

৪. ইয়ান দেশের শিক্ষা অর্জনের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে শিক্ষা শেষ করে সেদেশের নাগরিক রাইমাকে বিবাহ করেন। তিনি উক্ত রাষ্ট্রের ভাষা শিখে সততার সাথে ব্যবসা আরম্ভ করেন এবং নিয়মিত কর প্রদান করেন। [ম. বো. ২০২২]

ক. সামাজিক অধিকার কাকে বলে?
খ. অধিকার কর্তব্যকে নির্দেশ করে— ব্যাখ্যা করো।
গ. ইয়ান কোন পদ্ধতিতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকতা লাভ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সময়মত তার কর প্রদানে সুনাগরিকের কোন বিশেষ গুণটি ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য যেসব অধিকার একান্তভাবে অপরিহার্য, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার বলে।

খ) উত্তরঃ একজনের অধিকার অন্যজনের কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্য নির্দেশ করে। যেমনআমার পথ চলার অধিকার আছে। এর অর্থ আমি পথ চলবো এবং অন্যজনকেও পথ চলতে দেব। আবার আমি যখন পথ চলবো তখন অন্যজনও আমার পথ চলার সুযোগ করে দিবে। অর্থাৎ একজনের জন্য যা অধিকার অন্যজনের জন্য তা-ই কর্তব্য।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ইয়ান অনুমোদনসূত্রে যুক্তরাজ্যের নাগরিকতা লাভ করেছেন।

কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয়। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের জন্য যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো— ১. সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা; ২. সরকারি চাকরি করা; ৩. সততার পরিচয় দেওয়া; ৪. সে দেশের ভাষা জানা; ৫. সম্পত্তি কেনা; ৬. দীর্ঘদিন বসবাস করা এবং ৭. সেনাবাহিনীতে যোগদান করা। তবে রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে সে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন ওই রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে সে অনুমোদনসূত্রে দেশটির নাগরিক হবে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইয়ান দেশে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যায়। শিক্ষার্জন শেষে যুক্তরাজ্যের নাগরিক রাইমাকে বিয়ে করে এবং উক্ত দেশের ভাষা শিখে সততার সাথে ব্যবসা শুরু করে ও নিয়মিত কর প্রদান করে। অর্থাৎ ইয়ান অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের শর্তগুলোর মধ্যে চারটি শর্ত পূরণ করেছেন। এর ফলে যুক্তরাজ্য সরকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করেছে। তাই বলা যায়, ইয়ান অনুমোদন সূত্রে যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

ঘ) উত্তরঃ ইয়ানের সময়মতো কর প্রদানের মধ্যে সুনাগরিকের বিবেক গুণটি ফুটে উঠেছে।

সুনাগরিকের অন্যতম গুণ হলো বিবেক। এ গুণের মাধ্যমে নাগরিক ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে। বিবেকবান নাগরিক একদিকে যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকে। যেমন— বিবেকসম্পন্ন নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে, আইন মান্য করে, যথাসময়ে কর প্রদান করে। নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেয়।

উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী, ইয়ান যুক্তরাজ্য গিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে তিনি সততার সাথে ব্যবসা করেন এবং নিয়মিত কর প্রদান করেন। অর্থাৎ ইয়ান রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্যও পালন করেন। কেননা যথাসময়ে কর প্রদান করা নাগরিকের কর্তব্য। আর বিবেকসম্পন্ন সুনাগরিকই সময়মতো কর প্রদান করে থাকেন। যেহেতু সময়মতো কর প্রদান করা সুনাগরিকের বিবেক গুণের পরিচায়ক, সেহেতু বলা যায় ইয়ানের যথাসময়ে কর প্রদানের মধ্যে সুনাগরিকের বিবেক গুণের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বিবেকবান নাগরিক সময়মতো কর প্রদান করেন। ইয়ানও সময়মতো কর প্রদান করে সুনাগরিকদের বিবেক গুণের পরিচয় দিয়েছেন।

৫. মি. জাহাঙ্গীর একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বিগত অর্থ বছরে তার বেতনের উপর ৫,০০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেন। অন্যদিকে, তার বন্ধু আজমগীর এম.এ পাশ করে ‘অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চান্দগাঁও আবাসিকে একটি প্লট ক্রয় করেন। সম্প্রতি উপজেলা ‘পরিষদ নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকায় ভোট প্রদান করেন।

ক. নাগরিকতা কাকে বলে?
খ. নাগরিকের কর্তব্য বলতে কী বোঝায়?
গ. মি. জাহাঙ্গীর কোন ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “জনাব আজমগীরের কর্তব্য সম্পাদনের মধ্যেই অনেক অধিকার সন্নিহিত রয়েছে”।— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। [রা. বো, ২০২২]

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে তাকে নাগরিকের কর্তব্য বলে।

বিভিন্ন অধিকার প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিকদের নিজের প্রতি অনুগত ও দায়িত্বশীল করে তোলে। যা নাগরিক জীবনকে বিকশিত করে। এর বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, সততার সাথে ভোট প্রদান, নিয়মিত কর দেওয়া, আইন মান্য করাসহ রাষ্ট্রপ্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা নাগরিকের কর্তব্য।

গ) উত্তরঃ মি. জাহাঙ্গীর কর প্রদানের মাধ্যমে আইনগত কর্তব্য পালন করেছেন।

রাষ্ট্রের আইন দ্বারা আরোপিত কর্তব্যকে আইনগত কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা ও কর প্রদান করা নাগরিকের আইনগত কর্তব্য। এসব কর্তব্য রাষ্ট্রের আইন দ্বারা নির্দেশিত। নাগরিকদের আইনগত কর্তব্য অবশ্যই পালন করতে হয়। এ কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি পেতে হয়। আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্র ও নাগরিকের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মি. জাহাঙ্গীর একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বিদায়ী অর্থবছরে তার অর্পিত আয়ের উপর ৫,০০০ টাকা আয়কর পরিশোধের জন্য রিটার্ন দাখিল করেন। আইনগত কর্তব্যের একটি ধরন হলো কর প্রদান করা। রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য সরকারের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এজন্য সরকার নাগরিকদের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আরোপ করে। এ কর পরিশোধ করা না হলে সরকারের বাজেটে ঘাটতি হবে। তাই নিয়মিত ও যথাযথভাবে কর প্রদান করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। অর্থাৎ উদ্দীপকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মি. জাহাঙ্গীরের আইনগত কর্তব্য পালনের বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ “জনাব আজমগীরের কর্তব্য সম্পাদনের মধ্যেই অনেক অধিকার সন্নিহিত রয়েছে”— উক্তিটি যথার্থ।

অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করতে হলে নাগরিককে কতগুলো কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমনভোটদান নাগরিকের অধিকার, ভোটাধিকার প্রয়োগ নাগরিকের কর্তব্য। একটি ভোগ করলে অন্যটি পালন করতে হয়। সুতরাং বলা যায়, অধিকার ভোগের মধ্যে কর্তব্য নিহিত থাকে। একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্য নির্দেশ করে। যেমন- আমার পথ চলার অধিকার আছে- এর অর্থ আমি পথ চলব এবং অন্যজনকেও পথ চলতে দেব। আবার, আমি যখন পথ চলব অন্যজনও আমার পথ চলার সুযোগ করে দিবে। কাজেই অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।

আমরা রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করি। তার বিনিময়ে আমাদের কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন– রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মান্য করা, কর প্রদান করা এবং কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই আমরা রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করি। সমাজের সদস্য হিসেবে আমরা শিক্ষা লাভের অধিকার ভোগ করি। সমাজের কল্যাণে আমাদের অর্জিত শিক্ষাকে প্রয়োগ করে সমাজের উন্নয়ন করি। শিক্ষা লাভ আমাদের অধিকার, অর্জিত শিক্ষা প্রয়োগ করা কর্তব্য। অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

উদ্দীপকের মি. আজমগীর সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজ এলাকায় ভোট প্রদান করেন। ভোটদান যেমন তার অধিকার, তেমনি সততার সাথে ভোট প্রদান তার কর্তব্য। আর রাষ্ট্র প্রদত্ত বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগের বিনিময়েই তিনি উক্ত কর্তব্য পালন করেছেন। সুতরাং তার কর্তব্য সম্পাদনের মধ্যেই অনেক অধিকার সন্নিহিত রয়েছে।

৬. তথ্য-১: জনাব মিনহাজ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন কানাডার নাগরিককে বিয়ে করে সে দেশে চলে যান। সেখানে তিনি। ব্যবসা শুরু করেন। তিনি নিয়মিত কর দেন এবং সে দেশের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

তথ্য-২: মুরাদ সাহেব একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। তিনি রাষ্ট্রের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে জন্য কাজ করেন। তার কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের জন্য সাদমান বড় অঙ্কের ঘুষ দিতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ক. তথ্য অধিকার কী?
খ. “বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ”- ব্যাখ্যা করো।
গ. মিনহাজ সাহেব কোন সূত্রে কানাডার নাগরিকতা লাভ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মুরাদ সাহেব একজন সুনাগরিক’— তথ্য-২ এর আলোকে মূল্যায়ন করো। [রা. বো. ২০২২]

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ তথ্য অধিকার হলো কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার।

খ) উত্তরঃ বুদ্ধিমান নাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কেননা তার ওপর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা নির্ভর করে।

বুদ্ধি সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। বুদ্ধিমান নাগরিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে এবং সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সুনাগরিকের বুদ্ধির ওপর নির্ভর করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা। তাই বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

গ) উত্তরঃ মিনহাজ সাহেব অনুমোদন সূত্রে কানাডার নাগরিকতা লাভ করেছেন।

কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয়। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের জন্য যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো— ১. সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা; ২. সরকারি চাকরি করা; ৩. সততার পরিচয় দেওয়া; ৪. সে দেশের ভাষা জানা; ৫. সম্পত্তি কেনা; ৬. দীর্ঘদিন বসবাস করা এবং ৭. সেনাবাহিনীতে যোগদান করা। তবে রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে সে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন ঐ রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে সে অনুমোদন সূত্রে দেশটির নাগরিক হবে।

উদ্দীপকের তথ্য-১-এ দেখা যায়, জনাব মিনহাজ একজন কানাডা নাগরিককে বিয়ে করে সে দেশে চলে যান। তিনি সে দেশের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন এবং নিয়মিত কর দেন। তিনি অনুমোদন সূত্র। উক্ত নাগরিকতা লাভ করেছেন। কেননা উল্লিখিত আলোচনা অনুযা কোনো রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা লাভের অন্যতম শর্ত। তিনি কানাডার নাগরিককে বিয়ে করার মাধ্যমে উক্ত শত্রুপূরণ করে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের প্রেক্ষিতে নাগরিকতা লাভ করেছেন।

ঘ) উত্তরঃ মুরাদ সাহেব একজন সুনাগরিক- উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।

রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। নাগরিকদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান, সে সকল সমস্যা অতি সহজে সমাধান করে। যার বিবেক আছে, সে ন্যায়অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে। আর যে আত্মসংযমী, সে বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে। এসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদেরই বলা হয় সুনাগরিক। সুনাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠসম্পদ। কেননা একজন সুনাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। তিনি দায়িত্বহীনতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদিথেকে নিজেকে বিরত রাখেন এবং ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেন। বুদ্ধি বিবেক এবং আত্মসংযম— এ তিনটি গুণের অধিকারী হলে উক্ত নাগরিকরে সুনাগরিক বলা হয়। উদ্দীপকের তথ্য-২ এর মুরাদ সাহেবের মধ্যেও উচ্চ গুণাবলি বিদ্যমান।

মুরাদ সাহেব একজন সুনাগরিক। কেননা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুনাগরিকের সকল গুণ ধারণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি বুদ্ধিমান বলেই একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার পদে আরোহণ করেছেন। আবার তিনি বিবেকবান বলেই রাষ্ট্রের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকরী সমাধানের জন্য কাজ করেন। বিবেকবোধসম্পন্ন হওয়ায় তিনি আরোপিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেন। এছাড়া সব লোভ-লালসার উর্ধ্বে থেকে বড় অঙ্কের ঘুষকে প্রত্যাখান করেছেন। এর মাধ্যমে তার আত্মসংযমের প্রকাশ ঘটেছে।

পরিশেষে বলা যায়, একজন সুনাগরিক হতে হলে যেসব গুণের অধিকারী হতে হয় তার সবই মুরাদ সাহেবের মধ্যে বিদ্যমান। এজন্য তিনি একজন সুনাগরিক।

৭. আমিন সাহেব তার স্ত্রী নাজমাকে বলেন, আমি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে এসেছি। আর নাজমা তার স্বামীকে বলেন, আমাকে বাবার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে নাজমার বান্ধবী পারভীন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সেখানে তিনিই একমাত্র মহিলা কর্মী। বেতন দেয়ার সময় দেখা গেল তাকে পুরুষ কর্মীদের চেয়ে কম বেতন প্রদান করা হয়েছে।

ক. জন্মনীতি বলতে কী বোঝ?
খ. “আত্মসংযমই সুনাগরিকের অন্যতম গুণ”- ব্যাখ্যা করো।
গ. আমিন সাহেবের কাজটি নাগরিকের কোন অধিকারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “অধিকারের ক্ষেত্রে নাজমা ও পারভীনের কাজের প্রকৃতি ভিন্ন”— বিশ্লেষণ করো।

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ জন্মনীতি বলতে নাগরিকতা অর্জনের একটি পদ্ধতিকে বোঝায়। এক্ষেত্রে শিশু যে দেশেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতার দ্বারা ঐ সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়।

খ) উত্তরঃ আত্মসংযম সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।

আত্মসংযমের অর্থ নিজে সব ধরনের লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্বও কর্তব্য পালন করা। অর্থাৎ সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করার নাম আত্মসংযম। আমাদের মধ্যে যিনি এ গুণের অধিকারী তিনিযেমন স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন, তেমনি অন্যের মতামত প্রকাশেও নিজেকে সংযত রাখেন। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।

গ) উত্তরঃ আমিন সাহেবের কাজটি নাগরিকের আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক অধিকারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত অধিকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এই তিন ভাগে বিভক্ত। নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

উদ্দীপকের আমিন সাহেব তার স্ত্রীকে বলেন, ‘আমি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে এসেছি।’ অর্থাৎ তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আর ভোটাধিকার নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। নাগরিক তার রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত ও দায়িত্বশীল হয়ে নির্বাচনে ভোট প্রদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারেন।

ঘ) উত্তরঃ অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এবং অধিকারের পার্থক্যের ভিত্তিতে নাজমা ও পারভীনের কাজের প্রকৃতি ভিন্ন।

উদ্দীপকের নাজমা সামাজিক অধিকার ভোগ করেছেন। সামাজিক অধিকার বলতে সেসব অধিকারকে বোঝায় যেগুলো সমাজে সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করে এবং যা জীবন সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য। যেমন— জীবন রক্ষার অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মত প্রকাশের অধিকার, সম্পত্তি লাভ ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি। প্রত্যেক নাগরিকের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে সম্পত্তি ভোগের অধিকার রয়েছে। কেউ যাতে জোর করে অন্যের সম্পত্তি দখল করতে না পারে তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার নামই সম্পত্তি লাভ বা ভোগের অধিকার। নাজমাকে যেহেতু তার বাবার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু প্রাপ্য সামাজিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি।

অন্যদিকে পারভীনের প্রাপ্য অর্থনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জীবনধারণ, জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন— যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার ইত্যাদি অর্থনৈতিক অধিকারের উদাহরণ উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের একমাত্র মহিলা কর্মী হিসেবে পারভীনকে পুরুষ কর্মীদের চেয়ে কম বেতন দেওয়া হয়। ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তার অর্থনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, নাজমা আইনগত সামাজিক অধিকার পুরোপুরি পেয়েছেন এবং পারভীন আইনগত অর্থনৈতিক অধিকারের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। অধিকার প্রাপ্তির পার্থক্যের প্রেক্ষিতেই তাদের কাজের প্রকৃতি ভিন্ন।

৮. দৃশ্যকল্প-১: জাহিদ হাসান বাংলাদেশের একজন নাগরিক। চাকরির সুবাদে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তার ছেলে-মেয়ে সেখানে জন্মগ্রহণ করে এবং সে দেশের সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করে।

দৃশ্যকল্প-২: মি.´ জন ব্রিটেনের একজন নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে ব্যবসায়ের জন্য ইপিজেডে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকতার জন্য আবেদন করেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকতা প্রদান করে।

ক. নগর-রাষ্ট্র কী?
খ. নাগরিকগণ আইন মান্য করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত জাহিদ হাসানের ছেলে-মেয়ে কোন সূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. মি. জন ও জাহিদ হাসানের সন্তানদের নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। [দি. বো. ২০২২]

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ প্রাচীন গ্রিসে নগরকেন্দ্রিক যেসব ছোট ছোট রাষ্ট্র ছিল মূলত সেগুলোই নগর-রাষ্ট্র।

খ) উত্তরঃ নাগরিকগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জীবনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আইন মান্য করে।

নাগরিকদের অধিকার উপভোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আইন অপরিহার্য। আইনের উপস্থিতি ছাড়া মানুষের পক্ষে উৎকৃষ্ট জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। তাছাড়া আইন অমান্য করলে প্রত্যেক রাষ্ট্রেই শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব কারণেই নাগরিকরা আইন মান্য করে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লেখিত জাহিদ হাসানের ছেলে-মেয়ে জন্মস্থান নীতি সূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

নাগরিকতা অর্জনের জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতামাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- বাংলাদেশি পিতামাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে, সেই সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ নীতি অনুযায়ী সন্তান অন্য দেশের জাহাজ, বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করলেও জাহাজ, বিমান বা দূতাবাস যে দেশের সে ঐ দেশের নাগরিক হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ অল্প কয়েকটি দেশ এ নীতি অনুসরণ করে ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জাহিদ হাসান বাংলাদেশের নাগরিক। চাকরির সুবাদে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করলে সেখানে তার ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করে, অর্থাৎ তারা সেদেশের নাগরিক। এটি নাগরিকতা নির্ধারণের জন্মস্থান নীতির প্রতিই ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জাহিদ হাসানের ছেলেমেয়ে জন্মস্থান নীতি সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ঘ) উত্তরঃ মি. জন অনুমোদনসূত্রে এবং জাহিদ হাসানের সন্তানেরা জন্মস্থান নীতির ভিত্তিতে নাগরিকতা অর্জন করেছেন।

নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন— জন্মসূত্র ও অনুমোদনসূত্র। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতির মধ্যে জন্মস্থাননীতি একটি। এ নীতি অনুযায়ী বাবা-মা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে সে সেই দেশেরই নাগরিকতা লাভ করবে। আর কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলা হয়। শর্তগুলো হলো- সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, সরকারি চাকরি করা, সততার পরিচয় দেওয়া, সে দেশের ভাষা জানা, সম্পত্তি কেনা, দীর্ঘদিন বসবাস করা ইত্যাদি। কোনো ব্যক্তি এগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে সে নাগরিকতার জন্য আবেদন করার মাধ্যমে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন করতে পারে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের নাগরিক জাহিদ হাসানের সন্তানেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে। তাই তার সন্তানরা জন্মস্থান নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করেছে। অপরদিকে, ব্রিটেনের নাগরিক মি. জন ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকতার জন্য আবেদন করলে সরকার তাকে নাগরিকতা প্রদান করে। অর্থাৎ, মি. জন অনুমোদনসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জন করেন।

পরিশেষে বলা যায়, নাগরিকতা অর্জনের জন্মস্থান নীতি ও অনুমোদনসূত্র দুটি আলাদা পদ্ধতি। ভিন্ন ভিন্ন শর্ত পালনের মধ্য দিয়ে দুইভাবে নাগরিকতা অর্জন করা যায়। উদ্দীপকের জাহিদ হাসানের সন্তান এবং মি. জনের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।

৯. সিয়াম এর বয়স ১০ বছর। সে তার মায়ের সাথে ইটভাটায় কাজ করে। বাবা-মা দরিদ্র হওয়ায় তাকে মায়ের সাথে কাজ করতে হয়। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। সেও অন্যান্য ছেলে-মেয়ের মতো পড়ালেখা করতে চায়।

ক. তথ্য অধিকার কী?
খ. বুদ্ধিমান নাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে সিয়াম কোন ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে উক্ত অধিকার ছাড়াও আরও অনেক অধিকার রয়েছে। অধিকারগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো। [দি. ব. ২০২২]

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ তথ্য অধিকার হলো কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার।

খ) উত্তরঃ বুদ্ধিমান নাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কেননা, তার ওপর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা নির্ভর করে।

বুদ্ধি সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। বুদ্ধিমান নাগরিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে এবং সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সুনাগরিকের বুদ্ধির ওপর নির্ভর করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা। তাই বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের সিয়াম আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আর ব্যক্তির সামাজিক অধিকার আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার জন্য সামাজকি অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনরক্ষার অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মতপ্রকাশের, শিক্ষালাভের, সম্পত্তি লাভের, ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সামাজিক অধিকার ভোগের সুযোগ আবশ্যক।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১০ বছর বয়সী সিয়াম দরিদ্রতার কারণে মায়ের ইটভাটায় কাজ করে। সে অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের মতো পড়ালেখা করতে চায়। কিন্তু বাবা-মা দরিদ্র হওয়ার কারণে সে পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর পড়ালেখা বা শিক্ষা লাভের অধিকার হলো সামাজিক অধিকারের বিষয় যা আইনগত অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। তাই বলা যায়, সিয়াম আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঘ) উত্তরঃ ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে উক্ত অধিকার অর্থাৎ সামাজিক অধিকার ছাড়াও আরো অনেক অধিকার রয়েছে।

অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। ব্যক্তির সুস্থ স্বাভাবিক বিকাশের জন্য সামাজিক অধিকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অধিকারও অপরিহার্য।

রাজনৈতিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলোর মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। যেমন— ভোট প্রদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক অধিকার ব্যক্তি সমাজের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য চাই অর্থনৈতিক অধিকার।

অর্থনৈতিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যা ব্যক্তিকে অভাব-অনটন থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিক সংঘ গঠনের অধিকার প্রভৃি অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তির জীবনকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ। নিরাপদ করার জন্য অর্থনৈতিক অধিকার অপরিহার্য। বস্তুত অর্থনৈতিক অধিকার না থাকলে অন্যান্য অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়ে। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক অধিকার ছাড়াও রাজনৈতিক ও অনুরূপ প্ৰশ্ন নম্বর, ৩০ অর্থনৈতিক অধিকার রয়েছে যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

১০. জনাব আশিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। তার কলাম পড়ে অনেকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে জনাব রাহিম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মীদের মতামত নেন। তিনি প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করেন। সহকর্মীদের গ্রহণযোগ্য পরামর্শ অনুযায়ী শনাক্তকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান করেন।

ক. দ্বৈত নাগরিকতা কী?
খ. নাগরিককে আইন মানতে হয় কেন?
গ. জনাব আশিকের মাধ্যমে নাগরিকের কোন আইনগত অধিকারী ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. জনাব রাহিম কি সুনাগরিক? তোমার মতামত দাও। [কু. বো. ২০২২]

১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য নাগরিককে আইন মানতে

আইনবিহীন সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবন কল্পনা করা যায় না। আইনের অবর্তমানে সমাজ ও জীবন হয়ে উঠে অরাজকতাপূর্ণ। নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন করে। আইন নাগরিকের জীবন, সম্পত্তি ও স্বাধীনতা রক্ষা করে। এসব কারণেই নাগরিককে আইন মানতে হয়।

গ) উত্তরঃ জনাব আশিকের মাধ্যমে নাগরিকের আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত সামাজিক অধিকারটি ফুটে উঠেছে।

রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকার সমূহই হলো আইনগত অধিকার। আবার আইনগত অধিকারের মধ্যে রয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার। জীবনযাপনের জন্য এগুলোর মধ্যে নাগরিকের সভা যে সকল অধিকার অপরিহার্য তাই সামাজিক অধিকার। যেমন— জীবন রক্ষার অধিকার, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ও মত প্রকাশের অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

উদ্দীপকের জনাব আশিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। তার কলাম পড়ে অনেকে ধন্যবাদ জানান। জনাব আশিকের কলাম লেখা স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ও মতপ্রকাশের অধিকারকে বুঝায়। আর স্বাধীনভাবে চিন্তা অধিকার। তাই বলা যায়, জনাব আশিকের মাধ্যমে নাগরিকের ও মতপ্রকাশের অধিকার হলো আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত সামাজিক আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত সামাজিক অধিকার ফুটে উঠেছে।

ঘ) উত্তরঃ হ্যাঁ, জনাব রাহিম একজন সুনাগরিক।

রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। একজন নাগরিককে সুনাগরিক হতে হলে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম- এ তিনটি গুণের অধিকারী হতে হয়। নাগরিকদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান সে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সহজে সমাধান করতে পারে। যার বিবেক আছে গে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে এবং অন্যায়, অসৎ ও মন্দ কাজ হতে বিরত থাকে। আর যার আত্মসংযম আছে, সে নিজেকে সকল প্রকার লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালন করে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র ত্যাগ করে। এমন গুণসম্পন্ন নাগরিকদেরই বলা হয় সুনাগরিক।

পৌরনীতি ও নাগরিকতা: অধ্যায়-২ (নাগরিক ও নাগরিকতা)

উদ্দীপকের জনাব রাহিমের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি রয়েছে। তিনি একজন বুদ্ধিমান নাগরিক। আর এই বুদ্ধির কারণেই তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করতে পারেন এবং সমস্যাগুলোর সঠিক সমাধানের জন্য সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করেন। এছাড়া তার মধ্যে বিবেক ও আত্মসংযমের গুণাবলিও বিদ্যমান। এ কারণে তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং তার মধ্যে অসৎ বা মন্দ কোনো স্বভাব নেই। আর এসব গুণাবলির জন্যই জনাব রাহিম একজন সুনাগরিক।

১১. বাংলাদেশের নাগরিক রিতা ব্রিটেনের এক বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত। অন্যদিকে তার স্বামী আসিফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সম্প্রতি আসিফ আবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। আবার তাদের প্রথম সন্তান আকিব ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করলেও দ্বিতীয় সন্তান আদিব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করে।

ক. অধিকার কাকে বলে?
খ. নৈতিক অধিকার ভঙ্গকারীকে শাস্তি দেয়া যায় না কেন?
গ. উদ্দীপকের আসিফ কোন পদ্ধতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আকিব ও আদিবের নাগরিকত্বের ধরন কি একই হবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। [কু. বো. ২০২২]

১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগসুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

) উত্তরঃ নৈতিক অধিকার ভঙ্গকারীকে শাস্তি দেওয়া যায় না।

নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না এবং এর আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। নৈতিক অধিকার যেহেতু রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত নয় এবং এর আইনগত ভিত্তিও নেই, তাই এই অধিকার ভঙ্গকারীকে শাস্তি দেওয়া যায় না।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের আসিফ অনুমোদন সূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।

কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয়। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের জন্য যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো- ১. সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা; ২. ঐ রাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করা; ৩. সততার পরিচয় দেওয়া; ৪. সে দেশের ভাষা জানা; ৫. সম্পত্তি কেনা; ৬. দীর্ঘদিন বসবাস করা; ৭. সেনাবাহিনীতে যোগদান করা প্রভৃতি। তবে রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে সে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। তার আবেদন উক্ত রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে সে অনুমোদন সূত্রে দেশটির নাগরিক হবে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আসিফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সম্প্রতি তিনি আবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। অর্থাৎ আসিফ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে অনুমোদন সূত্রে ঐ দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের আকিব ও আদিবের নাগরিকত্বের ধরন এক নয়।

জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দুটি নীতি অনুসরণ করা হয়। যথা— ১. জন্মনীতি ও ২. জন্মস্থান নীতি। জন্মনীতি অনুযায়ী পিতামাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ সন্তান যে দেশেই জন্ম গ্রহণ করুক না কেন, পিতা-মাতা যে দেশের নাগরিক সন্তানও সেই দেশের নাগরিক হবে। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য নাগরিকতার ক্ষেত্রে জন্মনীতি অনুসরণ করে। তাই আকিব ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করলে ব্রিটেনের জন্মনীতির কারণে সে ব্রিটেনের নাগরিক হবে না। সে শুধুমাত্র বাংলাদেশি নাগরিক হবে।

আবার জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে, সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ নাগরিকতার ক্ষেত্রে জন্মস্থান নীতি অনুসরণ করে। উদ্দীপকের আদিব যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে তাই সে জন্মস্থান নীতি অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। আবার তার বাবা-মা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার কারণে সে বাংলাদেশেরও নাগরিক হবে। অর্থাৎ আদিবের দ্বৈত নাগরিকত্ব সৃষ্টি হবে। সুতরাং বলা যায়, আকিব ও আদিবের নাগরিকত্বের ধরণ এক নয়।

১২. রাকিব দীর্ঘদিন ধরে ‘ক’ দেশে অবস্থান করে ঐ দেশের নাগরিক মার্থাকে বিয়ে করেন। আবার তিনি ঐ দেশের ভাষা শিখে সে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করেন। অন্যদিকে রাকিবের ভাই সাকিব তার পুত্র তাওসিফকে নিয়ে ‘খ’ দেশে গমন করেন। যেখানে তার কন্যা সন্তান মাইশার জন্ম হয়। মাইশা জন্মের সাথে সাথেই সে দেশের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হয়। কিন্তু স্কুলে ভর্তি, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাওসিফ মাইশার মতো সুবিধা পায়নি। বয়স আঠারো বছর হলে মাইশা ‘খ’ দেশের ভোটার হলেও তাওসিফ হতে পারেনি।

ক. কর্তব্য কাকে বলে?
খ. সুনাগরিক হওয়ার জন্য বুদ্ধির প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. রাকিবের ঘটনাটি নাগরিকতা অর্জনের কোন পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “মাইশা ও তাওসিফের প্রেক্ষাপট নাগরিকতা অর্জনের একাধিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত”– বিশ্লেষণ করো। [সি. বো. ২০২২]

১২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে তাকে কর্তব্য বলে।

খ) উত্তরঃ নাগরিকের বুদ্ধির ওপর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে বলে সুনাগরিক হওয়ার জন্য বুদ্ধি প্রয়োজন।

বুদ্ধি সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। বুদ্ধিমান ব্যক্তি সুবিবেচনার সঙ্গে নাগরিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম। সে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

গ) উত্তরঃ রাকিবের ‘ক’ দেশের নাগরিকতা অর্জন অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয়। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের জন্য যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো- ১. সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা; ২. সরকারি চাকরি করা; ৩. সততার পরিচয় দেওয়া; ৪. সে দেশের ভাষা জানা; ৫. সম্পত্তি কেনা; ৬. দীর্ঘদিন বসবাস করা এবং ৭. সেনাবাহিনীতে যোগদান করা। তবে রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে সে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন ওই রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে সে অনুমোদন সূত্রে দেশটির নাগরিক হবে।

উদ্দীপকের রাকিব দীর্ঘদিন ধরে ‘ক’ দেশে অবস্থান করে ঐ দেশের একজন নাগরিককে বিয়ে করেন। আবার উক্ত দেশের ভাষা শিখে তিনি। সে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করেন। উপরের বর্ণনামতে, অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি শর্ত পূরণ করেছেন। তিনি ‘ক’ রাষ্ট্রের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমোদনসূত্রে উক্ত দেশের নাগরিকে পরিণত হবেন।

ঘ) উত্তরঃ মাইশা জন্মসূত্রে এবং তাওসিফ অনুমোদন সূত্রে ‘খ’ দেশের নাগরিকতা অর্জন করবে। তাই তাদের নাগরিকতা অর্জনের প্রেক্ষাপট একাধিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।

নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা- জন্মসূত্রে ও অনুমোদন সূত্রে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে জন্মগ্রহণকেই নাগরিকতা অর্জনের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। এক্ষেত্রে পিতামাতার নাগরিকতা অনুযায়ী অথবা শিশু যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে অনুসারে নাগরিকতা নির্ধারণ করা হয়। অপরদিকে কতকগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলে। মাইশা ও তাওসিফের নাগরিকতা অর্জনে যথাক্রমে এ দুটি পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে দেখা যায়, মাইশা ‘খ’ দেশে জন্মগ্রহণ করে এবং সে দেশের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ সে জন্মসূত্রে ‘খ’ দেশের নাগরিকতা লাভ করেছে। অন্যদিকে তাওসিফ তার বাবার সাথে ‘খ’ দেশে গমন করেছে। সে উক্ত দেশের নাগরিক নয় বলে মাইশার মত সকল সুযোগ-সুবিধা পায় না। কতকগুলো শর্ত পূরণের পর ‘খ’ রাষ্ট্রের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাওসিফ উক্ত দেশের নাগরিকতা লাভ করতে পারবে।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, মাইশা ও তাওসিফের নাগরিকতা অর্জনের প্রেক্ষাপট একাধিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত। কেননা তারা ভিন্ন দুটি পদ্ধতিতে নাগরিকতা অর্জন করবে।

১৩. উদ্দীপক-১: সেলিম সাহেব সোনাপুর ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

উদ্দীপক-২: সেন্টু সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত চাল ব্যবসায়ী। প্রচলিত দামেই তিনি বাজারে চাল বিক্রি করেন। কিন্তু করোনার কারণে সকলের আর্থিক দুরবস্থার কথা চিন্তা করে কেনা দামেই চাল বিক্রি করেন। পরবর্তীতে অন্যরাও তাকে অনুসরণ করে।

ক. নাগরিকতা কাকে বলে?
খ. দ্বৈত নাগরিকতা কী? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপক-১-এ উল্লেখিত সেলিম সাহেবের ঘটনাটি নাগরিকের কোন অধিকারকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক-২-এ সেন্টু সাহেবকে সুনাগরিকের কোন গুণটি প্রভাবিত করেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো। [সি. বো. ২০২২]

১৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে।

খ) উত্তরঃ একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।

সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ। পায়। তবে জন্মসূত্রসহ নাগরিকতা অর্জনের একাধিক নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকতাও লাভ করতে পারে। যেমন- বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্ম ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। ফলে বাংলাদেশি কোনো পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতাও অর্জন করবে। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে-১ এ উল্লেখিত সেলিম সাহেবের ঘটনাটি নাগরিকের আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক অধিকারকে নির্দেশ করে। আইনগত অধিকারের একটি ধরন হচ্ছে রাজনৈতিক অধিকার। রাষ্ট্রীয় শাসনকার্যে অংশগ্রহণের জন্য মানুষ যে অধিকার ভোগ করে তাই রাজনৈতিক অধিকার। আধুনিক গণতন্ত্রের যুগে বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক পাঞ্জেরী মাধ্যমিক সৃজনশীল পৌরনীতি ও নাগরিকত্ব

নির্বাচনে রাষ্ট্রের নাগরিকরাই রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে। ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিকঅধিকার। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তার উদ্দীপক-১ এ দেখা যায়, সেলিম সাহেব সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদনির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং নির্বাচিত হয়ে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করাউপরে বর্ণিত রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপক-২-এর সেন্টু সাহেবকে সুনাগরিকের আত্মসংযম গুটি প্রভাবিত করেছে।

সুনাগরিক হতে হলে ব্যক্তির মধ্যে কতিপয় গুণ থাকা আবশ্যক। নাগরিকের মধ্যে যিনি বুদ্ধিমান তিনি সকল সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারেন, যিনি পারেন, আবার যিনি আত্মসংযমী বিবেকবোধ সম্পন্ন তিনি ন্যায়-অন্যায় বুঝতে তিনি বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারেন। আর যে ব্যক্তির মধ্যে উক্ত তিনটি গুণই থাকে তিনি সুনাগরিক। সেন্টু সাহেবের মধ্যে সুনাগরিকের আত্মসংযম গুণের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় ।

উদ্দীপকের সেন্টু সাহেব করোনা মহামারির সময় সকলের আর্থিক দুরবস্থার কথা ভেবে ক্রয়মূল্যেই চাল বিক্রি করেন। অর্থাৎ তিনি সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্য ক্রয়কৃত চাল বিনা মুনাফায় বিক্রি করে। আত্মসংযমের পরিচয় দিয়েছেন। আত্মসংযম অর্থ নিজে সব ধরনের লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা, অর্থাৎ সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারার নামই আত্মসংযম।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপক-২-এর সেন্টু সাহেবের আচরণে সুনাগরিকের আত্মসংযম গুণটির প্রভাব ফুটে উঠেছে।

১৪. বাংলাদেশের নাগরিক জনাব আবিদ ডেনমার্কে অনেক বছর ধরে অবস্থান করছেন। তিনি সেদেশের একজন নাগরিককে বিয়ে করেন। কিছু দিন পর জনাব আবিদ ডেনমার্ক সরকারের কাছে তার নাগরিকতার জন্য আবেদন করেন। সেখানে তাদের একটি সন্তানের জন্ম হয়। সে সেদেশের নাগরিকতা লাভ করে।

ক. অধিকার কী?
খ. দ্বৈত নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?
গ. জনাব আবিদ ও তার সন্তানের ডেনমার্ক এর নাগরিকতা লাভের ক্ষেত্রে কোন কোন পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আবিদের সন্তান কি বাংলাদেশে নাগরিকতা লাভ করতে পারবে? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও। [য. বো. ২০২২]

১৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতকগুলো সুযোগসুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

খ) উত্তরঃ একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।

সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়। তবে জন্মসূত্রসহ নাগরিকতা অর্জনের একাধিক নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্ম ও মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সে জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশি কোনো পিতা ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে। আবার জন্মনীতি বাংলাদেশের নাগরিকতাও অর্জন করবে। আবার, সম্পত্তি ক্রয়, দীর্ঘদিন বসবাস করা, সততার পরিচয় দেওয়া ইত্যাদি উপায়ে অনুমোদনসূত্রে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারে। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়।

গ) উত্তরঃ জনাব আবিদ অনুমোদনসূত্রে এবং তার সন্তান জন্মসূত্রে ডেনমার্কের নাগরিকতা লাভ করেছে।

নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন— জন্মসূত্র ও অনুমোদনসূত্র। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতির মধ্যে জন্মস্থাননীতি একটি। এ নীতি অনুযায়ী বাবা-মা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে সে সেই দেশেরই নাগরিকতা লাভ করবে। আর কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলা হয়। শর্তগুলো হলো— সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, সরকারি চাকরি করা, সততার পরিচয় দেওয়া, সে দেশের ভাষা জানা, সম্পত্তি কেনা, দীর্ঘদিন বসবাস করা ইত্যাদি। কোনো ব্যক্তি এগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে সে নাগরিকতার জন্য আবেদন করার মাধ্যমে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন করতে পারে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আবিদ দীর্ঘদিন ডেনমার্কে অবস্থান করে সেদেশের একজন নাগরিককে বিয়ে করেন। অর্থাৎ তিনি অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা লাভের দুটি শর্ত পূরণ করেছেন এবং ডেনমার্ক সরকারের কাছে নাগরিকতার জন্য আবেদন করেছেন। তাই তার নাগরিকতা লাভের ক্ষেত্রে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা লাভ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটেছে। অন্যদিকে, ডেনমার্কে তার একটি সন্তানের জন্ম হয়। অর্থাৎ তার সন্তান জন্মস্থান নীতির ভিত্তিতে সেদেশের নাগরিকতা অর্জন করেছে।

ঘ) উত্তরঃ হ্যাঁ, উদ্দীপকের আবিদের সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করতে পারবে। কেননা নাগিরকতা নির্ধারণে বাংলাদেশ জন্মনীতি অনুসরণ করে।

জন্মনীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে শিশু যে দেশের বা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন পিতা-মাতা যে দেশের নাগরিক সন্তানও সেদেশের নাগরিকতা লাভ করবে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ জন্মনীতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আবিদ বাংলাদেশের নাগরিক। ডেনমার্কের নাগরিককে বিয়ে করার পর সেখানে তার একটি সন্তানের জন্ম হয়। উপরে বর্ণিত জন্মনীতি অনুযায়ী তার সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করতে পারবে। কেননা তার পিতা আবিদের নাগরিকতা দ্বারা তার নাগরিকতা নির্ধারিত হবে। আর আবিদ যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক সেহেতু তার সন্তানও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পাবে। আবার জন্মস্থাননীতি অনুযায়ী তার সন্তান ডেনমার্কেও নাগরিকতা লাভ করেছে। এক্ষেত্রে তার দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হবে। তবে পূর্ণবয়স্ক হলে তাকে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে।

আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আবিদের সন্তান জন্মস্থাননীতি অনুযায়ী ডেনমার্কের নাগরিক হলেও জন্মনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করতে পারবে।

১৫. দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য সুবিধাগুলো রমিজ মিঞা ও মনির দুজনই পায়। তবে মুদি দোকানদার রমিজ মিঞা স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে তার নিত্যপণ্যের দোকান খোলা রাখে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু ব্যবসায়ী মনির অধিক লাভের আশায় মাস্ক ও জীবাণুনাশক পণ্য চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে।

ক. নগর-রাষ্ট্র কী?
খ. নাগরিকতার জন্মনীতি ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
গ. মনির সাহেবের ক্ষেত্রে সুনাগরিকের কোন গুণটির অভাব দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা যায় না— উদ্দীপকের রমিজ ও মনিরের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করো। [ব. বো. ২০২২]

১৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ প্রাচীন গ্রিসের ছোট ছোট অঞ্চল নিয়ে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতো তাকেই বলা হতো নগর রাষ্ট্র।

খ) উত্তরঃ নাগরিকতা অর্জনের যে নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানদের নাগরিকতা নির্ধারিত হয় তাকে নাগরিকতার জন্মনীতি বলা হয়।

জন্মনীতি অনুযায়ী শিশু যে দেশে বা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। যেমনবাংলাদেশের কোনো দম্পতির সন্তান যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেও এ নীতি অনুসারে সে বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করবে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের মনির সাহেবের মধ্যে সুনাগরিকের বিবেক গুণটির অভাব দেখা যায়।

রাষ্ট্রের নাগরিকদের হতে হবে বিবেকবোধসম্পন্ন। এ গুণের মাধ্যমে নাগরিক ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে। বিবেকবান নাগরিক একদিকে যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকে। যেমন- বিবেকসম্পন্ন নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে, আইন মান্য করে, যথাসময়ে কর প্রদান করে, নির্বাচনে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেয়।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মুদি দোকানদার রমিজ মিয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু তার ভাই মনির অধিক লাভের আশায় মাস্ক ও জীবাণুনাশক পণ্য চড়া দামে বিক্রি করে। এখানে মনিরের মধ্যে সুনাগরিকের বিবেক গুণটি অনুপস্থিত রয়েছে। তার মধ্যে বিবেক থাকলে সে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার ভাই রমিজের মতো ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতো। কারণ বিবেকসম্পন্ন নাগরিক দেশের আইন কানুন মেনে এবং অন্যের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে দায়িত্ব পালন করে থাকে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মনিরের মধ্যে সুনাগরিকের বিবেক গুণটির অভাব রয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা যায় না- কথাটি যথার্থ।

অধিকার ভোগের সাথে সাথে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত হয়। নাগরিকরা যদি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, নিয়মিত কর প্রদান, দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভোট প্রদান ইত্যাদি দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করে তাহলে তারা রাষ্ট্র থেকে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। আর এসব সুযোগ সুবিধাই হলো নাগরিকের অধিকার। কেননা অধিকার বিষয়টির সাথে সাথে নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টি চলে আসে। আবার দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়টির সাথে নাগরিকের অধিকার বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত। এ কারণেই অধিকার ভোগের সাথে সাথে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, রমিজ যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করলেও মনির তা করেনি। সে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করেছে। মনির তার কাজের মাধ্যমে নাগরিকের নৈতিক ও আইনগত কর্তব্যের প্রতি অবহেলা করেছে। রমিজ তার দায়িত্ব পালনের ফলে সে তার নাগরিক অধিকার ভোগের পূর্ণ দাবিদার। কিন্তু মনির তার নাগরিক অধিকার ভোগের যোগ্য নয়। কারণ সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা যায় না।

Leave a Comment