SSC Home Science (গার্হস্থ্য বিজ্ঞান) Suggestion 2023 – SSC Short Syllabus 2023

SSC Home Science (গার্হস্থ্য বিজ্ঞান) Suggestion 2023

১। ১। ক. নিকেল ও ডরসির মতে গৃহ ব্যবস্থাপনা কী? খ. কোন লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সিদ্ধান্ত নিতে হয়? ব্যাখ্যা করো। গ. ছকের ‘খ’ অংশটি গৃহ ব্যবস্থাপনার কোন কর্মপদ্ধতিকে নির্দেশ করে? ঘ. পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট কি-না তা বোঝা যায় ছকের ‘গ’ অংশের কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে। বক্তব্যটির যৌক্তিকতা নিরূপণ করো। [ঢা.বো., কু.বো., সি. বো. ২০২২] ১নং প্রশ্নের উত্তর ক) উত্তরঃ নিকেল ও ডরসির মতে, পারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য মানবীয় ও বস্তুবাচক সম্পদসমূহের ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাই হচ্ছে গৃহ ব্যবস্থাপনা। খ) উত্তরঃ মধ্যবর্তীকালীন লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। লক্ষ্য হচ্ছে একটি কাম্য উদ্দেশ্য, যার সুনির্দিষ্ট পরিধি আছে এবং যা ব্যক্তির কার্যাবলিকে নির্দেশ দান করে। পরিবার তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রায়ই মধ্যবর্তীকালীন বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এ লক্ষ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের তুলনায় অধিক স্পষ্ট। তাই এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। গ) উত্তরঃ ছকের ‘খ’ অংশটি গৃহ ব্যবস্থাপনার ‘সংগঠন’ কর্মপদ্ধতিকে নির্দেশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের বিভিন্ন কাজগুলোর মধ্যে সংযোগ সাধন করাই সংগঠন। এ পর্যায়ে কোন কাজ কোথায় ও কীভাবে করা হবে তা স্থির করা হয়। সংগঠন ধাপে পরিবারের বিভিন্ন সম্পদ সম্পর্কে বিশদভাবে খুঁটিনাটি চিন্তা করে কোথায় কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে তা স্থির করা হয়। কোন কাজ কাকে দিয়ে করানো হবে, সে কাজ সম্পর্কে কার অভিজ্ঞতা আছে, কীভাবে কাজটি করতে হবে, কী কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে ইত্যাদি বিষয়সমূহ সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে সংগঠন বলে। সংগঠনের পর্যায় তিনটি । প্রথম পর্যায়ে, ব্যক্তি তার করণীয় কাজের বিভিন্ন অংশের ধারাবাহিক বিন্যাস রচনা করে। দ্বিতীয় পর্যায় ব্যক্তি তার কোন কাজ আগে এবং কোন কাজ পরে হবে তার ধারাবাহিকতা রচনা করে। তৃতীয় পর্যায়ে, ব্যক্তি তার একটি নির্দিষ্ট কাজ বা কাজসমূহ বিভিন্ন ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন করার জন্য একটি কর্ম কাঠামো রচনা করে। ঘ) উত্তরঃ পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট কিনা তা বোঝা যায় ছকের ‘গ’ অংশের কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে—বক্তব্যটি যৌক্তিক। গৃহ ব্যবস্থাপনার ছকের ‘গ’ তথা ৩য় ধাপটি হলো নিয়ন্ত্রণ করা। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় পরিবারের সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের কাজে নিয়োজিত কি না তা পর্যবেক্ষণ করা। পরিকল্পনা অনুসারে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা ও প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত সংশোধনীর ব্যবস্থা করা এ পর্যায়ের কাজ। কাজ চলাকালীন অবস্থায় কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে, যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা, যাকে যে কাজ দেওয়া হয়েছে সেই কাজ সঠিকভাবে সে করছে কিনা ইত্যাদি। প্রয়োজনবোধে কাজের ধারা পরিবর্তন করে কাজ সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজটি করতে গিয়ে সম্পদের সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কী রকম সাফল্যের সঙ্গে হচ্ছে ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহীত পরিকল্পনায় কিছুটা রদবদল করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। সুতরাং, পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট কিনা তা ছকের ‘গ’ অংশের কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে বোঝা যায়।

ক. নিকেল ও ডরসির মতে গৃহ ব্যবস্থাপনা কী?
খ. কোন লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সিদ্ধান্ত নিতে হয়? ব্যাখ্যা করো।
গ. ছকের ‘খ’ অংশটি গৃহ ব্যবস্থাপনার কোন কর্মপদ্ধতিকে নির্দেশ করে?
ঘ. পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট কি-না তা বোঝা যায় ছকের ‘গ’ অংশের কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে। বক্তব্যটির যৌক্তিকতা নিরূপণ করো। [ঢা.বো., কু.বো., সি. বো. ২০২২]

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ নিকেল ও ডরসির মতে, পারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য মানবীয় ও বস্তুবাচক সম্পদসমূহের ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাই হচ্ছে গৃহ ব্যবস্থাপনা।

খ) উত্তরঃ মধ্যবর্তীকালীন লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

লক্ষ্য হচ্ছে একটি কাম্য উদ্দেশ্য, যার সুনির্দিষ্ট পরিধি আছে এবং যা ব্যক্তির কার্যাবলিকে নির্দেশ দান করে। পরিবার তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রায়ই মধ্যবর্তীকালীন বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এ লক্ষ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের তুলনায় অধিক স্পষ্ট। তাই এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

গ) উত্তরঃ ছকের ‘খ’ অংশটি গৃহ ব্যবস্থাপনার ‘সংগঠন’ কর্মপদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের বিভিন্ন কাজগুলোর মধ্যে সংযোগ সাধন করাই সংগঠন। এ পর্যায়ে কোন কাজ কোথায় ও কীভাবে করা হবে তা স্থির করা হয়।

সংগঠন ধাপে পরিবারের বিভিন্ন সম্পদ সম্পর্কে বিশদভাবে খুঁটিনাটি চিন্তা করে কোথায় কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে তা স্থির করা হয়। কোন কাজ কাকে দিয়ে করানো হবে, সে কাজ সম্পর্কে কার অভিজ্ঞতা আছে, কীভাবে কাজটি করতে হবে, কী কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে ইত্যাদি বিষয়সমূহ সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে সংগঠন বলে। সংগঠনের পর্যায় তিনটি ।

প্রথম পর্যায়ে, ব্যক্তি তার করণীয় কাজের বিভিন্ন অংশের ধারাবাহিক বিন্যাস রচনা করে। দ্বিতীয় পর্যায় ব্যক্তি তার কোন কাজ আগে এবং কোন কাজ পরে হবে তার ধারাবাহিকতা রচনা করে। তৃতীয় পর্যায়ে, ব্যক্তি তার একটি নির্দিষ্ট কাজ বা কাজসমূহ বিভিন্ন ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন করার জন্য একটি কর্ম কাঠামো রচনা করে।

ঘ) উত্তরঃ পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট কিনা তা বোঝা যায় ছকের ‘গ’ অংশের কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে—বক্তব্যটি যৌক্তিক।

গৃহ ব্যবস্থাপনার ছকের ‘গ’ তথা ৩য় ধাপটি হলো নিয়ন্ত্রণ করা। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় পরিবারের সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের কাজে নিয়োজিত কি না তা পর্যবেক্ষণ করা। পরিকল্পনা অনুসারে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা ও প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত সংশোধনীর ব্যবস্থা করা এ পর্যায়ের কাজ।

কাজ চলাকালীন অবস্থায় কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে, যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা, যাকে যে কাজ দেওয়া হয়েছে সেই কাজ সঠিকভাবে সে করছে কিনা ইত্যাদি। প্রয়োজনবোধে কাজের ধারা পরিবর্তন করে কাজ সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজটি করতে গিয়ে সম্পদের সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কী রকম সাফল্যের সঙ্গে হচ্ছে ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহীত পরিকল্পনায় কিছুটা রদবদল করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হয়।

সুতরাং, পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট কিনা তা ছকের ‘গ’ অংশের কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে বোঝা যায়।

২। আয়েশার শ্বশুর করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আয়েশা বিচলিত না হয়ে শ্বশুরের দেখাশুনাসহ পরিবারের অন্যান্য কাজ করেন। সুষ্ঠুভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনার ফলে তার কাছে অর্থ সঞ্চিত থাকে। আয়েশা প্রয়োজনে সেই অর্থ ব্যয় করে এবং পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করে।

ক. গৃহের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু কে?
খ. মানুষের অভাব মোচনে পণ্যের ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?
গ. উক্ত কোভিড পরিস্থিতিতে আয়েশার মধ্যে গৃহ ব্যবস্থাপকের কোন গুণটি পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. পরিবারের আর্থিক সংকট উত্তরণে আয়েশা শিখনফল-১ যেভাবে অর্থের যোগান দিয়েছে তা গৃহ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের আলোকে মূল্যায়ন করো। [ঢা.বো., কু. বো, সি. বো. ২০২২]

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ গৃহের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন গৃহ ব্যবস্থাপক। খ মানুষের অভাব মোচনে পণ্যের ক্ষমতা হলে উপযোগ।

খ) উত্তরঃ যেসব দ্রব্যসামগ্রীর উপযোগ আছে সেসব দ্রব্য সামগ্রী মানুষ পেতে চায় । কারণ উপযোগ বিশিষ্ট দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ তার অভাব মেটাতে সক্ষম হয়। তাই পণ্য বা সম্পদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উপযোগ। শিক্ষা, বুদ্ধি, স্থান, সময়, আকার, সত্ব ও সৃজনশীলতার উপর উপযোগ নির্ভর করে।

গ) উত্তরঃ উক্ত কোভিড পরিস্থিতিতে আয়েশার মধ্যে গৃহ ব্যবস্থাপকের অভিযোজ্যতা গুণটি পরিলক্ষিত হয়েছে।

গৃহ ব্যবস্থাপককে অনুশীলনের মাধ্যমে কতগুলো গুণের অধিকারী হতে হয়। কারণ গৃহ ব্যবস্থাপক হচ্ছেন গৃহের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে পারিবারিক সুখ-শান্তি। যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়ানোকে অভিযোজ্যতা বলা হয়। গৃহ ব্যবস্থাপকের এই গুণটি থাকা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ-বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তার সেবাযত্ন করতে হয়। এ ধরনের পরিবর্তিত অবস্থার সাথে অভিযোজন করে যাবতীয় কাজ সমাধা করতে হয়।

গৃহ ব্যবস্থাপককে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা হয়। যিনি যত ভালোভাবে অভিযোজন করতে পারবেন, তিনি যেকোনো পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন।

আয়েশার শ্বশুর করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আয়েশা বিচলিত না হয়ে শ্বশুরের দেখাশোনাসহ পরিবারের অন্যান্য কাজ করেন। আয়েশা পরিবারে উল্লিখিত সমস্যায় সুন্দরভাবে খাপ খাওয়াতে পারে। সুতরাং, তার মধ্যে অভিযোজ্যতা গুণটি রয়েছে।

SSC Short Syllabus 2023 – Home Science Suggeston

ঘ) উত্তরঃ পরে সংযোজন করে দেয়া হবে।

৩। সাবেরা খাতুন একজন চাকরিজীবী মা। তিনি তার একমাত্র ছেলের বিয়ের যাবতীয় কেনাকাটা ও খরচের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন এবং সম্ভাব্য সকল কার্যাবলি সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনাপূর্বক সবার মধ্যে সুষ্ঠুভাবে কাজ বণ্টন করে দিয়েছেন। তিনি নিজে সকল কাজ তদারকি করেছেন। বিয়ের দিন খাবার পরিবেশনের সময় মেহমানদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। কিন্তু সাবেরা খাতুন তৎক্ষণাৎ তাদেরকে শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অনুষ্ঠান শেষে সাবেরা খাতুনের বাবা কাশেম রহমান বলেন “পরিবারের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

ক. পরিকল্পনা কী?
খ. সিদ্ধান্ত গ্রহণের চতুর্থ পর্যায়কে কেন প্রভাবশালী বলা হয়?
গ. সাবেরা খাতুনের মধ্যে আদর্শ গৃহ ব্যবস্থাপকের কোন গুণটি প্রতিফলিত হয়েছে এবং সেটি কীভাবে তাকে সাহায্য করেছে। ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে সাবেরা খাতুনের কর্মকাণ্ডে বাবা কাশেম রহমানের মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। [মি. বো., রা. বো., দি, বো.. চ., বো,, য, বো, ও ব, বো, ২০২২]

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব কর্মপন্থা অবলম্বন করা হয় তার পূর্বে কাজটি কীভাবে করা হবে, কেন করা হবে ইত্যাদি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার নাম পরিকল্পনা।

খ) উত্তরঃ সিদ্ধান্ত গ্রহণের চতুর্থ স্তর হচ্ছে অনেকগুলো বিকল্প পন্থার মধ্য থেকে একটি বেছে নেওয়া। এ স্তরটি খুবই প্রভাবশালী। এটা মানুষের সমস্ত জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছাড়াও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর বয়স, চাহিদা, আয় ইত্যাদির ওপর একটি সমাধান গ্রহণ অনেকাংশে নির্ভর করে। একটি সমাধান গ্রহণের সময় দেখতে হবে তা যথেষ্ট কার্যকর কি না এবং এতে মন পরিতৃপ্ত হবে কি না ।

গ) উত্তরঃ সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সাবেরা খাতুনের আত্মসংযম গুণটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে জীবন চলার মাঝে পরিবারে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। পারিবারিক সংকটকালে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই আত্মসংযম। একজন সুব্যবস্থাপকের আত্মসংযমী হওয়া একান্ত প্রয়োজন । সাবেরা খাতুন তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। কারণ তার মধ্যে আত্মসংযম গুণটি বিদ্যমান। এই গুণের মাধ্যমে অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করা যায়। আত্মসংযম ক্ষমতা থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হয়। পরিবারে অনেক সময় সদস্যদের মধ্যে নানা রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে গৃহ ব্যবস্থাপক উত্তেজিত না হয়ে নিজেকে সংযত রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। ফলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

এভাবেই সাবেরা খাতুন আত্মসংযমের মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।

ঘ) উত্তরঃ সাবেরা খাতুনের বাবা কাশেম রহমান বলেন, “পরিবারের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টাতে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তার মন্তব্যটি যথার্থ।

একজন গৃহ ব্যবস্থাপককে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে সব সময় সচেষ্ট থাকতে হয়। তাকে পরিবারের সার্বিক কাজের দায়িত্বে থাকতে হয়। সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করানো গৃহ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তার সঠিক নির্দেশনা পেলে অন্য সদস্যরাও কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

এছাড়া নির্ধারিত কাজগুলো কে করবে, কীভাবে করা হবে, কখন এবং কেন করা হবে এসব বিষয়ের প্রতি সচেতন হয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা গৃহ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সদস্যদের মধ্যে কাজগুলো বণ্টন করে, তার সার্বিক তদারকি করাটাও তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের আওতাভুক্ত। উদ্দীপকে সাবেরা খাতুন উপরিউক্ত কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। অপরদিকে, গৃহ ব্যবস্থাপককে যথাসাধ্য সহযোগিতা করাও প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য। তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, তার আদেশ নির্দেশ পালন করে সবাই মিলে পারিবারিক কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। গৃহ ব্যবস্থাপক যাতে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সফল হতে পরেন সেজন্য প্রত্যক সদস্যকে আন্তরিক হতে হবে। তাহলেই যেকোনো জটিল কাজও খুব সহজেই করা সম্ভব হবে।

সুতরাং, উদ্দীপকে সাবেরা খাতুনের বাবা কাশেম রহমানের মন্তব্যটি সঠিক।

৪। ডলির ঘরে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় এটা সামাজিকতা রক্ষার কেন্দ্রস্থল। সে ফুলদানি, একুরিয়াম, ছবি ইত্যাদি দিয়ে তার ঘরটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছে, অন্যদিকে রেবার শোবার ঘরটিতে প্রচুর ধুলাবালি প্রবেশ করে এবং আব্রু রক্ষা হয় না।

ক. প্রত্যক্ষ ভারসাম্য কাকে বলে?
খ. আসবাবের স্থায়িত্ব কীসের উপর নির্ভর করে? ব্যাখ্যা করো।
গ. ডলির সাজানো ঘরের লক্ষণীয় বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. তুমি কি মনে করো রেবার ঘরটি আচ্ছাদিত করা প্রয়োজন? মতামত দাও। [ঢা.বো, কু. বো., সি. বো. ২০২২]

৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ একটি কক্ষের দুই দিকের আসবাবের গুরুত্ব সমান হলে তাকে প্রত্যক্ষ ভারসাম্য বলে ।

খ) উত্তরঃ আসবাবের স্থায়িত্ব নির্ভর করে উপকরণ ও নির্মাণ কাজের উপর। আসবাবপত্র নির্বাচনের কতগুলো বিবেচ্য বিষয়ের মধ্যে একটি হলো স্থায়িত্ব। উপকরণ ও নির্মাণ কাজ যদি ভালো হয় তাহলে আসবাব স্থায়ী হবে। কাঁচা কাঠ দিয়ে আসবাব নির্মাণ করলে সহজেই ঘুণে ধরে নষ্ট হয়ে যায়। পাকা কাঠ ও মজবুত নির্মাণ কৌশল আসবাবের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

গ) উত্তরঃ ডলির সাজানো ঘরটি ‘বসার ঘর’।

সঠিকভাবে আসবাবপত্র বিন্যাসের মাধ্যমে গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জাকে আকর্ষণীয়, আরামদায়ক ও সুবিধাজনক করে রাখা হয়। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের আরাম ও মানসিক তৃপ্তি বাড়ে।

বসার ঘরে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিত লোকজন এসে বসে। সামাজিকতা রক্ষার কেন্দ্রস্থল হলো বসার ঘর। এই কক্ষের বিন্যাস বাড়ির লোকদের রুচিবোধ বাইরের লোকের কাছে প্রকাশ করে। তাই এই ঘরের আসবাবপত্র বিন্যাসের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে ডলির ঘরে প্রবেশ করলেই বোঝা যায়, এটা সামাজিকতা রক্ষার কেন্দ্রস্থল। সে ফুলদানি, একুরিয়াম, ছবি ইত্যাদি দিয়ে তার ঘরটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছে। অর্থাৎ, এখানে বসার ঘরের কথা বলা হয়েছে। বসার ঘরে সোফাসেট, ডিভান, মোড়া, বুক শেলফ, সোকেস থাকে। কক্ষকে আকর্ষণীয় করার জন্য বড় ফুলদানিতে ফুল, একুরিয়াম, চিত্রকর্ম, খ্যাতিমান ব্যক্তির ছবি, কার্পেট ইত্যাদি দিয়ে সাজানো যায়।

ঘ) উত্তরঃ আমি মনে করি রেবার ঘরটি আচ্ছাদিত করা প্রয়োজন ।

গৃহ সজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পর্দা। আসবাবপত্র নির্বাচন ও বিন্যাসের পর গৃহের মেঝের আছাদন, দেয়ালসজ্জা, পুষ্প ও পর্দা বিন্যাস ইত্যাদির মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যায়।

পর্দা হচ্ছে দরজা-জানালার আচ্ছাদন। দেয়ালের রং, মেঝের আচ্ছাদন ও অন্যান্য আসবাবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্দা নির্বাচন করা উচিত | পর্দা ঘরের আব্রু রক্ষা করে, কড়া রোদ প্রবেশে বাধা দিয়ে ঘরে শীতলতার ভাব আনে। পর্দা ধুলাবালি থেকে ঘরকে রক্ষা করে। এছাড়া পর্দা ব্যবহারের ফলে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ে। উদ্দীপকে রেবার শোবার ঘরটিতে প্রচুর ধুলাবালি প্রবেশ করে এবং ঘরের আব্রু রক্ষা হয় না। অর্থাৎ, তার শোবার ঘরের দরজা জানালায় পর্দা প্রয়োজন। পর্দা থাকলে ঘরে ধুলাবালি প্রবেশ করবে না। এছাড়া বাইরে থেকে ঘরের ভেতরের কোনো কিছু দেখাও যাবে না। এতে আব্রু রক্ষা হবে।

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান l Home Science SSC 2022 All Board Question

৫। দশ বছর বয়সী রাতুল একা থাকতে খুব ভালোবাসে। সে কারো সাথে মিশতে পারে না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে তার ধারণা স্পষ্ট নয়। সে কোনো খেলাধুলায়ও অংশগ্রহণ করতে চায় না। রাতুলের বাবা মা এ ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন বয়সের বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জানা থাকলে অনেক সুবিধা হয়।”

ক. কত বছর বয়সে শিশু শক্ত খাবার খেতে শেখে?
খ. বর্ধন ও বিকাশের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করো।
গ. উদ্দীপকে রাতুল বিকাশের যে স্তরে রয়েছে সেই বয়সের বিকাশমূলক কাজ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে কী কী সুবিধা হতে পারে বলে তুমি মনে করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। [ম. বো, রা. বো, দি. বো, চ. বো, য. বো-২০২২]

৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ দুই বছর বয়সের মধ্যে শিশু শক্ত খাবার খেতে শেখে।

খ) উত্তরঃ প্রতিটি ব্যক্তিই তার জীবন বর্ধন ও বিকাশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। বর্ধন হলো পরিমাণগত পরিবর্তন আর বিকাশ হলো গুণগত পরিবর্তন। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধন চলমান। কিন্তু জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিকাশ চলমান।

গ) উত্তরঃ রাতুল মধ্য শৈশবে অবস্থান করছে।

৬ থেকে ১১ বছর বয়সসীমা মধ্য শৈশবের অন্তর্ভুক্ত। এই বয়সে ছেলেমেয়েরা তাদের পরিবেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানে এবং নতুন নতুন দায়িত্ব পালনে দক্ষ হয়।

মধ্য শৈশবে ছেলেমেয়েরা তাদের লিঙ্গ অনুযায়ী সামাজিক ভূমিকা পালন করে। তারা সমবয়সীদের সাথে সঠিক আচরণ করতে শিখে ও খেলাধুলায় দক্ষ হয়। নিয়মসমৃদ্ধ খেলায় যেমন– বৌচি, ফুটবল, গোল্লাছুট ইত্যাদিতে অংশ নেয়। তারা যুক্তিপূর্ণ চিন্তা করতে শেখে ও ভাষার দক্ষতা অর্জন করে। ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বস্তু সম্পর্কে তাদের ধারণা অনেক সুস্পষ্ট হয়। তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পছন্দ করে। বন্ধুত্ব তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

ঘ) উত্তরঃ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী “বিভিন্ন বয়সের বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জানা থাকলে অনেক সুবিধা হয়”। উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।

বিকাশ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিকাশের বিভিন্ন স্তরে সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজকেই বিকাশমূলক কার্যক্রম বলা হয়। অর্থাৎ বিকাশমূলক কার্যক্রম হলো— জীবনের নির্দিষ্ট স্তরে করণীয় কিছু কাজ যা সমাজ প্রত্যাশা করে। এ কাজের সফলতা পরবর্তী স্তরে সফল উত্তরণে সহায়তা করে, জীবনকে সুখী করে। এ কাজের ব্যর্থতা পরবর্তী স্তরের উত্তরণে বাধা আনে, জীবনে অশান্তি আনে।

বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকলে যে সুবিধাগুলো হয় তা হলো-

বিকাশমূলক কার্যক্রম জানলে বয়স অনুযায়ী সঠিক আচরণ করা সহজ হয়। বাবা-মা অথবা শিশুর পরিচালনাকারী বয়সানুযায়ী শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ জানতে পারেন এবং সেভাবে শিশুর সামাজিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে পারেন । বিকাশমূলক কার্যক্রম সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতে পূর্বপ্রস্তুতি ও প্রেরণা দেয়। এতে বিকাশের প্রতি স্তরে খাপ খাওয়ানো সহজ হয়।

৬। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান সংক্ষিপ্ত সাজেশন্স এসএসসি ২০২৩

ক. নিউক্লিয়াস কী?
খ. জীবকোষ কীভাবে তৈরি হয়? ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘ক’ নং চিত্রের বিষয় বিকাশের কোন ক্ষেত্রটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. একটি শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য ‘খ’ ও ‘গ’ এর বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে— বক্তব্যটির যৌক্তকতা বিশ্লেষণ কর।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ নিউক্লিয়াস জীবকোষের প্রাণকেন্দ্র।

খ) উত্তরঃ বাবার শুক্রাণু ও মায়ের ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে ভ্রূণ বা জীবকোষ তৈরি হয় । জীবকোষের প্রধান অংশ তিনটি। যথা: কোষ প্রাচীর, প্রোটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস জীবকোষের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিটি মানব জীবকোষের নিউক্লিয়াসে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। প্রতিটি জোড়ার একটি আসে মাতৃকোষ থেকে অন্যটি পিতৃকোষ থেকে। এভাবে প্রতিটি কোষ পিতৃ ও মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমন্বয়ে তৈরি হয়।

গ) উত্তরঃ ‘ক’ নং চিত্রের বিষয় বিকাশের ‘বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ’ ক্ষেত্রটিকে নির্দেশ করে।

বিকাশ হলো গুণগত পরিবর্তন, যা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। জীবনের শুরু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিকাশ চলমান।

বিকাশের ক্ষেত্রগুলো হলো- শারীরিক বিকাশ, সঞ্চালনমূলক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, ভাষার বিকাশ, আবেগীয়, সামাজিক এবং নৈতিক বিকাশ। বৃদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশের অন্তর্ভুক্ত হলো— কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগ দেওয়া, বুঝতে চেষ্টা করা, মনে রাখা, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা, সৃজনীশক্তি, সমস্যার সমাধান করতে পারা ইত্যাদি। ‘ক’ নং চিত্রে দেখানো হয়েছে একজন ছেলে গান গাইছে এবং একজন মেয়ে নাচছে। নাচ, গান এগুলো সৃজনশীলতার প্রকাশ। অর্থাৎ, এখানে সৃজনীশক্তির কথা বোঝানো হয়েছে। আর সৃজনীশক্তি, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশের অন্তর্ভুক্ত সুতরাং, ‘ক’ নং চিত্রটিতে বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ ক্ষেত্রটি নির্দেশ করা হয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ একটি শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য ‘খ’ ও ‘গ’ এর বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘খ’ চিত্রে ওজন ও উচ্চতা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ বর্ধনকে বোঝানো হয়েছে। ‘গ’ চিত্রে বিকাশকে বোঝানো হয়েছে । বিকাশ ও বর্ধন শিশুর বেড়ে ওঠায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

বিকাশ ও বর্ধনকে অনেকে এক মনে করলেও বিষয় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। বর্ধন হচ্ছে পরিমাণগত পরিবর্তন আর বিকাশ হচ্ছে গুণগত পরিবর্তন। বর্ধন বলতে দৈহিক আকার-আয়তনের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া। নবজাতকের ওজন বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি হলো তার গুণগত পরিবর্তন। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্কতা ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনিত পরিবর্তন হয়।

বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর জড়িত। জন্মের পর প্রথমে শিশু হাত, পা নিয়ে খেলে। পাঁচ বছরে সেই হাত দিয়ে ছবি আঁকে। দশ বছরে দক্ষতার সাথে হাত দিয়ে ক্রিকেট খেলে। গুণগত পরিবর্তন শিশুর বয়সের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশ সম্পর্কে সমাজের নির্দিষ্ট প্রত্যাশা থাকে। জীবনের শুরুতে বর্ধনের পাশাপাশি শারীরিক বুদ্ধিবৃত্তীয়, সামাজিক, সঞ্চালনমূলক, নৈতিক ও আবেগীয় বিকাশ চলতে থাকে। এই বিকাশগুলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের মধ্যে চলমান। যার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না।

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান সংক্ষিপ্ত সাজেশন্স এসএসসি ২০২৩

সুতরাং, একটি শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য ‘বর্ধন’ ও ‘বিকাশ’ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৭। দশম শ্রেণির ছাত্রী নীতু ইদানিং ক্লাসে খুব চুপচাপ থাকে। কারো কথায় সাড়া দিতে চায় না। এমনকি সে তার পছন্দের কাজগুলোতেও আগ্রহ পায় না। অপরদিকে, সহপাঠী বকুল প্রায়ই ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যায়। একদিন বন্ধুদের সাথে মজা করতে গিয়ে একটি বাড়িতে ঢিল ছুড়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। ঘটনাটি তার এক প্রতিবেশী দেখে ফেলে। তিনি মন্তব্য করেন “বকুলের বাবা-মায়ের সন্তান প্রতিপালন বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”

ক. সুখের তিনটি ‘এ’ দিয়ে কী বোঝানো হয়?
খ. অন্তর্মুখী সমস্যা কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে মানসিক ও আবেগীয় জটিলতা সৃষ্টি করে?
গ. উদ্দীপকে নীতুর মধ্যে কোন ধরনের সমস্যা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বকুলের সমস্যাটি প্রতিরোধে প্রতিবেশির মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

৭ নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কিছু মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা থাকে যেগুলোকে ইংরেজি 3 A দিয়ে বোঝানো হয়।

3A হলো-

A = Acceptance ( স্বীকৃতি)
A = Affection ( স্নেহ )
A = Achievement (সাফল্য)
এগুলোকেই বলা হয় সুখের তিনটি ‘এ’।

খ) উত্তরঃ অন্তর্মুখী মনোসামাজিক সমস্যার প্রধান কারণ হলো- মা-বাবার অতিরক্ষণশীলতা। অন্তর্মুখী সমস্যায় সমস্যাগ্রস্ত ছেলেমেয়েরা নানা ধরনের মানসিক ও আবেগীয় জটিলতায় ভোগে; যেমন- হতাশা, উদ্বেগ ইত্যাদি। বাইরে থেকে এ ধরনের সমস্যার প্রকাশ কম থাকে। অর্থাৎ তাদের দেখে হয়তো মনে হবে, সে খুবই স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে খুব যন্ত্রণায় ভুগছে। সব কিছুতেই শাসন, সন্তানকে সব সময় চোখে চোখে রাখা অতিরক্ষণশীল মা-বাবার বৈশিষ্ট্য। মা-বাবার এই অতিরক্ষণশীলতাই অন্তর্মুখী মনোসামাজিক সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।

গ) উত্তরঃ নীতু কৈশোরের অন্তর্মুখী মনোসামাজিক সমস্যায় ভুগছে। কৈশোরের মনোসামাজিক সমস্যা দুই ধরনের হয়। যথা— অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী । অন্তর্মুখী সমস্যাগ্রস্ত ছেলেমেয়েরা নানা ধরনের আবেগীয় ও মানসিক জটিলতায় ভোগে। বাইরে থেকে এ ধরনের সমস্যার প্রকাশ কম হলেও ভেতরে এর ভয়াবহতা অনেক। নীতুর সমস্যা সৃষ্টির কারণ হলো-

i. কৈশোর শিশুর সার্বিক বিকাশের নতুন পর্যায়। এ সময় ছেলেমেয়েরা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ফলে বিপর্যস্ত থাকে। ফলে তারা অন্তর্মুখী স্বভাবের হয়ে পড়ে। নীতুও এরকম পরিস্থিতিতে পড়েছে।

ii. এছাড়া বাবা-মায়ের অতি রক্ষণশীল মনোভাবের কারণেও সে অন্তর্মুখী হয়ে পড়েছে। সে কারো সাথে মেশে না, চুপচাপ থাকে। সুতরাং, মা-বাবার অতিরক্ষণশীলতা ও বয়ঃসন্ধিক্ষণের পরিবর্তনের কারণেই নীতু অন্তর্মুখী মনোসামাজিক সমস্যার শিকার।

ঘ) উত্তরঃ বকুলের বাবা-মায়ের সন্তান প্রতিপালন বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন— প্রতিবেশীর মন্তব্যটি যথার্থ।

বকুলকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য তার বাবা-মাকে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সময় কাটাতে হবে। সে কাদের সাথে বন্ধুত্ব করছে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বন্ধু নির্বাচনের প্রতি তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। বাবা-মায়ের মধ্যকার কলহের কারণেও বকুলের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার বাবা-মার মধ্যে সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। বকুল যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজ না করে সেদিকে বাবা-মাকে সতর্ক থাকতে হবে। সব সময় অপরাধ জগতের খারাপ দিকগুলো তার সামনে তুলে ধরতে হবে। এর ফলে সে এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে। বকুলের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়িতে থাকলে তার সাথে গল্প ও পড়াশোনায় সাহায্য করতে হবে। তাহলে বাবা-মার সান্নিধ্যে সে নিজেকে অসহায় মনে করবে না। এর ফলে সে অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে।

পরিশেষে বলা যায়, বকুলের বাবা-মা সচেতনভাবে তাকে প্রতিপালন করলে সে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

৮। রুমি ও তার দাদু দুজনেই খুব সৌখিন। রুমি তার দাদুর সাদা কাপড়গুলো ধুয়ে এতটাই যত্ন করে রাখে যে, তার দাদুর কাপড়ের উজ্জ্বলতা সাধারণত কমে না। এদিকে তার নিজের রেশমি কাপড়গুলো পেট্রল, বেনজল ও টেট্রাক্লোরাইড জাতীয় দ্রব্যাদি দিয়ে ধৌত করে।

ক. রিঠা কী?
খ. কাপড়ের অতিরিক্ত নীল দূর করার উপায় ব্যাখ্যা করো।
গ. রুমি কীভাবে তার দাদুর কাপড়ের যত্ন নেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রুমির ব্যবহৃত দ্রব্যাদির মাধ্যমে কাপড় ধৌতকরণ কৌশলটি কতটা যুক্তিযুক্ত তা মূল্যায়ন করো।

৮নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ রিঠা ফল এক ধরনের বস্ত্র পরিষ্কারক দ্রব্য।

খ) উত্তরঃ ভিনেগার এক ধরনের বস্ত্র পরিষ্কারক দ্রব্য যা কাপড়ের অতিরিক্ত নীল দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

অনেক সময় কাপড়ে নীল বেশি হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পানিতে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে ওই পানিতে কিছুক্ষণ কাপড় রাখলে অতিরিক্ত নীল দূর হবে।

গ) উত্তরঃ রুমি নীল দেয়ার মাধ্যমে তার দাদুর সাদা কাপড়গুলোর যত্ন নেয়। বস্ত্র ধৌতকরণের আগে বস্ত্রের তন্তুর প্রকৃতি, ময়লার ধরন, রং, আকারআয়তন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে উপযুক্ত পরিষ্কারক দ্রব্য সংগ্রহ করে নিতে হয়।

রুমি তার দাদুর সাদা কাপড় পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রথমে কাপড়ের ধরন জেনে নেয়। যেমন- সুতি ও লিনেন কাপড় হলে সে সাবান ও ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করে তা পরিষ্কার করে। কিন্তু যদি সাদা কাপড়টি রেশমি ও পশমি বস্ত্রের হয় তাহলে ডিটারজেন্ট পাউডার এবং ইষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করে। রুমি তার দাদুর সাদা কাপড়ের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য নীল ব্যবহার করে। কারণ কাপড় পরিষ্কার করার সময় সাবান ব্যবহারের ফলে কাপড়ে হলদে ভাবের সৃষ্টি হয়। নীল ব্যবহারের ফলে হলদে ভাব কেটে নীলাভ শুভ্রতা দেখা দেয়। পানিতে নীল মিশিয়ে সেই ‘পানিতে রুমি তার দাদুর সাদা কাপড়গুলো ডুবিয়ে নিংড়ে নিয়ে রোদে শুকিয়ে দেয়। এভাবেই রুমি দাদুর সাদা কাপড়ের যত্ন নেয়। ফলে সেগুলোর উজ্জ্বলতা কমে না।

ঘ) উত্তরঃ রুমি শীতকালীন পোশাকগুলো সংরক্ষণের জন্য পোশাকের ধরণ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শীতে যে ধরনের পশমি বস্ত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলো তুলনামূলক একটু বেশি দাম । তাই এ বস্ত্রগুলো ব্যবহারের পর সংরক্ষণ করলে পরের বছর ব্যবহার করা যায়। এতে পরিবারের অর্থের অপচয় রোধ করা যায়। রুমির ব্যবহার্য নানা ধরনের বস্ত্রের মধ্যে ঘরোয়া পোশাকবাইরের পোশাক, উৎসব অনুষ্ঠানের পোশাক, মৌসুমি পোশাক অন্তর্গত জন্য, তার ব্যবহার্য বস্ত্রের উজ্জ্বলতা, সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষার সঠিকভাবে যত্ন ও সংরক্ষণ করতে হয়।

তিনি সংরক্ষরণের একক হিসেবে স্টিল ও কাঠের আলমারি, বড় স্টিলের বক্স, স্যুটকেস ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তবে সংরক্ষণ করার আগেই নিয়মানুযায়ী ধৌতকরণ, শুকানো ও ইস্ত্রির কাজটি করে নেন। এরপর ইস্ত্রি করে বাতাসে শুকিয়ে আর্দ্রতামুক্ত করে নেন। তারপর ভাগে ভাগে আলমারি বা বক্সে কীটনাশক স্প্রে করে নেন। সংরক্ষিত কাপড়গুলো মাঝে মাঝে বের করে হালকা রোদে মেলে বাতাসে লাগিয়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করেন। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় রুমির ব্যবহৃত দ্রব্যাদির মাধ্যমে কাপড় ধৌতকরণ কৌশলটি যুক্তিযুক্ত।

৯। রীনা অফিসের একটি সেমিনারে চওড়া পাড়ের আড়াআড়ি রেখার ডুরে শাড়ি পরিধান করে। সে অপেক্ষাকৃত খাটো ও মোটা গড়নের। সহকর্মী জুলিয়া তাকে দেখে মন্তব্য করেন যে, “রীনার পোশাকের নকশাটি তার শারীরিক গড়নের জন্য উপযুক্ত হয়নি। প্রত্যেকেরই নিজ ব্যক্তিত্ব ও উপলক্ষের সাথে সংগতি রেখে পোশাকের নকশা নির্বাচন করা উচিত।

ক. ছন্দ কী?
খ. পোশাকের পারিপাট্যতা বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে রীনার পোশাক নির্বাচনে কী ধরনের ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. পোশাক সম্পর্কে সহকর্মী জুলিয়ার মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

৯ নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ দৃষ্টির ওঠানামাই ছন্দ। এটি একটি শিল্পনীতি।

খ) উত্তরঃ নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কোনো ব্যক্তির সাজসজ্জার মানানসই পোশাক-পরিচ্ছদ পারিপাট্য বলতে ব্যক্তির ও আনুষঙ্গিক প্রসাধন কার্যের মিলিত দেহের সাথে অবস্থাকে বোঝায়। শারীরিক সৌন্দর্য তখনই উদ্ভাসিত হয় যখন শরীর সুস্থ থাকে। সুস্থ দেহে সুস্থ মন থাকে। সুস্থ মনই শৈল্পিকভাবে পরিপাটি থাকতে তাগিদ সৃষ্টি করে।

গ) উত্তরঃ রীনার দেহাকৃতির সাথে তার পোশাক নির্বাচন মানানসই হয়নি। ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য প্রত্যেকেরই উচিত রুচিসম্মত পোশাক নির্বাচন করা।

আড়াআড়ি বা সমান্তরাল রেখার মাধ্যমে বিশ্রাম ও আরামের অনুভূতি আসে। এই রেখা আপাতদৃষ্টিতে কোনো কিছুর দৈর্ঘ্যকে হ্রাস করে এবং প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে। লম্বা ও রোগা মানুষের জন্য এ রেখার পোশাক উপযোগী। এতে তাদের লম্বা ও পাতলা ভাব কিছুটা কম মনে হয়।

উদ্দীপকে রীনা অফিসের একটি সেমিনারে চওড়া পাড়ের আড়াআড়ি রেখার ডুরে শাড়ি পরে। সে খাটো ও মোটা গড়নের। এই শাড়িতে তাকে আরও খাটো ও মোটা লাগবে। কারণ আড়াআড়ি রেখা কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য হ্রাস করে ও প্রশস্ততা বাড়ায়। সুতরাং, রীনার শাড়িটি যদি খাড়া বা লম্বা রেখার হতো তাহলে তাকে লম্বা মনে হতো। এ ধরনের রেখা তার জন্য উপযুক্ত।

ঘ) উত্তরঃ জুলিয়া মনে করেন প্রত্যেকেরই নিজ ব্যক্তিত্ব ও উপলক্ষের সাথে সঙ্গতি রেখে পোশাকের নকশা নির্বাচন করা উচিত।

উপলক্ষ, নিজের সামর্থ্য, ব্যক্তিত্ব ও অনুষ্ঠানের ভাবধারার প্রতি লক্ষ রেখে পোশাক পরলে আত্মতৃপ্তির পাশাপাশি সবার কাছে প্রশংসা পাওয়া যায়।

ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বা আচরণই হচ্ছে তার ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্বের সাথে পোশাকের একটি সুনিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুন্দর পোশাক রুচিশীল মনের পরিচয় দেয় এবং ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। পোশাক নির্বাচনের সময় উপলক্ষ বিবেচনা করতে হবে। আনন্দের অনুষ্ঠানে আমরা উজ্জ্বল রং ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরতে পারি। কিন্তু কোনো শোক অনুষ্ঠানে আমাদের হালকা রং ও কম নকশাবহুল পোশাক নির্বাচন করা উচিত। ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয় করার জন্য সমাজের রীতি-নীতির দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এমন ধরনের পোশাক পরা উচিত না। এতে ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না। বড় বড় ছাপার নকশাবহুল পোশাকে মোটা ব্যক্তিকে আরো মোটা দেখায়। তাই মোটা ও খাটো ব্যক্তির জন্য ছোট ছোট ছাপার পোশাক উপযোগী। আবার পোশাকের রং দেহের সাথে মানানসই না হলে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়। যাদের গায়ের রঙ উজ্জল, তারা যেকোনো রঙের পোশাকই নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু শ্যামলা রঙের ব্যক্তিে হালকা রঙে ভালো দেখায়। আবার গাঢ় রঙের পোশাকে মোটা ব্যক্তিকে আরো মোটা দেখায়। তাই তাদের হালকা রঙের পোশাক নির্বাচন করতে হবে।

সুতরাং, উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে পোশাক নির্বাচন করলে যে কোনো ব্যক্তিই প্রশংসা অর্জন করতে পারবে।

Leave a Comment