২০২৩ সালের এসএসসি প্রস্তুতি সহ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ সাজেশন্স

অধ্যায় ০৬ : বারিমণ্ডল

  • এক নজরে অধ্যায়ে আলোচ্য বিষয়াবলি

প্রাথমিক আলোচনা বর্তমানে সারা পৃথিবীতে জনসংখ্যা দ্রুতহারে বাড়ছে এবং সম্পদের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। তার জন্য বারিমণ্ডলের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে কারণ বারিমণ্ডলের তলদেশে বৈচিত্র্যপূর্ণ গঠন রয়েছে এবং সেখানে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ। মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা কীভাবে প্রভাববিস্তার করছে সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় ।


প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, নতুন পাঠ্যবইয়ের অনুচ্ছেদ ও লাইনের ধারায় Pointing বিষয়বস্তুর আলোকে ভিন্ন ধারার যেকোনো বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের নিশ্চয়তায় নিচের বহুনির্বাচনি অংশের প্রশ্নোত্তরগুলো অনুশীলন করো। দেখবে, সহজেই যেকোনো বহুনির্বাচনির সঠিক উত্তর নিশ্চিত করা যাচ্ছে।


১. মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, হ্রদ, নদী প্রভৃতি জলাশয়ের একত্রিত নাম হলো বারিমণ্ডল।

২. পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে জ সমুদ্রে।

৩. মিঠা পানির উৎস হচ্ছে নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভ।

৪.  কঠিন, গ্যাসীয়, তরল অবস্থায় রয়েছে জলরাশি।

৫. বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশি মহাসাগর ।

৬. আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট ।

৭. মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশি সাগর।

৮. Spher অর্থ মণ্ডল ।

৯. সমুদ্রে পানি রয়েছে ৯৭.২৫ ভাগ।

১০. নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে পানি রয়েছে ৩ ভাগ।

১১. পৃথিবীর সমস্ত পানিকে ভাগ করা হয়েছে ৮ ২ ভাগে।

১২. পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি  লবণাক্ত।

১৩. নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি পৃথিবীতে মহাসাগর রয়েছে

১৪. মিঠা পানির উৎস ৫টি।

১৫. এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভারত মহাসাগর ।

১৬. দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে।

১৭. মহাসাগরের চেয়ে আয়তনে ছোট পানিরাশিকে বলে সাগর ।

১৮. তিন দিক স্থল দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে বলে উপসাগর।

১৯. চারদিক স্থল দ্বারা বেষ্টিত পানিরাশিকে বলে হ্রদ।

২০. সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয় শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে।

২১. শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার নিচে যায় এবং আবার ফিরে আসে।

২২. সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয় ফ্যাদোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে।

২৩. সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপকে ৫ ভাগে বিভক্ত করা হয়।

২৪. সমুদ্রের উপকূলরেখা হতে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে বলে মহীসোপান।

২৫. মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।

২৬. উপকূলীয় ২৫. ২৬. মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে বলে ঢাল।

২৭. তীরভূমির যে স্থানের মধ্যে জোয়ারভাটার সময় পানি উঠানামা করে তাকে বলে তটদেশীয় অঞ্চল ।

২৮. তটদেশীয় অঞ্চলের ওপর হতে মহীসোপানের সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলে ঝিনুক অঞ্চল ৷

২৯. পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে।

৩০. মহীসোপানের শেষ সীমা হতে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সাথে মিশে যায়। এ ঢালু অংশকে বলে – মহীঢাল ।

৩১. অসংখ্য আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত অবস্থান করায় মহীঢাল খুবই বন্ধুর প্রকৃতির।

৩২. সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ।

৩৩. মহাসাগরের উপর দিয়ে নির্দিষ্ট ও নিয়মিত গতিতে একস্থান থেকে অন্যস্থানের দিকে পানির প্রবাহকে বলে সমুদ্রস্রোত।

৩৪. সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে ভাগ করা হয়েছে তেল ২ ভাগে।

৩৫. নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ রূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে বলে – উষ্ণ স্রোত ।

৩৬. মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারি জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে বলে শীতল স্রোত। ।

৩৭. জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয় দুটি কারণে।

৩৮. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব জোয়ারভাটার কারণ।

৩৯. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ বল জোয়ারভাটার কারণ।

৪০. পৃথিবী নিজ মেরুরেখার চারদিকে অনবরত আবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয় কেন্দ্রাতিগ শক্তির।

৪১. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে পরস্পর বিপরীত দিকে সৃষ্টি হয়। জোয়ারের।

৪২. চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে অত্যন্ত প্রবল হয় জোয়ার।

৪৩. স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে উৎপাদন করা হয় জলবিদ্যুৎ।

৪৪. জোয়ার প্রবল হয় চাঁদের আকর্ষণে।

৪৫. জোয়ারভাটার মাধ্যমে নদীখাত গভীর হয়।


প্রশ্ন : ১। ঢাকা বোর্ড ২০২১

২০২৩ সালের এসএসসি প্রস্তুতি সহ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ সাজেশন্স | অধ্যায় ০৬ : বারিমণ্ডল এর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

ক. মহাসাগর কাকে বলে?
খ. বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ডুবে যায় কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে ‘R’ চিহ্ন দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘P’ ও ‘O’ চিহ্নিত ভূমিদ্বয়ের মধ্যে কোন ভূমিরূপটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে।

খ) উত্তরঃ হিমশৈলের সঙ্গে আঘাত লাগার কারণে  ডুবে যায় ।

সাধারণত উষ্ণ স্রোতের গতিপথে জাহাজ চালানো নিরাপদ। কিন্তু শীতল স্রোতের গতিপথে জাহাজ চালানো নিরাপদ নয়। কারণ শীতল স্রোতের সঙ্গে অনেক হিমশৈল ভেসে আসে। এ প্রকার হিমশৈলের সঙ্গে আঘাত লাগলে জাহাজের ক্ষতি হয় এবং জাহাজ ডুবে যায়। টাইটানিক জাহাজ এভাবেই আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল ।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ‘R’ চিহ্ন দ্বারা গভীর সমুদ্রখাতকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্র তলদেশের ‘R’ চিহ্নিত ভূমিরূপটি গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এসকল খাতকে গভীর সমুদ্র খাত বলে।

মহাসাগরের তলদেশে কোথাও কোথাও গভীর খাত দেখা যায়। পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাত প্লেট সীমানায় অবস্থিত। এ প্লেট সীমায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসকল খাত সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতগুলো অধিক প্রশস্ত না হলেও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। পৃথিবীর গভীর সমুদ্রখাত হলো ম্যারিয়ানা খাত। এর গভীরতা ১০,৯৬০ মি. ।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘P’ ও ‘Q’ চিহ্নিত ভূমিরূপদ্বয় হলো যথাক্রমে মহীসোপান ও মহীঢাল। এর মধ্যে মহীসোপান ভূমিরূপটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি ।

মহীঢালের উপরিভাগ সমান নয়। অসংখ্য আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত অবস্থান করায় তা খুবই বন্ধুর প্রকৃতির। মহীঢালে সমুদ্রে বিচরণকারী মৃত মৎস্যসহ জীবজন্তুর দেহাবশেষ ও পলির অবক্ষেপণ দেখা যায় ।

মহীসোপান অঞ্চলে মৎস্যের প্রচুর খাদ্য থাকায় এ অঞ্চলে মৎস্যের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে। এর ওপর ভিত্তি করে মহীসোপান অঞ্চলে মৎস্য শিকার ও মৎস্য ব্যবসায়ের প্রসার ঘটেছে। এছাড়া এ অঞ্চল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্ব বহন করে । মহীসোপান অঞ্চলকে সমুদ্রতট বা সৈকত বলে। মানুষ আনন্দ ভ্রমণের জন্য সৈকতে যায় এতে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়। সমুদ্রের এ অংশে বহু নুড়ি রয়েছে। এ নুড়িতে ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, সিসা, তামা, নিকেল, দস্তা ইত্যাদি বহু মুল্যবান ধাতু পাওয়া যায় । মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পদ সরবরাহের জন্য সমুদ্র তলদেশ, বিপুল সম্ভাবনাময়। শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে খাদ্যের যোগান, খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে পরিবহন ও বাণিজ্যে, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ইত্যাদিতে মহীসোপান ও সমুদ্র নানাভাবে সহায়তা করে থাকে।

সুতরাং মহীসোপান ও মহীঢাল ভূমিদ্বয়ের মধ্যে আলোচনার বিচারে মহীসোপানের অর্থাৎ ‘P’ ভূমিরূপের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি।

প্রশ্ন : ২। ঢাকা বোর্ড ২০২১

২০২৩ সালের এসএসসি প্রস্তুতি সহ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ সাজেশন্স

ক. উপসাগর কাকে বলে?
খ. সমুদ্র তলদেশের লাভা সঞ্চিত ভূমিরূপ কোনটি? ব্যাখ্যা কর।
গ. মানচিত্রে ‘A’ চিহ্নিত জলরাশির স্রোতগুলোর নাম উল্লেখ কর।
ঘ. মানচিত্রে জলরাশিসমূহের প্রবাহ মানবজীবনে কীরূপ প্রভাববিস্তার করে? আলোচনা কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর বলে।

খ) উত্তরঃ সমুদ্র তলদেশে লাভা সঞ্চিত ভূমিরূপ হলো নিমজ্জিত শৈলশিরা। সমুদ্রের তলদেশে অনেকগুলো আগ্নেয়গিরির অবস্থান রয়েছে। এসব আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা বেরিয়ে এসে সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত হয়ে শৈলশিরার ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করেছে। এগুলোই শৈলশিরা নামে পরিচিত।

গ) উত্তরঃ মানচিত্রের ‘A’ চিহ্নিত জলরাশি হলো শৈবাল সাগর ।

শৈবাল সাগরের নিকটবর্তী স্রোতগুলো হলো –

  • উপসাগরীয় স্রোত,
  • ক্যানারী স্রোত,
  • উত্তর আটলান্টিক স্রোত,
  • উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত,
  • উত্তর নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত ।

ঘ) উত্তরঃ মানচিত্রের জলরাশিসমূহের প্রবাহ মানবজীবনের ওপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয়ই প্রভাববিস্তার করে।

• নাতিশীতোষ্ণ এবং হিমমণ্ডলের অনেক সমুদ্রে শীতকালে পানি জমে বরফ হয়ে যায়। এরূপ অঞ্চলে উষ্ণস্রোত প্রবাহিত হলে সমুদ্রের পানি বরফে পরিণত হতে পারে না।

• সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর সমুদ্রস্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অতি শীঘ্রই গন্তব্যস্থলে যাওয়া যায় কিন্তু প্রতিকূলে জাহাজ চালনা করলে অধিক সময় লাগে।

• উষ্ণ স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালনা নিরাপদ। কিন্তু শীতল স্রোতের গতিপথে হিমশৈল প্রভৃতির জন্য জাহাজ চালনায় অসুবিধা হয় ।

• হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে আসলে গলে যায় এবং তার সাথে প্রবাহিত মাটি, কাদা, উদ্ভিদ প্রভৃতি পানির তলদেশে সঞ্চিত হয়ে চড়াভূমির সৃষ্টি করে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকটে এরূপ এক বিরাট চড়ার সৃষ্টি হয়ে মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।

• উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে আগত বায়ু উপকূলের দেশগুলোর উত্তাপ বৃদ্ধি করে। আবার শীতল স্রোত উপকূলস্থ দেশগুলোর জলবায়ুকে অপেক্ষাকৃত শীতল করে।

• উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুতে অধিক জলীয়বাষ্প থাকে বলে তা স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বৃষ্টিপাত ঘটায় ।

● ঘন কুয়াশা, ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেক সময় সমুদ্রস্রোতের প্রভাবেও সংঘটিত হয়ে থাকে। উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলনস্থলে উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে ঘন কুয়াশা এবং ঝড়ের সৃষ্টি হয়।

সুতরাং সমুদ্রের পানির প্রবাহ অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত জলবায়ু, কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাববিস্তার করলেও ক্ষেত্রবিশেষে বেশ নেতিবাচক।

প্রশ্ন : ৩। রাজশাহী বোর্ড ২০২১

ক. সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
খ. কোন স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালানো নিরাপদ? ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘Q’ অবস্থানটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘P’ অবস্থানে ‘S’ ও ‘M’ এর মধ্যে কোনটির প্রভাব বেশি? বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ সমুদ্রের পানি একস্থান হতে অন্যস্থানে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়মিত গতিপথ অনুসরণ করে চলাচলকে সমুদ্রস্রোত বলে।

খ) উত্তরঃ উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালানো নিরাপদ।

উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শীতল অঞ্চলের উপর দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে শীতকালেরও বরফ জমতে পারে না। বন্দরগুলো সারাবছর ব্যবহার করা যায়। তাই উষ্ণ স্রোতের অনুকূলে জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে ‘Q’ অবস্থানটি দ্বারা ভাটাকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্রের পানি নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। প্রাকৃতিক নিয়মে জোয়ারভাটা সংঘটিত হয় পৃথিবীর সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে। অমাবস্যার তিথিতে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং চন্দ্র থাকে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে। ফলে পৃথিবীতে একদিকে সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত আকর্ষণ অত্যন্ত প্রবল হয়। তখন পৃথিবীর ঐ অংশে চারিদিক হতে পানিরাশি ফুলে ওঠে এবং মুখ্য জোয়ার সংঘটিত হয়। যার ফলে ঠিক তার বিপরীত দিকে প্রতিবাদ স্থানে কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাবে জোয়ার হয়, যা গৌণ জোয়ার নামে পরিচিত। অর্থাৎ অমাবস্যার তিথীতে চন্দ্র ও সূর্য যে দিকে থাকে সেদিকে মুখ্য জোয়ার এবং তার বিপরীত দিকে প্রতিবাদ স্থানে গৌণ জোয়ার সংঘটিত হয়। ফলে এ দুই জোয়ারের মধ্যে সমকোণী অংশ থেকে পানি সরে যেতে থাকে। অর্থাৎ এ অংশে সমুদ্রের পানি নেমে যায় বা ভাটার সৃষ্টি হয় ।

উদ্দীপকের চিত্র দ্বারা চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে ‘P’ অংশটিতে মুখ্য জোয়ার, তার বিপরীত দিকে গৌণ জোয়ার এবং দুই স্থানের সমকোণে ‘Q’ অংশটিতে ভাটার সৃষ্টি হয়।

ঘ) উত্তরঃ চিত্রের ‘P’ হলো পৃথিবীর মুখ্য জোয়ার অঞ্চল, ‘S’ ও ‘M’ হলো যথাক্রমে সূর্য ও চাঁদ। ‘P’ অবস্থানে ‘S’ এর চেয়ে ‘M’-এর প্রভাব বেশি।

চন্দ্রের আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি হয়। ফলে চন্দ্রের নিকটবর্তী অংশের পানিরাশি স্ফীত হয়ে ওঠে। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বলে।

চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্যের অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্যের ভর অপেক্ষা চাঁদের ভর অনেক কম হলেও চাঁদ সূর্য অপেক্ষা অনেক নিকটে অবস্থিত। তাই সমুদ্রের জল তরল বলে চাঁদের আকর্ষণেই প্রধানত সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে ও জোয়ার হয়।

সুতরাং বলা যায়, ‘P’ অবস্থানে অর্থাৎ পৃথিবীর মুখ্য জোয়ার অঞ্চলে চন্দ্র ও সূর্য উভয়ই সরলরেখার বরাবর আকর্ষণ করলেও ঐ অঞ্চলে চন্দ্ৰ অর্থাৎ ‘M’-এর প্রভাব বেশি।

প্রশ্ন : ৪। রাজশাহী বোর্ড ২০২১

ক. হ্রদ কাকে বলে?
খ. চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় উপস্থিত হলে নদীর পানির পরিস্থিতি কেমন হয়? ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘C’ স্রোত সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘A’ ও ‘B’ অঞ্চলদ্বয় চিহ্নিতপূর্বক ঐ অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে কোনটি জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ মতামত দাও।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ বলে।

খ) উত্তরঃ চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় উপস্থিত হলে নদীর পানি ফুলে ওঠে ও জোয়ার হয়।

সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। তাই সমুদ্রের জল তরল বলে চাঁদের আকর্ষণ প্রধানত সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে ও জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না। কিন্তু যখন চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় উপস্থিত হয় তখন তাদের মিলিত অবস্থানে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।

গ) উত্তরঃ ‘C’ স্রোত হলো উষ্ণ স্রোত।

সমুদ্রের পানি একস্থান হতে অন্যস্থানে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়মিত গতিপথ অনুসরণ করে চলাচলকে সমুদ্রস্রোত বলে। সমুদ্রস্রোতে উষ্ণতার তারতম্য রয়েছে। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে উষ্ণ স্রোতের সৃষ্টি হয়।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে উষ্ণ স্রোত অর্থাৎ ‘C’ স্রোতের সৃষ্টি করে।

ঘ) উত্তরঃ চিত্রের ‘A’ ও ‘B’ অঞ্চলদ্বয় হলো ল্যাব্রাডর স্রোত অঞ্চল এবং উত্তর আটলান্টিক স্রোত অঞ্চল।

মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে শীতল স্রোতের সৃষ্টি হয়। ল্যাব্রাডর স্রোত একটি শীতল স্রোত। শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূলে ল্যাব্রাডর দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী অঞ্চল সারাবছর বরফাচ্ছন্ন থাকে। শীতল স্রোতের গতিপথে তীব্র শীত ও হিমশৈলের জন্য জাহাজ চলাচলের অসুবিধা দেখা দেয় ।

অপরদিকে, নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে উষ্ণ স্রোতের সৃষ্টি হয়। উত্তর আটলান্টিক স্রোত একটি উষ্ণ স্রোত। উষ্ণ সমুদ্রস্রোতে জাহাজ নৌচলাচলের সুবিধা বেশি। কারণ উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শীতল অঞ্চলের উপর দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে শীতকালেও বরফ জমতে পারে না। ফলে বন্দরগুলো সারাবছর ব্যবহার করা যায়। উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক জাহাজ যাতায়াত করে।

সুতরাং ‘A’ ও ‘B’ অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে ‘B’ অঞ্চল অর্থাৎ উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোত জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত বলে আমি মনে করি ।

প্রশ্ন : ৫। যশোর বোর্ড ২০২১

রাকিবের বন্ধু শীতপ্রধান দেশের উপকূলে বসবাস করে। সে তার বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে ঐ দেশের জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। আবার পরিবহন ব্যবস্থার উপরে সমুদ্রস্রোতের প্রভাব রয়েছে।

ক. হিমশৈল কী?
খ. শীতল স্রোত বলতে কী বোঝ?
গ. রাকিবের বন্ধুর দেশে জলবায়ুর ওপর যে কারণটি প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. পরিবহন ব্যবস্থার ওপরে এর প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষণ কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ সমুদ্রে ভাসমান অতিকায় বরফস্তূপকে হিমশৈল বলে ।

খ) উত্তরঃ পৃথিবীর মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় যে স্রোত সৃষ্টি হয়, তাকে শীতল স্রোত বলে । কুমেরু স্রোত ও বেঙ্গুয়েলা স্রোত শীতল স্রোতের উদাহরণ।

গ) উত্তরঃ রাকিবের বন্ধুর দেশে জলবায়ুর ওপর শীতল সমুদ্রস্রোত প্রভাব ফেলে।

যে এলাকার উপর দিয়ে সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয় সেখানে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব অত্যধিক। শীতল সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোনো অঞ্চলের শীতলতা বৃদ্ধি পায়। যেমন— শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূলে ল্যাব্রাডার দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী অঞ্চল সারাবছর বরফাচ্ছন্ন থাকে। একই কারণে শীত। কামচাটকা উপদ্বীপের শীতলতা বৃদ্ধি পায় ।

উদ্দীপকের রাকিবের বন্ধু শীতপ্রধান দেশের উপকূলের বসবাস করেন। ঐ দেশের জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এর প্রভাবের দরুন শীতল স্রোত প্রবাহিত হয়। এর ফলে রাকিবের বন্ধুর দেশে শীত অনুভূত হয় ।

ঘ) উত্তরঃ পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সমুদ্রস্রোতের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নিচে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব তুলে ধরা হলো-

১. উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শীতল অঞ্চলের উপর দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে শীতকালেও বরফ জমতে পারে না। বন্দরগুলো সারাবছর ব্যবহার করা যায়।

২. শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূলে ল্যাব্রাডর দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী অঞ্চল সারাবছর বরফাচ্ছন্ন থাকে। ফলে এ অঞ্চল জাহাজ চলাচল করতে পারে না।

৩. সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে নৌকা, জাহাজ প্রভৃতি সুবিধা হয়। তবে শীতল সমুদ্রস্রোত অপেক্ষা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতে জাহাজ ও নৌচলাচলের সুবিধা বেশি। শীতল স্রোতের গতিপথে তীব্র শীত ও হিমশৈলের জন্য জাহাজ চলাচলের অসুবিধা দেখা যায়।

৪. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন স্থলে অল্পস্থানব্যাপী উষ্ণতার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। এ অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টির ফলে প্রবল ঝড়ঝাঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। তখন, জাহাজ ও বিমান চলাচলে অসুবিধা দেখা দেয় ।

৫. শীতল সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে যেসব হিমশৈল ভেসে আসে সেগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলের বাধার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।

উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই পড়ে । তবে নেতিবাচক প্রভাবের চেয়ে ইতিবাচক প্রভাবই বেশি।

প্রশ্ন : ৬। কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

ক. মহাসাগর কাকে বলে?
খ. হিমশৈল বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর ।
গ. উদ্দীপকের ‘গ’ ভূমিরূপের বর্ণনা দাও ।
ঘ. ‘ক’ ও ‘খ’ ভূমিরূপের তুলনামূলক আলোচনা কর ।

৬নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে ।

খ) উত্তরঃ সমুদ্রে ভাসমান অতিকায় বরফস্তূপকে ‘হিমশৈল’ বলে । প্রকৃতপক্ষে হিমশৈল হলো হিমবাহেরই খণ্ডিত অংশ। পাহাড়-পর্বত ও উপত্যকার উপর দিয়ে হিমবাহ চলতে চলতে যখন সমুদ্রে পতিত হয় তখন সেই বিরাট হিমবাহ সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের ধাক্কায় ভেঙে গিয়ে বড় বড় খণ্ডে বিভক্ত হয়। বৃহৎ এই বরফখণ্ডগুলোই তখন হিমশৈল নামে পরিচিত।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ‘গ’ ভূমিরূপটি হলো গভীর সমুদ্রখাত ।

সমুদ্র তলদেশের ‘গ’ চিহ্নিত ভূমিরূপটি গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এসকল খাতকে গভীর সমুদ্র খাত বলে।

মহাসাগরের তলদেশে কোথাও কোথাও গভীর খাত দেখা যায়। পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাত প্লেট সীমানায় অবস্থিত। এ প্লেট সীমায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতগুলো অধিক প্রশস্ত না হলেও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। পৃথিবীর গভীর সমুদ্রখাত হলো ম্যারিয়ানা খাত এর গভীরতা ১০,৯৬০ মি. ।

ঘ) উত্তরঃ চিত্রের ‘ক’ ও ‘খ’ ভূমিরূপ হলো যথাক্রমে মহীসোপান ও গভীর সমুদ্রের সমভূমি। নিচে এ দুই ভূমিরূপের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো।

পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। মহীসোপানের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে ।

মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। মহীসোপানের বিস্তৃতি সর্বত্র সমান উপকূলভাগের বন্ধুরতার ওপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

অপরদিকে, মহীঢাল শেষ হওয়ার পর থেকে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এর গড় গভীরতা ৫,০০০ মিটার। এ অঞ্চলটি সমভূমি নামে খ্যাত হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বন্ধুর। কারণ গভীর সমুদ্রের সমভূমির উপর জলমগ্ন বহু শৈলশিরা ও উচ্চভূমি অবস্থান করে। আবার কোথাও রয়েছে নানা ধরনের আগ্নেয়গিরি। এ সমস্ত উচ্চভূমির কোনো কোনোটি আবার জলরাশির উপর দ্বীপরূপে অবস্থান করে। সমুদ্রের এ গভীর অংশে পলিমাটি, সিন্ধুমল, আগ্নেয়গিরি থেকে উত্থিত লাভা ও সূক্ষ্ম ভস্ম প্রভৃতি সঞ্চিত হয়। এ সকল সঞ্চিত পদার্থ স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন : ৭। কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

দৃশ্যকল্প-১ : রাজ্জাক সকালবেলা দেখল সমুদ্রের পানি স্ফীত হয়েছে।

দৃশ্যকল্প-২ : জাবেদ সমুদ্র ভ্রমণের সময় দেখল সমুদ্রে দুই ধরনের পানির প্রবাহ। এক ধরনের থেকে উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে।

ক. সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
খ. বেরিং স্রোত এবং জাপান স্রোতের মিলনের ফলে কী ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা কর।
গ. রাজ্জাকের দেখা ঘটনাটির কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. জাবেদের দেখা স্রোত দুটির মধ্যে কোনটি বাণিজ্যে ভূমিকা রাখতে সক্ষম? মতামত দাও।

৭নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ সমুদ্রের পানি একস্থান হতে অন্যস্থানে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়মিত গতিপথ অনুসরণ করে চলাচলকে সমুদ্রস্রোত বলে ।

খ) উত্তরঃ বেরিং স্রোত এবং জাপান স্রোতের মিলনের ফলে ঝড়ঝাঞ্ঝার সৃষ্টি হয় ।

উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে অল্পস্থানব্যাপী উষ্ণতার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। এ অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টির ফলে প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। এতে জাহাজ ও বিমান চলাচলে অসুবিধা দেখা দেয়। এশিয়ার উপকূলে বেরিং স্রোত এবং উষ্ণ জাপান স্রোতের মিলনের ফলে এরূপ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। ফলে জাহাজ ও বিমান চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।

গ) উত্তরঃ রাজ্জাকের দেখা ঘটনাটি হলো জোয়ার।

মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্ক পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তেমনি চন্দ্র এবং সূর্যও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তবে চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বের কারণে চন্দ্র পৃথিবীকে বেশি আকর্ষণ করায় নিজের দিকে টানে ফলে সমুদ্রের পানি কিছুটা স্ফীত হয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করে। আবার, পৃথিবী তার নিজ মেরুরেখায় আবর্তন করার সময় কেন্দ্রাতিগ বল বা বিকর্ষণ শক্তির সৃষ্টি হয়। ফলে পৃথিবী মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকে ছিটকে যেতে চায়। এর ফলে জোয়ারের সৃষ্টি হয়।

মূলত রাজ্জাকের দেখা সমুদ্রের পানি স্ফীত হয়ে ওঠা চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবেই হয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ জাবেদের দেখা স্রোত দুটি হলো উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোত। স্রোতদ্বয়ের মধ্যে উষ্ণ স্রোত বাণিজ্যে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমণ্ডলের অনেক অঞ্চলে উষ্ণ স্রোত প্রবাহের কারণে সমুদ্রের পানি বরফ হতে পারে না। যেমন- উপসাগরীয় ঊষ্ণ স্রোতের প্রভাবে নরওয়ের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালেও

থেকে পানিরাশি আগের স্থানদ্বয়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে পানিরাশি কমে যায়। ফলে ঐ স্থানদ্বয় ভাটার সৃষ্টি হয়। এভাবে একস্থানে প্রতিদিন দুইবার ভাটা হয়।

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ হামি মংলা বন্দরে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ করলো বেশ কিছুসংখ্যক সমুদ্রগামী জাহাজ উপকূলের দিকে মুখ করে চড়ায় আটকে আছে। কারণ নদীতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ভাটা হয়। জাহাজগুলো উপকূলে পৌঁছার পূর্বেই ভাটা এসে পড়ায় চড়ে আটকে যায়। সুতরাং হামিমের দেখা প্রথম ঘটনার কারণ ভাটা ।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের হামিমের দেখা ঘটনা-১ ভাটা এবং উদ্দীপক-২ জোয়ার । এ জোয়ারভাটা মানবজীবনে কুফলের চেয়ে সুফলই বয়ে আনে— উক্তিটি যথার্থ।

জোয়ারভাটার মাধ্যমে ভূখণ্ড হতে আবর্জনাসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। এ প্রক্রিয়ার ফলে নদীর মোহনাও পরিষ্কার থাকে। দৈনিক দুবার জোয়ারভাটা হওয়ার ফলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। জোয়ারভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়।

বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচকার্যে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয় ।

শীতপ্রধান দেশে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জোয়ারের সাহায্যে নদীতে প্রবেশ করে এবং এর ফলে নদীর পানি সহজে জমে না। জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসায়-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পানি অধিক হয় বলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়। আবার ভাটার টানে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশের দুটি প্রধান সামুদ্রিক বন্দর পতেঙ্গা ও মংলা এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর সচল রাখতে জোয়ারভাটার ভূমিকা রয়েছে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে নদীতে জোয়ারের সময় বান ডাকার ফলে অনেক সময় নৌকা, লঞ প্রভৃতি ডুবে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানমালের ক্ষতি হয়।

সুতরাং জোয়ারভাটার প্রভাবগুলোর মধ্যে সুফল ও কুফল উভয়ই বিদ্যমান। তবে মানবজীবনে কুফলের চেয়ে সুফলই বেশি বয়ে আনে।

প্রশ্ন ৮। সিলেট বোর্ড ২০২১

ক. মহাসাগর কাকে বলে?
খ. পোর্টোরিকো খাত সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর।
গ. ছকে ‘R’ সমুদ্র তলদেশের কোন ধরনের ভূমিরূপ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘P’ ও ‘Q’ ভূমিরূপের গাঠনিক প্রক্রিয়া কি একই রকম বলে তুমি মনে কর? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ কর।

৮নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে।

খ) উত্তরঃ প্লেট সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলে বিভিন্ন খাত সৃষ্টি হয় ।

পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাত প্লেট সীমায় অবস্থিত। এ প্লেট সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই পোর্টোরিকো খাত সৃষ্টি হয়।

গ) উত্তরঃ ছকে ‘R’ হলো সমুদ্রতলদেশের গভীর সমুদ্রখাত ।

গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এ সকল খাতকে গভীর সমুদ্রখাত বলে। পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাত প্লেট সীমানায় অবস্থিত। এ প্লেট সীমানায় ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত অধিক হয় বলেই এ সকল খাত সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতগুলো অধিক প্রশস্ত না হলেও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। এদের গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারের অধিক ।

প্রশান্ত মহাসাগরেই গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা বেশি। এর অধিকাংশই পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এ সকল গভীর সমুদ্রখাতের মধ্যে গুয়াম দ্বীপের ৩২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ম্যারিয়ানা খাত। এর গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার এবং এটাই পৃথিবীর গভীরতম খাত। এছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টোরিকো খাত (৮,৫৩৮ মিটার), ভারত মহাসাগরের শুণ্ডা খাত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ।

ঘ) উত্তরঃ ছকে ‘P’ ও ‘Q’ ভূমিরূপ হলো যথাক্রমে মহীসোপান ও । ভূমিরূপদ্বয়ের মধ্যে গাঠনিক প্রক্রিয়া একই রকম নয়।

পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। এর বিস্তৃতি সর্বা সমান, নয়। উপকূলভাগের বন্ধুরতার ওপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

মহীঢাল শেষ হওয়ার পর থেকে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এর গড় গভীরতা ৫,০০০ মিটার। এ অঞ্চলটি সমভূমি নামে খ্যাত হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বন্ধুর। কারণ গভীর সমুদ্রের সমভূমির উপর জলমগ্ন বহু শৈলশিরা ও উচ্চভূমি অবস্থান করে। আবার কোথাও রয়েছে নানা ধরনের আগ্নেয়গিরি। এ সমস্ত উচ্চভূমির কোনো কোনোটি আবার জলরাশির উপর দ্বীপরূপে অবস্থান করে। সমুদ্রের এ গভীর অংশে পলিমাটি, সিন্ধুমল, আগ্নেয়গিরি থেকে উত্থিত লাভা ও সূক্ষ্ম ভস্ম প্রভৃতি সঞ্চিত হয়। এ সকল সঞ্চিত পদার্থ স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়।

স্থলভাগের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপান সৃষ্টি হয়। এছাড়া সমুদ্রতটে সমুদ্রতরঙ্গও ক্ষয়ক্রিয়ার দ্বারা মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে। অপরদিকে, আন্তঃমহাসাগরীয় অসংখ্য গিরিখাতের সমন্বয়ে মহীঢাল গঠিত। এ মহীঢাল মহাসাগরীয় শিলা বা সিমা দ্বারা পূর্ণ । মোট কথা মহীসোপান ও মহীঢালের গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের কোনো মিল নেই। সুতরাং ‘P’ ও ‘Q’-এর গাঠনিক প্রক্রিয়া একই রকম নয় বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন : ৯। সিলেট বোর্ড ২০২১

দৃশ্যকল্প-১ : হাসান পতেঙ্গা বন্দরে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ করল, নদীপথের জলযানগুলো বন্দরের দিকে মুখ করে চড়ায় আটকে আছে।’

দৃশ্যকল্প-২ : হাসান সেখানে বেশকিছু সময় অবস্থান করার পর দেখল আটকে থাকা জলযানগুলো উপকূলের দিকে আসতে শুরু করেছে।

ক. মহীঢাল কাকে বলে?
খ. উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এর ঘটনাটির কারণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনাটি ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ”— উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দাও।

৯নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ মহীসোপানের শেষ সীমা থেকে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সঙ্গে মিশে যায়। এ ঢালু অংশকে। মহীঢাল বলে।

খ) উত্তরঃ উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়ে জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হয়।

উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে অল্পস্থানব্যাপী উষ্ণতার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণিবাতের সৃষ্টির ফলে প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। ফলে জাহাজ ও বিমান চলাচলে অসুবিধা দেখা দেয়। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে এরূপ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য জাহাজ ও বিমান চলাচলে অসুবিধা

গ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-১ এর ঘটনাটি হলো ভাটা।

পৃথিবীর মোট পানিরাশির পরিমাণ সব জায়গায় সমান। পৃথিবীর এক অংশে যখন মুখ্য জোয়ার ও তার বিপরীত অংশে গৌণ জোয়ার হয়; তখন ঐ স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী সমকোণে অবস্থিত অংশদ্বয় থেকে পানিরাশি আগের স্থানদ্বয়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে পানিরাশি কমে যায়। ফলে ঐ স্থানদ্বয় ভাটার সৃষ্টি হয়। এভাবে একস্থানে প্রতিদিন দুইবার ভাটা হয় ।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ হাসান পতেঙ্গা বন্দরে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ করলো নদীপথে জলযানগুলো বন্দরের দিকে মুখ করে চড়ায় আটকে আছে। কারণ নদীতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ভাটা হয়। জাহাজগুলো উপকূলে পৌছার পূর্বেই ভাটা এসে পড়ায় চড়ে আটকে যায়। সুতরাং হাসানের দেখা দৃশ্যকল্প-১ এর ঘটনার কারণ ভাটা।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের হাসান দেখা দৃশ্যকল্প-১ ভাটা এবং উদ্দীপক-২ জোয়ার। এ জোয়ারভাটা ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ— উক্তিটি যথার্থ।

জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয় । জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পানি অধিক হয় বলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়। আবার ভাটার টানে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশের দুটি প্রধান সামুদ্রিক বন্দর পতেঙ্গা ও মংলা এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর সচল রাখতে, জোয়ারভাটার ভূমিকা রয়েছে।

জোয়ারভাটার ফলে নদীর পানি স্বল্প পরিমাণে লবণাক্ত হওয়ায় শীতে সহজে জমে যায় না। ফলে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলেও শীতে নদীর পানি জমে এবং নৌচলাচলের যোগ্য থাকে। এ কারণেই ইংল্যান্ডের অনেক নদীবন্দর বারো মাস বরফমুক্ত থাকে।

জোয়ারভাটা বণ্টন বা বিন্যাসের সহায়ক হওয়ায় জৈবিকভাবে প্লাংকটন জন্মায় ও বংশবৃদ্ধি করে। এই প্লাংকটন মাছের অতি প্রিয় খাদ্য, যা মৎস্য চাষ ও শিকার শিল্পের সহায়ক। জোয়ারের সময় নদী পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকাগুলোতে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি ধরে রেখে চিংড়ি চাষ করা হয়। ফলে বহু দেশ (যেমন- বাংলাদেশ) চিংড়ি রপ্তানি করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে।

প্রশ্ন : ১০। বরিশাল বোর্ড ২০২১

দৃশ্যপট-১ : গ্রীষ্মের ছুটিতে রাফি ভোলা দ্বীপের কাছে বেড়াতে গিয়ে দেখল, নৌকাগুলো কাদায় আটকে আছে। আবার বিকালবেলায় নৌকাগুলো একই জায়গায় পানিতে ভাসছে।

দৃশ্যপট-২ : রাজন ডিসকভারি চ্যানেলে সমুদ্রতলদেশের একটি ভূমিরূপ দেখল যেখানে পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটারের কম এবং ভূমিরূপটি সামান্য কোণে ক্রমশ নিমজ্জিত।

ক. সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
খ. সমুদ্রের পানি উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে যায় কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যপট-২ এ কোন ভূমিরূপকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যপট-১ এর ঘটনাটির প্রভাব মূল্যায়ন কর।

১০নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ সমুদ্রের পানি একস্থান হতে অন্যস্থানে একটি নির্দিষ্ট ও গতিপথ অনুসরণ করে চলাচলকে সমুদ্রস্রোত বলে ।

খ) উত্তরঃ পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে সমুদ্রের পানি উত্তর গোলার্ধে দিকে বেঁকে যায়।

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এ উভয় কারণে ঘূর্ণায়মান পৃথিবী পৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। তাই সমুদ্রের পানি উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে যায় ।

গ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-২ এ মহীসোপান ভূমিরূপকে ইঙ্গিত করে ।

পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে ।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ রাজন ডিসকভারি চ্যানেলে সমুদ্র তলদেশের যে ভূমিরূপ দেখেছে, তার পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটারের কম এবং ভূমিরূপটি সামান্য কোণে ক্রমশ নিমজ্জিত। যা মহীসোপান ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং দৃশ্যকল্প-২ এ মহীসোপান ভূমিরূপকে ইঙ্গিত করে।

ঘ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-১ এর ঘটনাটিতে জোয়াভাটাকে বোঝানো হয়েছে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে ।

জোয়ারভাটার মাধ্যমে ভূখণ্ড হতে আবর্জনাসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। এ প্রক্রিয়ার ফলে নদীর মোহনাও পরিষ্কার থাকে। দৈনিক দুবার জোয়ারভাটা হওয়ার ফলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। জোয়ারভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়।

বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচকার্যে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়।

শীতপ্রধান দেশে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জোয়ারের সাহায্যে নদীতে প্রবেশ করে এবং এর ফলে নদীর পানি সহজে জমে না। আবার জোয়ারের সময় নিচু এলাকাগুলোতে সমুদ্রে লোনা পানি আটকিয়ে লবণ সংগ্রহ করা হয়। জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসায়-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পানি অধিক হয় বলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়। আবার ভাটার টানে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশের দুটি প্রধান সামুদ্রিক বন্দর পতেঙ্গা ও মংলা এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর সচল রাখতে জোয়ারভাটার ভূমিকা রয়েছে।

Leave a Comment