নবম-দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা ও এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার সাজেশন্স

অধ্যায়: ০৮ (মানব বসতি-Human Settlements)

  • এ আধ্যায়ের প্রাথমিক আলোচনা বিষয়াবলি:

পরিবেশের সাথে মানুষের অভিযোজনের প্রথম পদক্ষেপ হলো বসতি স্থাপন। মানুষ প্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানব বসতি গড়ে তোলে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভিন্নতার জন্য বিভিন্ন ধরনের বসতি গড়ে উঠেছে, যেমন- তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের এস্কিমোদের বরফের ঘরে এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামীণ বসতি দোচালা ও চৌচালা ধরনের বসতি দেখা যায়। আর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বসতিতে আধুনিক নকশা ও নির্মাণসামগ্রী প্রয়োগ করে উচ্চ অট্টালিকা তৈরি হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রামীণ ও শহর উভয় স্থানে বসতি বৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে। ফলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশেষভাবে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিবেশ দূষণ ব্যাপকভাবে হচ্ছে।

দৃশ্যকল্প-১ : রুমা তার বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখল, সেখানকার বাড়িগুলো খুব নিকটে এবং অধিবাসীদের মধ্যে সহমর্মিতা প্রবল ।

দৃশ্যকল্প-২ : আকাশ যেখানে বসবাস করে, সেখানকার অধিকাংশ লোকজন শিল্পভিত্তিক কর্মে নিয়োজিত। অপরদিকে তার বন্ধু সিপন যেখানে বাস করে, সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয় ।

ক. আর্দ্র অঞ্চলের বসতি কাকে বলে?
খ. সমরকন্দ নগরের উৎপত্তির কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত বসতি কোন ধরনের? বর্ণনা দাও।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে কোনটি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উপযুক্ত বলে তুমি মনে কর? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ পানীয় জলের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা বসতিকে বলা হয় আর্দ্র অঞ্চলের বসতি।

খ) উত্তরঃ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সমরকন্দ নগরের উৎপত্তি । প্রাচীনকাল থেকে যাতায়াত ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে বসতি গড়ে উঠেছে। নদী তীরবর্তী স্থানে নৌচলাচলের এবং সমভূমিতে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় এরূপ স্থানগুলোতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। এভাবে তাজিকিস্তানের সমতল ভূমিতে সমরকন্দ নগরের উৎপত্তি হয়েছে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি।

গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতিতে কোনো একস্থানে বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রিত হয়ে বসবাস করে। এ ধরনের বসতি আয়তনে ছোটগ্রাম হতে পারে, আবার পৌরও হতে পারে। এ ধরনের বসতিতে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম ও বাসগৃহের একত্রে সমাবেশ। সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যই বাসগৃহগুলোর মধ্যে পরস্পরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সমাজবদ্ধ জীব মানুষ তার নিজস্ব প্রয়োজনে এবং নিরাপত্তার জন্য একত্রে বসবাস করতে চায়। এছাড়া ভূপ্রকৃতি, উর্বর মাটি ও জলের উৎসের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।

দৃশ্যকল্প-১ এ রুমা তার বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখল, সেখানকার বাড়িগুলো খুব নিকটে এবং অধিবাসীদের মধ্যে সহমর্মিতা প্রবল।

এ ধরনের বৈশিষ্ট্যগুলো সংঘবদ্ধ বসতিতে দেখা যায়। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত বসতি গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি।

ঘ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-২ এ নগর বসতি ও গ্রামীণ বসতির কথা বলা হয়েছে। অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে নগর বসতি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উপযুক্ত বলে আমি মনে করি ।

শহরে বসতি সাধারণত অকৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ড দ্বারা পরিচালিত একটি অঞ্চলের সার্বিক দিকের উন্নয়নকে বোঝায়। অপরদিকে কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ড দ্বারা পরিচালিত এবং কৃষির সাথে সম্পৃক্ত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বাসকৃত অঞ্চলই হচ্ছে গ্রামীণ বসতি ।

শহর এলাকায় মানুষ কৃষিভিত্তিক পেশা পরিত্যাগ করে শিল্পভিত্তিক পেশায় আত্মনিয়োগ করে। শহর এলাকায় সেবামূলক কর্মকাণ্ড বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেমন- শহরাঞ্চলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি পরিলক্ষিত হয়। শহর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী শিক্ষাদীক্ষায় আধুনিক এবং এখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তথা শিল্পায়ন দ্রুততর বৃদ্ধি পেতে থাকে যে কারণে কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা বিরাজ করে ।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ কৃষিকেই তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। গ্রামাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল থাকে না। তাই এখানকার বসতিতে বিক্ষিপ্ত ধরনের কৃষিভিত্তিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। তবে অনুন্নত জীবনযাপন ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে বিক্ষিপ্ত রৈখিক, অনুকেন্দ্রিক ও গোষ্ঠীবদ্ধ প্রভৃতি বসতি পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং উল্লিখিত অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে শহরবসতি অর্থাৎ নগর বসতি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উপযুক্ত।

  • প্রশ্ন: ২। ঢাকা বোর্ড ২০২১

দৃশ্যকল্প-১: সুরমা আমেরিকার একটি নগরে বেড়াতে গিয়ে দেখল, সেখানে সিনেমা নির্মাণের কাজ চলছে। ঐখানে নির্মিত সিনেমাগুলো পৃথিবী বিখ্যাত।

দৃশ্যকল্প-২ : রাইসা তার খালার বাসায় বেড়াতে গিয়ে দেখল, সেখানকার লোকজন যানজটে অতিষ্ঠ এবং সেখানে রেললাইনের পাশে কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বসতি গড়ে উঠেছে।

ক. মানব বসতি কাকে বলে?
খ. প্রাচীনকালে নদী তীরবর্তী স্থানে বসতি গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত নগরটির বর্ণনা দাও।
ঘ. উদ্দীপকে রাইসার দেখা নগরটির সমস্যা সমাধানে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? আলোচনা কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়িভাবে বসবাস করলে তাকে মানব বসতি বলে।

খ) উত্তরঃ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার জন্য নদী তীরবর্তী স্থানে বসতি গড়ে উঠেছে।

প্রাচীনকাল থেকে যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে বসতি গড়ে উঠছে। নদী তীরবর্তী স্থানে নৌচলাচলের এবং সমতল ভূমিতে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় এরূপ স্থানগুলোতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে উঠেছে। মিশরের নীল নদের তীরবর্তী আলেকজান্দ্রিয়া ও তাজিকিস্তানের সমতল ভূমিতে সমরকন্দ নগরের এভাবেই উৎপত্তি হয়েছে।

গ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত নগরটি হলো সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপভিত্তিক নগর।

অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াও কোনো স্থানে বসতি গড়ে উঠতে পারে। ধর্মীয় কারণে শহর বা নগরের পত্তন দেখা যায়। কোনো মহাপুরুষের জন্মস্থান, কর্মভূমি বা সমাধিস্থানকে অবলম্বন করে একটি স্থায়ী বসতির বিকাশ ঘটতে পারে। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কোনো স্থানে স্থাপিত হলে সেখানে বসতির বিকাশ ঘটে। চিত্রকলা ও চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর ভিত্তি করেও নগর গড়ে ওঠে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড চলচ্চিত্র সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ সুরমা আমেরিকা হলিউড নগরে বেড়াতে গিয়ে দেখলেন, সেখানে পৃথিবী বিখ্যাত সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। এ নগরটি সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর ভিত্তি করে অর্থাৎ চলচ্চিত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ নগরটি সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপভিত্তিক নগর ।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে রাইসার দেখা বসতি হলো নগর বসতি। নগর বসতি বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ফলে দেখা দেয় যানজট ও বস্তি সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা।

উদ্দীপকের সমস্যার সমাধানকল্পে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

>> ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের প্রসার এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

>> শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ করে শহরের চাপ কমানো।

>> পল্লি উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া। ঘটানো।

>> কৃষিভিত্তিক যেসব শিল্প রয়েছে, সেসব শিল্পের প্রসার ঘটানো। পাশাপাশি কৃষির আধুনিকায়ন করা।

>> শহরের সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তার ঘটানো।

>> ট্রাফিক আইন ও যানবাহন আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

>> পরিকল্পিতভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

>> নগরে বসবাসকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যে পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্রমান্বয়ে বস্তি উচ্ছেদ করা।

>> নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

>> নগর জনগণকে পরিবেশ আইন ও সামাজিক বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

উপরিউক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে মানুষের শহরমুখী প্রবণতা কমে আসবে। তখন রেললাইনের পাশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বসতি অর্থাৎ বসতি কমে আসবে এবং যানজট দূর হবে। তবেই রাইসার দেখা নগরের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

  • প্রশ্ন: ৩। রাজশাহী বোর্ড ২০২১

দৃশ্যকল্প-১ : মিজান ভারতের একটি নগরে বেড়াতে গেল, যেটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিখ্যাত।

দৃশ্যকল্প-২: মামুন যে বসতিতে বাস করে সেখানে বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা ভূমিনির্ভর। অপরদিকে তার বন্ধু রশিদ যে বসতিতে বাস করে সেখানকার অধিবাসীদের পেশা ভিন্ন ধরনের ও ঘরবাড়িগুলো উঁচু উঁচু।

ক. প্রশাসনিক নগর কাকে বলে?
খ. পদ্মা নদীর তীরে কোন ধরনের বসতি গড়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত নগরটি কোন ধরনের ব্যাখ্যা কর।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত বসতি দুটির মধ্যে কোনটিতে নাগরিক সুবিধা বেশি? যুক্তিসহ মতামত দাও ।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে নগর গড়ে ওঠে তাকে প্রশাসনিক নগর বলে ।

খ) উত্তরঃ পদ্মা নদীর তীরে রৈখিক বসতি গড়ে উঠেছে।

রৈখিক বসতিতে বাড়িগুলো একই সরলরেখায় গড়ে ওঠে। প্রধানত প্রাকৃতিক এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক কারণ এ ধরনের বসতি গড়ে উঠতে সাহায্য করে। রৈখিক বসতি নদীর প্রাকৃতিক বাঁধ, নদীর কিনারা, রাস্তার কিনারা প্রভৃতি স্থানে গড়ে ওঠে ।

গ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত নগরটি হলো সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপভিত্তিক নগর।

অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াও কোনো স্থানে বসতি গড়ে উঠতে পারে। ধর্মীয় কারণে শহর বা নগরের পত্তন দেখা যায়। কোনো মহাপুরুষের জন্মস্থান, কর্মভূমি বা সমাধিস্থানকে অবলম্বন করে একটি স্থায়ী বসতির বিকাশ ঘটতে পারে। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কোনো স্থানে স্থাপিত হলে সেখানে বসতির বিকাশ ঘটে। চিত্রকলা ও চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর ভিত্তি করেও নগর গড়ে উঠে। ভারতের মুম্বাই চলচ্চিত্রের জন্য বিখ্যাত। এ শহর সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে।

উদ্দীপকের মিজান ভারতের মুম্বাই নগরে বেড়াতে গিয়ে দেখলেন, সেখানে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। এ নগরটি চলচ্চিত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এ নগরটি সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপভিত্তিক নগর।

ঘ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত বসতি দুটি হলো গ্রামীণ ও শহরে বসতি। বসতি দুটির মধ্যে শহুরে বসতিতে নাগরিক সুবিধা বেশি। শহর এলাকায় মানুষ কৃষিভিত্তিক পেশা পরিত্যাগ করে শিল্পভিত্তিক পেশায় আত্মনিয়োগ করে। শহর এলাকায় সেবামূলক কর্মকাণ্ড বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেমনযেমন— শহরাঞ্চলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি পরিলক্ষিত হয়। শহর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী শিক্ষাদীক্ষায় আধুনিক এবং এখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তথা শিল্পায়ন দ্রুততর বৃদ্ধি পেতে থাকে যে কারণে কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা বিরাজ করে। তাই সেখানকার বসতিগুলোতে ঘনবসতি পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া শহরের মানুষ পাকা বাড়ি বা অট্টালিকায় বসবাস করে। অর্থাৎ শহরের বসতির মধ্যে উন্নত জীবনযাপন পরিলক্ষিত হয় ।

অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ কৃষিকেই তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। গ্রামাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল থাকে না। তাই এখানকার বসতিতে বিক্ষিপ্ত ধরনের কৃষিভিত্তিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। তবে অনুন্নত জীবনযাপন ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে বিক্ষিপ্ত রৈখিক, অনুকেন্দ্রিক ও গোষ্ঠীবদ্ধ প্রভৃতি বসতি পরিলক্ষিত হয়।

সুতরাং মামুন ও তার বন্ধু রশিদ যে বসতি অঞ্চলের অধিবাসী তাদের মধ্যে রশিদের বসতি অর্থাৎ শহরের বসতিতে নাগরিক সুবিধা সবচেয়ে বেশি।

  • প্রশ্ন: ৪। যশোর বোর্ড ২০২১

রতন ও বেলাল দুই বন্ধু। তারা গ্রামে বাস করে। রতনের গ্রামের বাড়িগুলো এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম, উর্বর মাটি ও বাসগৃহের একত্রে সমাবেশ। পক্ষান্তরে, বেলালের গ্রামের বাড়িগুলো দূরত্ব বেশি, উঁচু-নিচু প্রকৃতির এবং পরিবারগুলো ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় বসবাস করে।

ক. নগর বসতি কাকে বলে?
খ. বস্তি গড়ে ওঠার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর ।
গ. রতনের বসবাসকৃত বসতি গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. রতন ও বেলালের বসবাসকৃত বসতির মধ্যে কোনটি বসবাসের জন্য বেশি উপযোগী বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ যে বসতি অঞ্চলে অধিকাংশ অধিবাসী প্রত্যক্ষ ভূমি ব্যবহার ব্যতীত অন্যান্য অকৃষিকার্য পেশায় নিয়োজিত থাকে, তাকে নগর ‘বসতি বলে ৷

খ) উত্তরঃ দরিদ্র শ্রেণির লোকদের আবাসস্থলের সমস্যার কারণে বস্তি গড়ে ওঠে।

গ্রাম থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বহু লোক শহরে আসে। এদের কেউ গাড়ি চালায়, কেউ ঠেলাগাড়ি, কেউ গার্মেন্টসে কাজ করে, কেউ রিক্সা চালায় । এদের সবারই আয় খুব কম। এই সীমিত আয় দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণে এই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরা রেললাইনের দু’পাশে, পতিত আবর্জনাযুক্ত এলাকায় বসতি স্থাপন করে যা বস্তি নামে পরিচিত।

গ) উত্তরঃ রতনের বসবাসকৃত বসতি হলো গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি । যে ধরনের বসতিতে কোনো একস্থানে বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রিত হয়ে বসবাস করে, তাকে গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি বলে। এ ধরনের বসতিতে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম ও বাসগৃহের একত্রে সমাবেশ। এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠার কারণগুলো নিম্নরূপ-

>> সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গড়ে ওঠে।

>> নিজস্ব প্রয়োজনে এবং নিরাপত্তার জন্য গড়ে ওঠে।

>> যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার জন্য গড়ে ওঠে ।

>> ভূপ্রকৃতি, উর্বর মাটি ও জলের উৎসের সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

ঘ) উত্তরঃ রতন ও বেলালের বসবাসকৃত বসতিদ্বয় হলো যথাক্রমে সংঘবদ্ধ বসতি এবং বিক্ষিপ্ত বসতি। এ বসতিদ্বয়ের মধ্যে সংঘবদ্ধ বসতি বসবাসের জন্য বেশি উপযোগী ।

গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতিতে কোনো একস্থানে বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রিত হয়ে বসবাস করে। এ ধরনের বসতি আয়তনে ছোটগ্রাম হতে পারে, আবার পৌরও হতে পারে। এ ধরনের বসতিতে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম ও বাসগৃহের একত্রে সমাবেশ। সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যই বাসগৃহগুলোর মধ্যে পরস্পরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সমাজবদ্ধ জীব মানুষ তার নিজস্ব প্রয়োজনে এবং নিরাপত্তার জন্য একত্রে বসবাস করতে চায়। এছাড়া ভূপ্রকৃতি, উর্বর মাটি ও জলের উৎসের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।

অপরদিকে, বিক্ষিপ্ত বসতিতে পরিবারগুলো ছড়ানো ছিটানো থাকে । যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় এ ধরনের বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠে। অধিবাসীদের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবধান লক্ষ করা যায়। বন্ধুর বা পার্বত্য ভূমিতে এ ধরনের বসতি দেখা যায়। এ ধরনের বসতি অঞ্চলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকে না। ভূমি ও কৃষি অনুপোযোগী।

সুতরাং রতন ও বেলালের বসবাসকৃত বসতির মধ্যে বেলালের বসতি অর্থাৎ সংঘবদ্ধ বসতি বসবাসের জন্য বেশি উপযোগী ।

  • প্রশ্ন: ৫। কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

রাকিব ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বেড়াতে গিয়ে দেখল তার এলাকায় আকশচুম্বী অট্টালিকা রয়েছে কিন্তু রাস্তার ধারে বাড়ি বানিয়ে কিছু লোক বসবাস করছে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে একবারে বসতি কম।

ক. গ্রামীণ বসতি কাকে বলে?
খ. চট্টগ্রাম শহর গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর ।
গ. রাকিবের এলাকার বসতি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. রাকিবের দেখা বসতি দুটির মধ্যে কোনটি সহজে গড়ে ওঠে? সপক্ষে যুক্তি দাও।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ যে বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী জীবিকা অর্জনের জন্য প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষত কৃষির ওপর নির্ভরশীল সেই বসতিকে গ্রামীণ বসতি বলে।

খ) উত্তরঃ চট্টগ্রাম শহর গড়ে উঠার মূল কারণ বাণিজ্যিক সুবিধা। সভ্যতার আদি পর্ব হতে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে দ্রব্য বিনিময়ের প্রথা চালু হয় এবং বিনিময়কে কেন্দ্র করে একটি বাজার সৃষ্টি হয়। এ সকল স্থানীয় বাজার বিভিন্ন দিক থেকে আগত পথের মিলনস্থলে গড়ে ওঠে। শহর ও নগর বিকাশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আজও অত্যন্ত ক্রিয়াশীল। এভাবে কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম শহর গড়ে উঠেছে।

গ) উত্তরঃ রাকিবের এলাকার বসতি শহরে বসতি।

শহরে বসতি সাধারণত অকৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ড দ্বারা পরিচালিত একটি অঞ্চলের সার্বিক দিকের উন্নয়নকে বোঝায়। শহর এলাকায় মানুষ কৃষিভিত্তিক পেশা পরিত্যাগ করে শিল্পভিত্তিক পেশায় আত্মনিয়োগ করে। শহর এলাকায় সেবামূলক কর্মকাণ্ড বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেমন- শহরাঞ্চলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি পরিলক্ষিত হয় । শহর অঞ্চলের জনগোষ্ঠী শিক্ষা-দীক্ষায় আধুনিক এবং এখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তথা শিল্পায়ন দ্রুততর বৃদ্ধি পেতে থাকে যে কারণে কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বিরাজ করে। তাই সেখানকার বসতিগুলোতে ঘনবসতি পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া শহরের মানুষ পাকা বাড়ি বা অট্টালিকায় বসবাস করে। অর্থাৎ শহরের বসতির মধ্যে উন্নত জীবনযাপন পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের রাকিবের এলাকায় আকাশচুম্বী অট্টালিকা রয়েছে যা শহর বসতিতে দেখা যায়। তাই রাকিবের এলাকার বসতি শহরে বসতি ।

ঘ) উত্তরঃ রাকিবের দেখা বসতি দুটি হলো বিক্ষিপ্ত বসতি ও রৈখিক । এ দুয়ের মধ্যে রৈখিক বসতি সহজে গড়ে ওঠে।

যে ধরনের বসতিতে একটি পরিবার অন্যান্য পরিবার থেকে -ছিটানো অবস্থায় বসবাস করে তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলে। এ ধরনের বসতিতে দুটি বাসগৃহ বা বসতির মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান। পরিবারভুক্ত বসতি এবং অধিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠার পেছনে কতকগুলো প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ কাজ করে। পৃথিবীর অধিকাংশ বিক্ষিপ্ত বসতি বন্ধুর ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। বন্ধুর ভূপ্রকৃতিতে যেমন কৃষিকাজের জন্য সমতলভূমি পাওয়া যায় না, তেমনি এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও কষ্টসাধ্য। এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ জলাভাব, জলাভূমি ও বিল অঞ্চল, ক্ষয়িত ভূমিভাগ, বনভূমি, অনুর্বর মাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত বসতির জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, রৈখিক ধরনের বসতিতে বাড়িগুলো একই সরলরেখায় গড়ে ওঠে । প্রধানত প্রাকৃতিক এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক কারণ এ ধরনের বসতি গড়ে উঠতে সাহায্য করে। নদীর প্রাকৃতিক বাঁধ, নদীর কিনারা, রাস্তার কিনারা প্রভৃতি স্থানে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে। মূলত বন্যামুক্ত এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।

উদ্দীপকের বিক্ষিপ্ত বসতি এলাকার ভূপ্রকৃতি বন্ধুর কিন্তু রৈখিক বসতি এলাকার ভূপ্রকৃতি সমতল। এছাড়া রৈখিক বসতিতে বিক্ষিপ্ত বসতির তুলনায় যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় রৈখিক বসতি সহজে গড়ে ওঠে।

  • প্রশ্ন: ৬। কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

দৃশ্যকল্প-১ : তানজিমের শহর ঢাকায় সে লক্ষ করল গ্রাম থেকে অনেক মানুষের আগমনের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বস্তি।

দৃশ্যকল্প-২ : তাকিয়া চট্টগ্রামের একটি কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্রিটেনে যায় ।

ক. সংঘবদ্ধ বসতি কাকে বলে?
খ. সিরিয়ার দামেস্ক কোন ধরনের নগরী? ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এর বর্ণিত সমস্যা পরিবেশের ব্যাপক অবক্ষয় ঘটাতে পারে- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এর নগর দুটি কি একই ধরনের? বিশ্লেষণ করে মতামত দাও।

৬নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ যে ধরনের বসতিতে কোনো একস্থানে বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রিত হয়ে বসবাস করে তাকে সংঘবদ্ধ বসতি বলে।

খ) উত্তরঃ সিরিয়ার দামেস্ক বাণিজ্য নগরী।

সভ্যতার আদি পর্ব হতে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে দ্রব্য বিনিময়ের প্রথা চালু হয় এবং বিনিময়কে কেন্দ্র করে একটি বাজার সৃষ্টি হয়। এ সকল স্থানীয় বাজার বিভিন্ন দিক থেকে আগত পথের মিলনস্থলে গড়ে ওঠে। শহর ও নগর বিকাশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আজও অত্যন্ত ক্রিয়াশীল। মহাদেশীয় স্থলপথকে প্রাচীনকালে সিরিয়ার দামেস্ক বাণিজ্য নগরী গড়ে ওঠে। অবলম্বন করে

গ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-১ এর বর্ণিত সমস্যা হচ্ছে বস্তি সমস্যা।

গ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বস্তি। যার ফলে সৃষ্টি হয় দূষিত পরিবেশ এবং ক্রমান্বয়ে ব্যাপক

পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। বস্তি সমস্যা পরিবেশে ব্যাপক অবক্ষয় ঘটাতে পারে। নিম্নে তা দেখানো হলো-

>> রেল লাইনের দুপাশে, নোংরা এবং পরিত্যক্ত জায়গায় আবার কোথাও কোথাও আবাসিক একার রাস্তার পাশ দিয়ে বসতি গড়ে তুলে। এসব ঘরগুলো বস্তা, পলিথিন বা ফেলে দেওয় নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি দুর্বল অবকাঠামো। নেই কোনো টয়লেট। ফলে যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

>> গ্রাম থেকে আসা অধিকাংশ মানুষই ঠেলাগাড়ি, কেউ রিকশা চালায়। কেউবা ভ্যানে করে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছে। তাদের মধ্যে ট্রাফিক ও যানচলাচল আইন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট।

>> পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা না থাকা, শিক্ষার অভাব, কর্মসংস্থানহীন মানুষ বস্তি এলাকায় বসবাস করায় এসব এলাকা তৈরি হচ্ছে নেশাগ্রস্তদের আস্তানা এবং অপরাধ চক্রের কেন্দ্ৰবিন্দু।

ঘ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-২ এ নগর দুটি হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ। চট্টগ্রাম নগর হলো বাণিজ্যভিত্তিক নগর এবং অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ সাংস্কৃতিক ও ক্রিয়াকলাপভিত্তিক নগর। নগর দুটি একই ধরনের নয়।

সভ্যতার আদি পর্ব হতে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে দ্রব্য বিনিময়ের প্রথা চালু হয় এবং বিনিময়কে কেন্দ্র করে একটি বাজার সৃষ্টি হয়। এ সকল স্থানীয় বাজার বিভিন্ন দিক থেকে আগত পথের মিলনস্থলে গড়ে ওঠে। শহর ও নগর বিকাশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আজও অত্যন্ত ক্রিয়াশীল । এভাবে কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম শহর গড়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াও কোনো ধর্মীয় কারণে শহর বা নগরের পত্তন দেখা যায়। কোনো মহাপুরুষের জন্মস্থান, কর্মভূমি বা সমাধি স্থানকে অবলম্বন করে একটি স্থায়ী বসতির বিকাশ ঘটতে পারে। মক্কা, মদিনা, জেরুজালেম, আজমীর, গয়া, বারানসী প্রভৃতি এরূপ ক্রিয়াকলাপভিত্তিক শহর। বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি কোনো স্থানে স্থাপিত হলে সেখানে বসতির বিকাশ ঘটে। প্রাচীন ভারতের নালন্দা, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ ইতালির পিসা নগরী প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নগর।

সুতরাং দৃশ্যকল্প-২ এর নগর দুটি বাণিজ্যভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপভিত্তিক নগর। তাই নগর দুটি ভিন্ন প্রকৃতির।

  • প্রশ্ন: ৭।  চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

দৃশ্যকল্প-১ : ছন্দা অস্ট্রেলিয়ার মেষপালন অঞ্চলের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে পারল যে, সেখানে ছোট ছোট পরিবার বাস করে। এবং একটি বাড়ির সাথে আর একটি বাড়ির দূরত্ব অনেক।

দৃশ্যকল্প-২ : সাবিহা যে এলাকায় বাস করে সেখানে একে অপরের সাথে সামাজিক সম্পর্ক বেশ ভালো এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। বেশ উন্নত।

দৃশ্যকল্প-৩ : দিগন্ত যেখানে বাস করে সেখানে বাড়িগুলো রাস্তার। ধারে বা নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে।

ক. বসতি কাকে বলে?
খ. মরুময় অঞ্চলে মানুষ সংঘবদ্ধ বসতি গড়ে তোলে কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-৩ এ দিগন্তের বসবাসকৃত এলাকায় কোন ধরনের বসতি গড়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর বসতির ভিন্নতার কারণ শুধুমাত্রই কী ভূপ্রকৃতি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ কর।

৭নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ যে বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী জীবিকা অর্জনের জন্য প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষত কৃষির ওপর নির্ভরশীল সেই বসতিকে গ্রামীণ বসতি বলে।

খ) উত্তরঃ পানি ও জলের সহজলভ্যতার জন্য মরুময় অঞ্চলে মানুষ সংঘবদ্ধ বসতি গড়ে তোলে।

জীবনধারণের জন্য মানুষের প্রথম ও প্রধান চাহিদা হলো বিশুদ্ধ পানীয় জল । এজন্য নির্দিষ্ট জলপ্রাপ্যতার স্থানে মানুষ বসতি গড়ে তোলে। মরুময় এবং উপমরুময় অঞ্চলে ঝরনা অথবা প্রাকৃতিক কূপের চারদিকে মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে বসতি স্থাপন করে।

গ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-৩ এ দিগন্তের বসবাসকৃত এলাকায় রৈখিক বসতি গড়ে উঠেছে।

রৈখিক ধরনের বসতিতে বাড়িগুলো একই সরলরেখায় গড়ে ওঠে। প্রধানত প্রাকৃতিক এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক কারণ এ ধরনের বসতি গড়ে উঠতে সাহায্য করে। নদীর প্রাকৃতিক বাঁধ, নদীর কিনারা, রাস্তার কিনারা প্রভৃতি স্থানে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে। মূলত বন্যামুক্ত এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।

দৃশ্যকল্প-৩ এ দিগন্তের বসবাসকৃত এলাকার বাড়িগুলো রাস্তার ধারে বা নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে। এ ধরনের বসতির সাথে রৈখিক বসতির মিল পাওয়া যায়। সুতরাং দৃশ্যকল্প-৩ এ রৈখিক বসতি গড়ে উঠেছে ।

ঘ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-১ হলো বিক্ষিপ্ত বসতি এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি। এ বসতিদ্বয়ের মধ্যে ভূপ্রকৃতি ছাড়াও ভিন্নতা রয়েছে।

যে বসতিতে একটি পরিবার অন্যান্য পরিবার থেকে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় বসবাস করে তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলে। এ বসতিতে দুটি বাসগৃহ বা বসতির মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে। অতিক্ষুদ্র পরিবারভুক্ত অধিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ বিক্ষিপ্ত বসতি বন্ধুর ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। বন্ধুর ভূপ্রকৃতিতে যেমন কৃষিকাজের জন্য সমতলভূমি পাওয়া যায় না, তেমনি এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও কষ্টসাধ্য। বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ জলাভাব, জলাভূমি ও বিল অঞ্চল, ক্ষয়িত ভূমিভাগ, বনভূমি, অনুর্বর মাটি ।

অন্যদিকে, যে বসতিতে কোনো একস্থানে বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রিত হয়ে বসবাস করে তাকে গৌষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি বলে। এই ধরনের বসতি আয়তনে ছোটগ্রাম হতে পারে, আবার পৌরও হতে পারে। এই ধরনের বসতির যে লক্ষণ চোখে পড়ে তা হলো এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম ও বাসগৃহের একত্রে সমাবেশ। সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যই বাসগৃহগুলোর মধ্যে পরস্পরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। যদি স্থানটি আর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নত হয়, তবে সেখানে আরও বসতি ও রাস্তা গড়ে উঠবে। এভাবে একাধিক রাস্তার সংযোগস্থলে বর্ধিষ্ণু বসতিটি কালক্রমে শহর বা নগরে রূপান্তরিত হবে। সমাজবদ্ধ জীব মানুষ তার নিজস্ব প্রয়োজনে এবং নিরাপত্তার জন্য একত্রে বসবাস করতে চায়। এছাড়া ভূপ্রকৃতি, উর্বর মাটি ও জলের উৎসের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।

সুতরাং উপযুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর বসতির মধ্যে ভূপ্রকৃতিগত ভিন্নতা ছাড়াও আরও অনেক ভিন্নতা রয়েছে।

Leave a Comment