২০২১ সকল বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

অধ্যায় ০৭: মান ব্যবস্থাপনা – Quality Management

প্রাথমিক আলোচনা Primary Discussion

মান ব্যবস্থাপনার চারটি প্রধান উপাদান হলো মান পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, মানের নিশ্চয়তা বিধান এবং মান উন্নয়ন। মান ব্যবস্থাপনা কেবল পণ্যের মান নিশ্চিত করে না পাশাপাশি কীভাবে মান অর্জিত হবে সে ব্যাপারেও নিশ্চয়তা দান করে। মান নিয়ন্ত্রণ করা উৎপাদন ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য কাজ । মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অপচয় ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়, পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি পায়, ভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা তিনটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। যথা- ভোক্তা বা ক্রেতা সন্তুষ্টি, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্পৃক্ততা, গুণগতমান ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন। মান ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে BSTI ও ISO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • মান ব্যবস্থাপনা

প্রশ্ন ১। ক্রেতাদের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশকে কী বলে?

উ: মান নিয়ন্ত্রণ ।

প্রশ্ন ২। ক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণের অবস্থাকে কী বলে?

উ: মান ব্যবস্থাপনা ।

  • মান ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য ও উপাদান

প্রশ্ন ৩। মান ব্যবস্থাপনা কী নির্দেশ করে?

উ: নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশ্ন ৪। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে কোনটি  গুরুত্বপূর্ণ?

উ: গ্রাহক সেবা প্রদান ।

প্রশ্ন ৫। মান ব্যবস্থাপনা কী ধরনের কাজ?

উ: দলগত ।

  • মান ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি ও গুরুত্ব

প্রশ্ন ৬। আধুনিক ব্যবস্থাপনা কোন দিকটিকে অধিক গুরুত্ব দেয়?

উ: পণ্যের মান ।

প্রশ্ন ৭। মান ব্যবস্থাপনা কোন বিষয়টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়?

উ: ভোক্তা ।

প্রশ্ন ৮। মানসম্মত উৎপাদন বলতে কী বোঝায়?

উ: মানসম্মত কর্মী

  • সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা

প্রশ্ন ৯। বেঞমার্কিং-এর মাধ্যমে কোনটি সম্ভব?

উ: পণ্যের মান বৃদ্ধি।

প্রশ্ন ১০। প্রশিক্ষণের যে কয়টি পদ্ধতি আছে তার মাধ্যে অন্যতম কোনটি?

উ: হাতে কলমে প্রশিক্ষণ।

  • মান ব্যবস্থাপনার দর্শন বা নীতি

প্রশ্ন ১১। বর্তমানে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?

উ: মানসম্মত পণ্য উৎপাদন।

প্রশ্ন ১২। মান ব্যবস্থাপনার অন্যতম নীতি কোনটি?

উ: ক্রেতা সন্তুষ্টি

প্রশ্ন ১৩। মান ব্যবস্থাপনা কী ধরনের প্রক্রিয়া?

উ: ধারাবাহিক।

প্রশ্ন ১৪। মান ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ কোনটি?

উ: গ্রাহকদের সন্তুষ্টি।

  • নিম্নমানের পণ্য ও উৎপাদনজনিত খরচ

প্রশ্ন ১৫। নিম্নমানের পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় যে ব্যয় নির্ধারিত হয় তাকে কী বলে?

উ: উৎপাদনজনিত খরচ।

প্রশ্ন ১৬। পণ্যমান কী?

উ: নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া।

প্রশ্ন ১৭। প্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণ কী?

উ: নিম্নমানের পণ্য।

  • প্রতিরোধমূলক ব্যয়

প্রশ্ন ১৮। কোনো পণ্যের ত্রুটি সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তা রোধের জন্য যে ব্যয় করা হয় তাকে কী ধরনের ব্যয় বলে?

উ: প্রতিরোধমূলক ।

প্রশ্ন ১৯। উৎপাদন সরলীকরণের সাথে যে ব্যয় অন্তর্ভুক্ত তাকে কী বলে?

উ: পণ্য পুনঃনকশাকরণ।

  • মূল্যায়ন ব্যয়

প্রশ্ন ২০। পরিচালন পদ্ধতির দ্বারা অর্জিত মানের স্তর নির্ধারণে কোন ব্যয় সংঘটিত হয়?

উ: মূল্যায়ন।

প্রশ্ন ২১। পণ্যের নিম্নমান পরিমাপ করতে পরিদর্শনের জন্য ব্যয়িত অর্থকে কী বলে?

উ: পরিদর্শন ব্যয়।

প্রশ্ন ২২। নিম্নমানের কারণ উদ্ভাবনে অর্থ ব্যয় করাকে কী ধরনের ব্যয় বলে?

উ: পরীক্ষণ।

  • অভ্যন্তরীণ বিচ্যুতি বা ব্যর্থতার ব্যয়

প্রশ্ন ২৩। পণ্য বা সেবা উৎপাদনের সময় নষ্ট হওয়া পণ্য উদ্ধারজনিত ব্যয়কে কী বলে?

উ: অভ্যন্তরীণ বিচ্যুতি।

প্রশ্ন ২৪। উৎপাদনের সময় পণ্য পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস হলে তাকে কী বলে?

উ: উৎপাদন ক্ষতি

প্রশ্ন ২৫। উৎপাদনের সময় পণ্য নষ্ট হলে তা পরবর্তীতে কী করা হয়?

উ: ধ্বংসাবশেষ হিসেবে ধরা হয়।

প্রশ্ন ২৬। পুনঃকার্য ব্যয়ের পণ্য পরবর্তীতে কী করা হয়?

উ: মেরামত

প্রশ্ন ২৭। ব্যর্থতা ব্যয় কয় ধরনের?

উ: ২ প্রকার।

  • বাহ্যিক ব্যর্থতা বা বিচ্যুতি ব্যয়

প্রশ্ন ২৮। ক্রেতাসাধারণ কর্তৃক পণ্য বা সেবা গ্রহণের পর যে ব্যয় সংঘটিত হয় তাকে কী বলে?

উ: বিচ্যুতি ব্যয় |

প্রশ্ন ২৯। বিচ্যুতি ব্যয় কত ধরনের?

উ: ২

প্রশ্ন ৩০। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন ব্যয় ঋণাত্মক ধারণা প্রদান করে?

উ: বাহ্যিক ব্যর্থতা।

প্রশ্ন ৩১। উৎপাদকের সাথে ক্রেতার লিখিত চুক্তি কোনটি?

উ: ওয়ারেন্টি

প্রশ্ন ৩২। ওয়ারেন্টি ব্যয় কখন বিবেচিত হয়?

উ: পণ্য বিক্রয়ের পর মান ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

প্রশ্ন ৩৩ । শিল্প বিপ্লবের পূর্বে উৎপাদনকার্য কীভাবে পরিচালিত হতো?

উ: পারিবারিকভাবে।

প্রশ্ন ৩৪। শিল্প বিপ্লবের শুরুতে উৎপাদিত পণ্য কোন ধরনের বাজারে বিক্রি হতো?

উ: স্থানীয় বাজারে।

প্রশ্ন ৩৫। পণ্যের মান ক্রেতাদের কোন ধরনের ধারণাকে ব্যক্ত করে?

উ: প্রত্যাশিত ধারণাকে।

  • ধারণা ও বিবেচ্য বিষয়

প্রশ্ন ৩৬। মান নির্ধারণের প্রভাববিস্তারকারী উপাদান কোনটি?

উ: বাজার।

প্রশ্ন ৩৭। মান নির্ধারণের কাজ কে করে থাকেন?

উ: ব্যবস্থাপক।

প্রশ্ন ৩৮। পণ্যের কাঙ্ক্ষিত ক্রেতাদেরকে কী বলে?

উ: বাজার মান নির্ধারণের পদক্ষেপ।

  • মান নির্ধারণের পদক্ষেপ

প্রশ্ন ৩৯। মান ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ কোনটি?

উ: মান নির্ধারণ করা।

প্রশ্ন ৪০। পণ্য বা সেবার মান নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য কী?

উ: ক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণ

  • মান নির্ধারণে স্থানীয় সংস্থার ভূমিকা/বিএসটিআই-এর ভূমিকা

প্রশ্ন ৪১। মান নির্ধারণের জন্য কোন সরকার ১৯৫৬ সালে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে?

উ: তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার।

প্রশ্ন ৪২। বিএসটিআই-এর কয়টি ডিভিশন কাউন্সিল রয়েছে?

উ: ৬টি

প্রশ্ন ৪৩। ‘সেন্ট্রাল টেস্টিং ল্যাবরেটরিজ’ কোথায় প্রতিষ্ঠা করা হয়?

উ: বাংলাদেশে।

  • মান নির্ধারণের আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা

৪৪। ISO এর কোন দলিলটি ২০টি দিকের ওপর দৃষ্টিপাত করে?

উ: ISO-9001 |

৪৫। ISO 9001 মানদণ্ডটি মানসংক্রান্ত কতটি দিকের ওপর দৃষ্টিপাত করে?

উ: ২০ টি।


প্রশ্ন ১। ঢাকা বোর্ড ২০২১

নাটোরের বেকারি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘শাহী ফুড’-এর মালিক পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সর্বদাই ক্রেতাদের সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং পণ্য মানের ধারাবাহিকতার প্রতি গুরুত্ব দেন। ফলে মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় । সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্রয় শাখা খুলেছে। কিন্তু শহরের শিক্ষিত ও সচেতন ক্রেতারা পণ্যের প্যাকেটে কিছু তথ্য ও মান প্রকাশ করে- এমন একটি চিহ্ন না দেখে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ক্রয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে।

ক. মান ব্যবস্থাপনা কী?

খ. “মান নিয়ন্ত্রণ ক্রেতা সৃষ্টি ও ক্রেতার সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের চাহিদা স্থানীয় বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. শিক্ষিত ও সচেতন ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ে অনীহা দূরীকরণে ‘শাহী ফুড’-এর মালিকের করণীয় যুক্তিসহ সুপারিশ কর ।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মানসংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রমকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।

খ) উত্তরঃ পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে।

মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্যের মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব। এতে পণ্য ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ক্রেতাদের মনে আগ্রহের সৃষ্টি করে এবং তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হয়। উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে সম্পাদিত কাজের তুলনা করা হয় এবং কোনোরূপ বিচ্যুতি লক্ষ করা গেলে তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যার মাধ্যমে ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করা যায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন নতুন ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা যায় ।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান পণ্যের চাহিদা স্থানীয় বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হচ্ছে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা।

যে ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হয় তাকে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা বলে। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মীদের সম্পৃক্তকরণ।

উদ্দীপকের নাটোরের বেকারি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শাই ফুড’-এর মালিক পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সর্বদাই ক্রেতাদের সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং পণ্য মানের ধারাবাহিকতার প্রতি গুরুত্ব দেন ফলে মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের শাহী ফুডের মালিক পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন তা সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার প্রধান দর্শন। যেখানে পণ্য-সেবা ও ব্যবসায় প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নের জন্য কোম্পানির সকল লোক কাজ করে। যার দরুন পণ্যের মান ভালো হয় এবং স্থানীয় বাজারে পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় ।

ঘ) উত্তরঃ ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ে অনীহা দূরীকরণে ‘শাহী ফুড’-এর মালিকের বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (BSTI) থেকে মানসনদ সংগ্রহ করা এবং (BSTI) এর সিল ব্যবহার করা ।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের মান নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (BSTI)।

BSTI-এর মূল কাজ হলো দেশে উৎপাদিত প্রতিটি পণ্য যে মানে উৎপাদন হওয়া উচিত তা পর্যবেক্ষণ করা এবং পণ্য মানের কোনো ঘাটতি বা অবনতি হলে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। উদ্দীপকে ‘শাহী ফুড’ প্রতিষ্ঠানটি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেয়। তার পণ্যের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্রয় শাখা খুলেন কিন্তু শহরের শিক্ষিত ও সচেতন ক্রেতারা পণ্যের প্যাকেটের কিছু তথ্য প্রকাশ করে- এমন একটি চিহ্ন দেখতে চান। অর্থাৎ BSTI-এর সিল বা প্রতীক দেখতে চান। BSTI-এর চিহ্ন দেখা ছাড়া পণ্য ক্রয়ে অনীহা প্রকাশ করে।

BSTI এর প্রধান কাজ হচ্ছে পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করা। ১৯৮৯ সালে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আদেশ অনুযায়ী প্রত্যেকটি পণ্যের প্যাকেটের উপর BSTI-এর সিল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। যে চিহ্ন পণ্যের সঠিক মান নির্দেশ করে। উক্ত চিহ্ন সংবলিত প্যাকেটজাত পণ্য ক্রয় করতে ক্রেতারা আগ্রহী হয়। তাই নাটোরের ‘শাহী ফুড’-এর মালিকের বর্তমান করণীয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা BSTI-এর মান অনুমোদনসাপেক্ষে তাদের সিল ব্যবহার করা।

প্রশ্ন ২। ঢাকা বোর্ড ২০২১

মি. মফিজ তার প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মান নির্ধারণে ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং উৎপাদনকার্যে মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও কর্মীদের সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেন। এজন্য তিনি উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রথমেই পণ্যের মান স্থির করেন এবং পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করেন। আবার প্রয়োজনে

সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। ফলে উৎপাদিত পণ্য সর্বদাই মানসম্মত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়।

ক. মূল্যায়ন ব্যয় কী?

খ. মানসনদ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে মি. মফিজ পণ্যের মান নির্ধারণে কোন নীতি অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “মি. মফিজের গৃহীত পদক্ষেপ ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে অত্যন্ত কার্যকর” তুমি কি একমত? পদক্ষেপটি উল্লেখপূর্বক তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয় তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে।

খ) উত্তরঃ একটি পণ্য বা সেবার মান বলতে সেই প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যসমূহকে বোঝায় যা সন্তুষ্টি অথবা প্রয়োজনীয়তা পূরণের সক্ষমতা প্রকাশ করে।

বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায়িক জগতে মানসম্পন্ন পণ্য বা সেবা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে পণ্য বিপণন করার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানসনদ গ্রহণ করতে হয়। দেশের অভ্যন্তরে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএসও সনদ প্রদান করে থাকে। এই মানসনদ গ্রহণ করার মাধ্যমে বিপণনকারী ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করে এবং সঠিক মান অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে পণ্যের বাজার ধরে রাখতে পারে। তাই মান সনদের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক ।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে মি. মফিজ পণ্যের মান নির্ধারণের সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করেছেন ।

যে ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হয় তাকে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা বলে। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মীদের সম্পৃক্তকরণ।

উদ্দীপকে মি. মফিজ তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান নির্ধারণে ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং উৎপাদনকার্যের মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও কর্মীদের সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেন। মি. মফিজ তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্রেতার প্রত্যাশাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন অর্থাৎ ক্রেতা সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া পণ্যের মানে ধারাবাহিক উন্নয়নের সাথে সাথে কর্মীদের সংশ্লিষ্টতাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন যা সার্বিক মান ব্যবস্থাপনাকে প্রকাশ করে। যার ফলে মানের উন্নয়নের সাথে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ সম্পাদন করতে উৎসাহী হয়।

ঘ) উত্তরঃ মি. মফিজের গৃহীত পদক্ষেপটি হলো মান নিয়ন্ত্রণ। এটি ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর, উক্তিটির সাথে আমি একমত।

পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে মাননিয়ন্ত্রণ বলে ।

উদ্দীপকে মি. মফিজ তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন করেন। এজন্য তিনি উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রথমেই পণ্যের মান নির্ধারণ করেন এবং পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করেন। আবার প্রয়োজনে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। তার কাজটি  নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ তিনি সঠিক মানের পণ্য উৎপাদন করার জন্য পূর্বেই একটি মানদণ্ড তৈরি করেন এবং পরবর্তীতে সেই মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন। এছাড়াও তার তদারকিতে কোনো বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন অর্থাৎ তার কাজটি হলো মান নিয়ন্ত্রণ।

মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্যের মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব। এতে পণ্য ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তার স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। আবার মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা গেলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয়। তাই উদ্দীপকে মি. মফিজের প্রতিষ্ঠানটি মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। যার ফলে তাদের ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন ৩। রাজশাহী বোর্ড ২০২১

মীম প্রিন্ট লি. একটি শাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ দেশীয় বাজারে বিভিন্ন বয়সের উপযোগী শাড়ি সরবরাহ করছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর নিম্নমানের শাড়ি উৎপাদন করায় প্রতিষ্ঠানটির ত্রুটি চিহ্নিতকরণ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবস্থার অবনতি ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ ব্যবস্থাপনা পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

ক. ISO -১৪০০০ কী?

খ. ‘সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত রূপ’— ব্যাখ্যা কর।

গ. মীম প্রিন্ট লি. নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের কারণে কোন ধরনের ব্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “মীম প্রিন্ট লি.-এর উচ্চ ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মূল্যায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।” তুমি কি একমত? মন্তব্য কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ISO ১৪০০০ হচ্ছে একটি পরিবেশ বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যা কারখানার উৎপাদন পরিবেশসংক্রান্ত আদর্শ মান স্থাপন করে।

খ) উত্তরঃ যে ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হয় তাকে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা বলে ।

সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মীদের সম্পৃক্তকরণ। অর্থাৎ এটি একটি সমন্বিত কাজ। কেননা উক্ত ব্যবস্থাপনায় ভোক্তা বা ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মী সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন বিষয়কে সমন্বিত করে উদ্দেশ্য অর্জন করা হয়। এ বিষয়গুলো সমন্বয় করার মাধ্যমেই ক্রেতাদের সন্তুষ্টি প্রদান করা হয় এবং কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ সম্পাদন করে।

গ) উত্তরঃ মিম প্রিন্ট লিমিটেড নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের কারণে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।

পণ্য বা সেবা উৎপাদনের সময় যেসব ত্রুটি ধরা পড়ে এবং ঐ ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধনের জন্য যে ব্যয় হয় তাকে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয় বলে।

উদ্দীপকের মীম প্রিন্ট লিমিটেড একটি শাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবৎ দেশীয় বাজারে বিভিন্ন বয়সের উপযোগী শাড়ি সরবরাহ করছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর নিম্নমানের ত্রুটিযুক্ত শাড়ি উৎপাদন করছে। এমতাবস্থায় শাড়ির ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিতকরণ এবং তা সংশোধনের ব্যবস্থা করার জন্য তাদের ব্যয় সম্পাদন করতে হচ্ছে। অর্থাৎ মিম প্রিন্ট লিমিটেড নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের জন্য ত্রুটি চিহ্নিতকরণ ও সংশোধনমূলক যে ব্যয় হচ্ছে সেগুলো অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয় ।

ঘ) উত্তরঃ “মিম প্রিন্ট লিমিটেড এর উচ্চ ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মূল্যায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ উক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত। একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয় তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে। পণ্যের চিহ্নিতকরণে মূল্যায়ন ব্যয় ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করে।

উদ্দীপকে মিম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে শাড়ি প্রস্তুত করে আসলেও বিগত কয়েক বছর তারা নিম্নমানের শাড়ি উৎপাদন করছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিনিয়তই অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অবনতি ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ ব্যবস্থাপনা পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চললে প্রতিষ্ঠানটি তার মানের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা হারাবে এবং তাদের প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ে ব্যবস্থাপকগণ যদি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে তাদের ব্যয় তুলনামূলক কমে আসবে এবং দীর্ঘদিনের সৃষ্ট আস্থা তারা পুনরায় ফিরে পাবে।

নিম্নমানের পণ্য পরীক্ষা করার জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যয় বহন করতে হয়। নিম্নমান থেকে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করতে হলে পরিসংখ্যানিক তথ্য সংগ্রহ এবং উক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান উন্নয়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন ৪। রাজশাহী বোর্ড ২০২১

‘ক্লিয়ার’ নামের একটি কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডাবের পানি বোতলে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রয় করছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায় ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ক্রয় করছে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যে ডাবের বোতলজাত পানীয় আকর্ষণীয় করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদন গ্রহণ করে।

ক. মান ব্যবস্থাপনা কী?

খ. ‘মান নিশ্চিতকরণে দুটি নীতি বিদ্যমান’- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের কোম্পানিটি রাষ্ট্রের কোন সংস্থার অনুমোদন লাভ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মধ্যপ্রাচ্যে ডাবের বোতলজাত পানীয়ের বাজার সৃষ্টির জন্য উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি যে সংস্থার অনুমোদন লাভ করেছে তার গুরুত্ব তুলে ধর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রমকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।

খ) উত্তরঃ পণ্য বা সেবার সুনির্ধারিত মান অর্জনের জন্য মান ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট কার্যাবলি প্রয়োগ করাকে মান নিশ্চিতকরণ বলে।

সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখাই হচ্ছে মান নিশ্চিতকরণ। মান নিশ্চিতকরণের মধ্যে দুটি নীতির অন্তর্ভুক্ত যা হলো। Fit for purpose তথা পণ্য উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং Right first time অর্থাৎ ভুলত্রুটি নিবারণ করা হবে। এই দুটি নীতির উপর ভিত্তি করেই মান নিশ্চিতকরণ কাঁচামালের মান ব্যবস্থাপনা, পণ্য সংযোজন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, সেবা উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পরিদর্শন প্রক্রিয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে কাজ সম্পাদন করে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের কোম্পানিটি রাষ্ট্রের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা BSTIএর অনুমোদন লাভ করে।

BSTI হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল কাজ হলো বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বৈদেশিক বাজার ধরে রাখা। এই প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে। উদ্দীপকের ‘ক্লিয়ার’ নামের একটি কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডাবের পানির বোতলে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রয় করছেন। তাদের উৎপাদিত পণ্যে রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায় ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ক্রয় করছে। বাংলাদেশের একমাত্র BSTI হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একটি মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। যে সংস্থা জাতীয় পর্যায়ে পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। উদ্দীপকের উৎপাদিত পণ্য এ সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায়, ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ক্রয় করছে।

ঘ) উত্তরঃ মধ্যপ্রাচ্যে ডাবের বোতলজাত পানি ও বাজার সৃষ্টির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ISO অনুমোদন লাভ করেছে।

ISO পূর্ণরূপ International Organization for Standardization যার অর্থ আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানসনদ প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপকের ‘ক্লিয়ার’ নামের কোম্পানিটি প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডাবের পানি বোতলে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রয় করে। এ পর্যায়ে তারা BSTI-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায় ক্রেতারা নিশ্চিত্তে তাদের পণ্য ক্রয় করেন। তাই তারা তাদের ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যেও ডাবের বোতলজাত পানীয় বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এজন্যে তারা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন গ্রহণ করে যা ISO নামে পরিচিত। উক্ত সংস্থা থেকে অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে সহজেই মানসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আকর্ষিত এবং বিক্রয় সহজ হয়।

পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব হয় না। ISO সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য মান নিয়ে। ক্রেতাদের মাঝে তেমন সন্দেহ থাকে না। তাই তারা নির্দ্বিধায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয় করেন। এতে উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায় মধ্যপ্রাচ্যে ডাবের বোতলজাত পানি ও বাজার সৃষ্টির জন্য উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি ISO থেকে অনুমোদন লাভ করে যা ক্রেতাকে আকর্ষণ ও বিক্রয় বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখে।

প্রশ্ন ৫। যশোর বোর্ড ২০২১

জনাব রাকিব ঢাকার সাভারে কয়েক বছর আগে একটি চানাচুর তৈরির ফ্যাক্টরী স্থাপন করেন। তার ফ্যাক্টরীতে উৎপাদিত চানাচুরের গুণগতমান নিশ্চিত করার জন্য দেশীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সনদ। গ্রহণ করেন। বর্তমানে জনাব রাকিব তার উৎপাদিত চানাচুর দেশের বাইরে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক। এই কারণে তিনি তার পণ্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে মানসনদ গ্রহণ করেছেন।

খ. “মান নিয়ন্ত্রণ হলো একটি বিচ্যুতি শনাক্তকরণ”

ক. সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা কী?

ব্যাখ্যা কর।

গ. জনাব রাকিব কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে মানসনদ গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নাম উল্লেখপূর্বক জনাব রাকিবের ব্যবসা সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ যে ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হয় তাকে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা বলে ।

খ) উত্তরঃ পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে ।

মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্যের মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব এতে পণ্য ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ক্রেতাদের মনে আগ্রহের সৃষ্টি করে এবং তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হয়। উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে সম্পাদিত কাজের তুলনা করা হয় এবং কোনোরূপ বিচ্যুতি লক্ষ করা গেলে তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ মান নিয়ন্ত্রণের মূল কাজ হচ্ছে বিচ্যুতি নির্ণয় এবং তার সংশোধনের ব্যবস্থা করা।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে কোম্পানিটি রাষ্ট্রের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা BSTIএর মানসনদ গ্রহণ করেছেন।

BSTI হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল কাজ হলো বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বৈদেশিক বাজার ধরে রাখা। এই প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে।

উদ্দীপকের জনাব রাকিব ঢাকার সাভারে কয়েক বছর আগে একটি চানাচুর তৈরির ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। তারা তাদের ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত চানাচুরের গুণমান নিশ্চিত করার জন্য দেশীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সনদ গ্রহণ করেন। উদ্দীপকে যে সংস্থাটির নাম বলা হয়েছে তা হচ্ছে BSTI । কেননা বাংলাদেশের একমাত্র BSTI হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একটি মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। যে সংস্থা জাতীয় পর্যায়ে পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং দেশের অভ্যন্তরে পণ্যের মানসনদ প্রদান করে।

ঘ) উত্তরঃ আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হলো ISO। জনাব রাকিবের ব্যবসায় সম্প্রসারণে এ সংস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

ISO পূর্ণরূপ International Organization for Standardization যার অর্থ আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানসনদ প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপকে জনাব রাকিবের চানাচুর তৈরির ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত চানাচুরের গুণমান নিশ্চিত করার জন্য দেশীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা BSTI-এর সনদ গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে তারা BSTI-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায় ক্রেতারা নিশ্চিন্তে তাদের পণ্য ক্রয় করেন। তাই তারা তাদের ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করার জন্য দেশের বাইরে তাদের উৎপাদিত চানাচুর বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ISO থেকে অনুমোদন গ্রহণ করেন। উক্ত সংস্থা থেকে অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে সহজেই মানসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আকর্ষিত করা যায় এবং পণ্য বিক্রয় সহজ হয়।

পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব হয় না। ISO সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য মান নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে তেমন সন্দেহ থাকে না। তাই তারা নির্দ্বিধায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয় করেন। এতে উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বৃদ্ধি পায় তাই বলা যায়, দেশের বাইরে তাদের উৎপাদিত চানাচুরের বাজার সৃষ্টির জন্য উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি ISO থেকে অনুমোদন লাভ করে যা ক্রেতাকে আকর্ষণ ও বিক্রয় বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। তাই উক্ত সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন ৬। যশোর বোর্ড ২০২১

‘সুপার ফ্যান’ একটি বৃহৎ ফ্যান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ফ্যান বিক্রয়ে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করে। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে গত এক বছরে বিক্রয়কৃত ৪০% ফ্যান ফেরত আসায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি জুটি চিহ্নিত এবং পুনঃডিজাইন বাবদ অর্থ ব্যয় করে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চায়।

ক. মান নিশ্চিতকরণ কী?

খ. “নিম্নমানের পণ্য মূল্যায়ন খরচ বৃদ্ধি করে”- ব্যাখ্যা কর।

গ. সুপার ফ্যান কোম্পানির ব্যয়ের সাথে কোন ধরনের ব্যয় সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত পদক্ষেপের সাথে কোন ধরনের ব্যয়ের সাথে মিল রয়েছে বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৬নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ পণ্য বা সেবার মান অর্জনের নিমিত্তে মান ব্যবস্থাপনার কার্যাবলির সুনির্দিষ্ট প্রয়োগকে মান নিশ্চিতকরণ বলে।

খ) উত্তরঃ একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয় তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে। নিম্নমানের পণ্য পরীক্ষা করার জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যয় বহন করতে হয়। পণ্য নিম্নমান থেকে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করতে হলে পরিসংখ্যানিক তথ্য সংগ্রহ এবং উক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান উন্নয়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। তাই বলা যায়, নিম্নমানের পণ্য মূল্যায়ন ব্যয় বৃদ্ধি করে।

গ) উত্তরঃ সুপার কোম্পানির ব্যয়ের সাথে বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় সম্পৃক্ত। পণ্য বিক্রয় করার পর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার সমাধান বাবদ বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় হয়। এ ধরনের ব্যর্থতার ব্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান লোকসানের সম্মুখীন হয়।

উদ্দীপকের সুপার ফ্যান একটি বৃহৎ ফ্যান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানটি ফ্যান বিক্রয়ে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করে। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে গত একবছরে বিক্রয়কৃত ৪০% ফ্যান ফেরত আসায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের ব্যয় করছে তা পণ্য বিক্রয় করার পর ত্রুটিজনিত কারণে সম্পাদন করতে হচ্ছে। বিক্রয় পরবর্তীতে হওয়ায় এটি বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি গৃহীত পদক্ষেপের সাথে নিবারণ ব্যয়ের মিল রয়েছে বলে আমি মনে করি ।

ত্রুটিপূর্ণ পণ্য উৎপাদনের পূর্বে ত্রুটি নির্বাচন ও প্রতিহত করার জন্য যে ব্যয় করা হয় তাকে প্রিভেনশন কস্ট বা নিবারণ ব্যয় বলে। মূলত পণ্য, নিম্নমানের হওয়ার প্রেক্ষিতে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উৎপাদনকারী নিম্নমানের পণ্য পুনঃমূল্যায়ন ও ত্রুটি প্রতিরোধে অর্থ ব্যয় করে থাকে।

উদ্দীপকের সুপার ফ্যান একটি বৃহৎ ফ্যান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি প্রদান করে বর্তমানে ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ গত এক বছরে তাদের বিক্রীত প্রায় ৪০% ফ্যান ওয়ারেন্টির জন্য ফেরত আসে। তাই বর্তমানে কোম্পানিটি তাদের ত্রুটি চিহ্নিত এবং পণ্য ডিজাইন বাবদ অর্থ ব্যয় করে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চায়। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ত্রুটিমুক্ত পণ্য উৎপাদন করার জন্য উৎপাদনের পূর্বেই ফ্যানের ডিজাইন পরিবর্তন এবং ত্রুটি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করছে যা নিবারণ ব্যয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

পণ্য যেন ত্রুটিপূর্ণ না হয় এজন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধন করা হয় এবং ক্রেতাদের পরিবর্তীত চাহিদা পূরণের জন্য পণ্য ও প্রক্রিয়ার পুনঃডিজাইন করা হয়। এই বিষয়গুলো কোনো কোনোটি প্রত্যক্ষভাবে এবং কোনো কোনোটি পরোক্ষভাবে পণ্যের মান উন্নয়নে সহায়তা করে। এ কারণে পণ্যমান উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির এ অবস্থা থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করেন। সুতরাং প্রতিষ্ঠানের গৃহীত পদক্ষেপের সাথে নিবারণ ব্যয় বা প্রতিরোধমূলক ব্যয়ের সাথে মিল রয়েছে।

প্রশ্ন ৭। কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ব্যাপক মাল্টা চাষ হওয়ায় মি. বাবুল একটি ‘মাল্টা জুস’ কারখানা স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের প্রত্যাশিত মানের জুস সরবরাহের জন্য বদ্ধপরিকর। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ‘মাল্টা জুস’ ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যে মুনাফা লাভে সক্ষম হয়।

ক. মান নিয়ন্ত্রণ কী?

খ. ‘মান ব্যবস্থাপনা পণ্যের মানে নিশ্চয়তা প্রদান করে’ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. বাবুলের গৃহীত কার্যক্রম নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত কোন ধরনের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর, মি. বাবুলের গৃহীত কার্যক্রম মুনাফা লাভের একমাত্র উপায়? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

৭নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে ।

খ) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মানসংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রম কে মান ব্যবস্থাপনা বলে ।

মান ব্যবস্থাপনা পণ্যের মানের নিশ্চয়তা প্রদান করে। পণ্যের মানের মধ্যে পণ্যের কার্যকারিতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্ব ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে কিনা তা দেখা মান ব্যবস্থাপনার কাজ। এ কাজে ত্রুটি কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। কোম্পানি মান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্যের মানে নিশ্চয়তা প্রদান করে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. বাবুল এর গৃহীত কার্যক্রম নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত নিবারণ ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।

ত্রুটিপূর্ণ পণ্য উৎপাদনের পূর্বে ত্রুটি নির্বাচন ও প্রতিহত করার জন্য যে ব্যয় করা হয় তাকে প্রিভেনশন কস্ট বা নিবারণ ব্যয় বলে। মূলত পণ্য নিম্নমানের হওয়ার প্রেক্ষিতে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উৎপাদনকারী নিম্নমানের পণ্য পুনঃমূল্যায়ন ও ত্রুটি-প্রতিরোধে অর্থ ব্যয় করে থাকে।

উদ্দীপকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ব্যাপক মাল্টা চাষ হওয়ায় মি. বাবুল একটি মাল্টা জুস কারখানা স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ক্রেতাদের প্রত্যাশিত মান অনুযায়ী জুস সরবরাহের জন্য প্রতিনিয়ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া পণ্যের ত্রুটি চিহ্নিত করে। তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পণ্যকে ত্রুটি যুক্ত রাখার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে যে ব্যয় হয় তা নিবারণ বা প্রতিরোধমূলক ব্যয়ের আওতাভুক্ত। সুতরাং মি. বাবুলের গৃহীত কার্যক্রম নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত ব্যয়ের নিবারণ ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।

ঘ) উত্তরঃ আমার মতে, উদ্দীপকে মি. বাবুলের গৃহীত কার্যক্রম মুনাফা লাভের একমাত্র উপায় না হলেও এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর উপায়।

পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে। ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্মত পণ্য বা সেবাসমূহ সরবরাহের মাধ্যমে ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনই মান নিয়ন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য ।

উদ্দীপকে মি. বাবুল ক্রেতাদের প্রত্যাশিত মান অনুযায়ী জুস সরবরাহে লক্ষ্যে পণ্য উৎপাদনের পূর্বেই পণ্যের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি সঠিক মানের পণ্য উৎপাদন করার জন্য পূর্বেই একটি মানদণ্ড তৈরি করেন এবং পরবর্তীতে সেই মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন। এছাড়াও তার তদারকিতে কোনো বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন অর্থাৎ তার কাজটি হলো মান নিয়ন্ত্রণ ।

মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্যের মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব। এতে পণ্য ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। আবার মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা গেলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয়। তাই উদ্দীপকে মি. বাবুলের প্রতিষ্ঠানটি মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। যার ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত জুস ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ে মধ্যে মুনাফা লাভে সক্ষম হয়। অর্থাৎ মান নিয়ন্ত্রণ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন ৮। কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এই প্রতিষ্ঠান ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কতিপয় কার্যাবলি সম্পাদনসহ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারি করে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানই নিজেদের ইচ্ছামতো কোনো কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারে না। এ কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা সমাজ নানাভাবে উপকৃত হয়।

ক. মান ব্যবস্থাপনা কী?

খ. “মান নিয়ন্ত্রণ হলো ত্রুটিবিচ্যুতি শনাক্তকরণ”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর, ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৮নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মানসংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রমকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।

খ) উত্তরঃ পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে ।

মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্যের মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব এতে পণ্য ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ক্রেতাদের মনে আগ্রহের সৃষ্টি করে এবং তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হয়। উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে সম্পাদিত কাজের তুলনা করা হয় এবং কোনোরূপ বিচ্যুতি লক্ষ করা গেলে তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ মান নিয়ন্ত্রণের মূল কাজ হচ্ছে বিচ্যুতি নির্ণয় এবং তার সংশোধনের ব্যবস্থা করা।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য BSTI প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে।

BSTI হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল কাজ হলো বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বৈদেশিক বাজার ধরে রাখা। এই প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে।

উদ্দীপকের ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এই প্রতিষ্ঠান ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কতিপয় কার্যাবলি সম্পাদনসহ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারি করে। ফলে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই নিজেদের ইচ্ছামতো কোনো কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারে না। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা BSTI প্রতিষ্ঠা করে। একজন মহাপরিচালক এর প্রধান হিসেবে কাজ করেন যিনি সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন অফিসার। প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে। অর্থাৎ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা BSTI I

ঘ) উত্তরঃ আমি মনে করি ক্রেতা বা ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য BSTIএর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

BSTI হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল কাজ হলো বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বৈদেশিক বাজার ধরে রাখা। এই প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে।

উদ্দীপকে ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা BSTI গঠিত হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি দেশের পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের মানের পরামর্শ প্রদান করে। যার ফলে দেশে গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো কোনো কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারে না। ফলে ক্রেতাগণ পণ্যের মানের প্রতি আস্থা তৈরি করতে পারেন।

BSTI হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রকার পণ্যের, কাঁচামালের, কাঠামোর ও কার্যের মান নির্ধারণ এবং তা প্রয়োজনে পরিবর্তন বা পরিমার্জন করে। এজন্য ক্রেতা/ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে BSTI নামক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্রশ্ন ৯। চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

জি. কিউ একটি এলইডি বাল্ব প্রস্তুতকারক বৃহৎ কোম্পানি। গত চার মাসে কোম্পানি কর্তৃক বিক্রীত এলইডি বাল্ব-এর ৫০% নষ্ট হওয়ায় কোম্পানিতে ফেরত আসে। ফলে কোম্পানি বড় লোকসানের সম্মুখীন হন। তাই প্রতিষ্ঠানটির মালিক ভবিষ্যতে উন্নত কাঁচামাল ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের আশা করছেন।

ক. মান ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?

খ. মূল্যায়ন ব্যয় বলতে কী বোঝায়?

গ. বাল্ব নষ্ট হবার ফলে প্রতিষ্ঠানটির কোন ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. নিম্নমানের ব্যয়ের ধরন উল্লেখপূর্বক উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির মালিক কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

৯নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মানসংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রমকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।

খ) উত্তরঃ একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয় তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে। নিম্নমানের পণ্য পরীক্ষা করার জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বায় বহন করতে হয় । পণ্য নিম্নমান থেকে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করতে হলে পরিসংখ্যানিক তথ্য সংগ্রহ এবং উক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। এ ব্যয়ই হলো মূল্যায়ন ব্যয়।

গ) উত্তরঃ বাল্ব নষ্ট হবার ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পণ্য বিক্রয় করার পর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার সমাধান বাবদ বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় হয়। এ ধরনের ব্যর্থতার ব্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান। লোকসানের সম্মুখীন হয়।

উদ্দীপকের জি. কিউ একটি এলইডি বাল্ব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। গত ৪ মাসে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রীত বাল্ব এর ৫০% নষ্ট হওয়ায় কোম্পানিতে ফেরত আসে। ফলে কোম্পানিকে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের ব্যয় পণ্যের ওয়ারেন্টি প্রদানের মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের ব্যয় করছে তা পণ্য বিক্রয় করার পর ত্রুটিজনিত কারণে সম্পাদন করতে হচ্ছে। বিক্রয় পরবর্তীতে হওয়ায় এটি বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ বাল্ব নষ্ট হওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির মালিক কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তটি হচ্ছে নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত নিবারণ ব্যয় নির্বাহ করা। যা তার ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ।

ত্রুটিপূর্ণ পণ্য উৎপাদনের পূর্বে ত্রুটি নির্বাচন ও প্রতিহত করার জন্য যে ব্যয় করা হয় তাকে প্রিভেনশন কস্ট বা নিবারণ ব্যয় বলে। মূলত পণ্য নিম্নমানের হওয়ার প্রেক্ষিতে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উৎপাদনকারী নিম্নমানের পণ্য পুনঃমূল্যায়ন ও ত্রুটি-প্রতিরোধে অর্থ ব্যয় করে থাকে।

উদ্দীপকের জি. কিউ একটি এলইডি বাল্ব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। গত ৪ মাসে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রীত বাল্ব এর ৫০% নষ্ট হওয়ায় কোম্পানিতে ফেরত আসে। তাদের বাহ্যিক ব্যর্থতার কারণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই মালিক পক্ষ ভবিষ্যতে উন্নত কাঁচামাল ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সকল ব্যয় উৎপাদন করার পূর্বে পণ্যকে ত্রুটিমুক্ত রাখার জন্য করা হয় কারণ পণ্যটি উৎপাদনের পূর্বেই তা ত্রুটিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে পারলে তার ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। ফলে তারা তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ব্যয় নিবারণ ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত।

পণ্য যেন ত্রুটিপূর্ণ না হয় এজন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধন করা হয় এবং ক্রেতাদের পরিবর্তীত চাহিদা পূরণের জন্য পণ্য ও প্রক্রিয়ার পুনঃডিজাইন করা হয়। আবার প্রাথমিক পর্যায়েই কাঁচামাল উন্নয়ন ও প্রযুক্তির পুনঃডিজাইন করা হয়। এই বিষয়গুলো কোনো কোনোটি প্রত্যক্ষভাবে এবং কোনো কোনোটি পরোক্ষভাবে পণ্যের মান উন্নয়নে সহায়তা করে। এ কারণে পণ্যমান উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক।

প্রশ্ন ১০। চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

জনাব জুবায়ের সাহেব তাঁর বাসার জন্য কয়েক বছর পূর্বে একটি ফ্রিজ ক্রয় করেছিলেন। ক্রয়ের সময় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সাথে জুবায়ের সাহেবের এই মর্মে চুক্তি ছিল যে, পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রয়কৃত পণ্যের কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে তা মেরামত করে দিবেন। দুই বছর যেতেই ফ্রিজটির ত্রুটি পরিলক্ষিত হলো এবং চুক্তি অনুযায়ী তারা তা সময়মতো মেরামত করে দিল। এতে তাদের কিছু খরচ হয় । ফলে জনাব জুবায়ের সাহেব তার ফ্রিজের পূর্বনির্ধারিত মান নিশ্চিতের মাধ্যমে যেমন সন্তুষ্টি অর্জন করেন পাশাপাশি উক্ত ফ্রিজ কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধি পায়।

ক. বেঞ মার্কিং কী?

খ. “মান ব্যবস্থাপনা মুনাফা বৃদ্ধি করে।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. পণ্যটি মেরামত করতে প্রতিষ্ঠানটি যে ব্যয় করেছে তা কোন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. ফ্রিজ কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধিতে মান নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।

১০নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ বাজারে নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য, সেবা ও প্রক্রিয়া পরিমাপের একটি ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত কৌশল হলো বেঞ্চমার্কিং।

খ) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রমকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।

মানসম্পন্ন পণ্য সহজেই ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। ক্রেতারা আগ্রহভরে এ ধরনের পণ্য ক্রয় করে। তাছাড়া মানসম্মত পণ্য ও সেবা কোম্পানির সুনাম সৃষ্টি করে। অর্জিত সুনামের সাহায্যে কোম্পানি নতুন নতুন ভোক্তা বা ক্রেতা খুঁজে পায়। আর এই নতুন নতুন ক্রেতা ও ভোক্তার মাধ্যমে কোম্পানির বিক্রয় বৃদ্ধি পায়, যা কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। তাই বলা হয়, মান ব্যবস্থাপনা মুনাফা বৃদ্ধি করে।

গ) উত্তরঃ পণ্যটি মেরামত করতে প্রতিষ্ঠানটি যে ব্যয় করেছ তা হলো বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয়।

পণ্য বিক্রয় করার পর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার সমাধান বাবদ বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় হয়। এ ধরনের ব্যর্থতার ব্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান লোকসানের সম্মুখীন হয়।

উদ্দীপকের জনাব জুবায়ের সাহেব তার বাসার কয়েক বছর পূর্বে একটি ফ্রিজ ক্রয় করেছিলেন। ক্রয়ের সময় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সাথে জুবায়ের সাহেবের এই মর্মে চুক্তি হয়েছিল যে, পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রয়কৃত পণ্যের কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে তা মেরামত করে দিবেন। দুই বছর পর ফ্রিজটি সমস্যা দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী তারা তা মেরামত করে দেন। এতে তাদের কিছু খরচ হয়। এখানে যে চুক্তির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে ওয়ারেন্টি। যেখানে বিক্রয়ের পর বিক্রীত পণ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামত করে দেওয়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। উক্ত ব্যয় পণ্য বিক্রয়ের পর পণ্যের ত্রুটিজনিত কারণে হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয়।

ঘ) উত্তরঃ ফ্রিজ কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধিতে মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে মাননিয়ন্ত্রণ বলে। ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্মত পণ্য বা সেবাসমূহ সরবরাহের মাধ্যমে ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনই মান নিয়ন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য ।

উদ্দীপকের ফ্রিজ কোম্পানি তাদের পণ্য বিক্রয়ে ৫ বছরের জন্য ওয়ারেন্টি সেবা প্রদান করে থাকে। এবং উক্ত সময়ের মধ্যে পণ্যে সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামতের ব্যবস্থা করেন। এরূপ ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতারা তাদের পণ্য কিনে সন্তুষ্ট। এভাবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের ব্যবস্থা ছাড়াও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ত্রুটি নিরসন করতে পারে। কারণ মান নিয়ন্ত্রণের ফলে পণ্য উৎপাদনের পূর্বে একটি আদর্শ মান নির্ধারণ করা হয় এবং উক্ত মান অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হয়। তদারকির মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা তৎক্ষণাৎ সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে পণ্যের ত্রুটির সম্ভাবনা কম হয়। ফলে ভবিষ্যতে বাহ্যিক ব্যর্থতায় তেমন ব্যয় করতে হয় না। প্রতিষ্ঠানের সুনামও বৃদ্ধি পায়।

মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্যের মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব এতে পণ্য ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ক্রেতাদের মনে আগ্রহের সৃষ্টি করে এবং তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হয়। উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে সম্পাদিত কাজের তুলনা করা হয় এবং কোনোরূপ বিচ্যুতি লক্ষ করা গেলে তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যার মাধ্যমে ক্রেতাকে সন্তুষ্টি করা যায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন নতুন ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা যায়।

প্রশ্ন ১১। সিলেট বোর্ড ২০২১

মি. ফরিদ নারায়ণগঞ্জে একটি ওয়াটার পাম্প উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেন। তিনি নিয়মিত উৎপাদন কার্যাবলি তদারকিও করেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ফলে তাকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই তিনি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশোধনের সাথে সাথে গ্রাহকদের বিক্রয়ত্তোর সেবা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন ।

ক. মান নিয়ন্ত্রণ কী?

খ. কাস্টমাইজেশন ধারণাটি কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. শ্রমিকের মৃত্যু ফলে মি. ফরিদ কর্তৃক ব্যয়কৃত অর্থ কোন ধরনের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মি. ফরিদের গ্রাহকদের জন্য বিক্রয়োত্তর সেবা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশোধনের সিদ্ধান্তের সাথে তুমি কি একমত? মতামত দাও ।

১১নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে ।

খ) উত্তরঃ বিশেষ কোনো ক্রেতার ফরমায়েশ অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা এবং সরবরাহ দেওয়া হলে তাকে কাস্টমাইজেশন বা ক্রেতাকেন্দ্রিক বলে ।

কাস্টমাইজেশনের ক্ষেত্রে উৎপাদক বা সেবাদানকারী নিজস্ব মান, আকার, সংখ্যা ইত্যাদিকে প্রাধান্য না দিয়ে, ক্রেতার চাহিদাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে ক্রেতা উৎপাদনকারীর উপর সন্তুষ্ট থাকে। কাস্টমাইজশনে প্রতিটি ক্রেতাকে আলাদা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। যার মাধ্যমে ক্রেতার ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এক্ষেত্রে কাস্টমাইজেশন ক্রেতার স্বতন্ত্র চাহিদা গুরুত্ব দেয় ।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রমিকের মৃত্যুর ফলে মি. ফরিদ কর্তৃক ব্যয়কৃত অর্থ অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয়ের অন্তর্গত।

পণ্য বা সেবা উৎপাদনের সময় যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য যে ব্যয় হয় তাকে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয় বলে।

উদ্দীপকের জনাব ফরিদ নারায়ণগঞ্জে একটি ওয়াটার পাম্প উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেন। তিনি নিয়মিত উৎপাদনকার্য তদারকিও করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একজন শ্রমিকের উদ্দীপকের দুর্ঘটনা ঘটে । যার জন্য তাকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। যে সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে তা উৎপাদন চলাকালীন সময়ে সংঘটিত হয় এবং তা সংশোধনের জন্য তাকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। অর্থাৎ তার ব্যয়টি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয়।

ঘ) উত্তরঃ মি. ফরিদ গ্রাহকদের জন্য বিক্রয়োত্তর সেবা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশোধনের সিদ্ধান্তটির সাথে আমি একমত।

পণ্য বিক্রয়ের পর ক্রেতার কাছে কোনো বিচ্যুতি ধরা পড়লে যে ব্যয় হয় তাকে বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় বলে। আবার পণ্য উৎপাদনের পূর্বে তা ত্রুটিমুক্ত রাখার জন্য যে ধরনের ব্যয় সম্পাদিত হয় তাকে নিবারণ ব্যয় বলে। মূলত বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয় ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশোধনের মাধ্যমে নিবারণ ব্যয় এর সৃষ্টি করে।

উদ্দীপকের মি. ফরিদ সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনায় পড়ে তার উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় যেন পুনরাবৃত্তি না। উক্ত কাজটি পণ্য উৎপাদনের পূর্বে পণ্য ও সমগ্র উৎপাদন ব্যবস্থাকে ঘটে তাই তিনি তার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সংশোধনের ব্যবস্থা করেন।

ত্রুটিমুক্ত রাখার জন্য করা হয়। আবার গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। যার ফলে তার প্রদত্ত নিশ্চয়তার সময়কালের মধ্যে পণ্যটিতে কোনো বিচ্যুতি দেখা দিলে তাকে তা মেরামত করে দিতে হবে।

নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন হলে নিবারণ ব্যয়, মূল্যায়ন ব্যয়, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যয় ও বাহ্যিক ব্যর্থতার ব্যয়ের মতো কতকগুলো ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। পণ্য উৎপাদন করতে উপরিউক্ত ব্যয় সংঘটিত হলে তা প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি ক্রেতাদেরকে পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করে তোলে। তাই উদ্দীপকে মি. ফরিদ তার পণ্যের প্রতি আস্থা প্রাপ্তির জন্য বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান বাবদ প্রক্রিয়া পুনঃবিন্যাস করার জন্য ব্যয় করলেও তা ভবিষ্যতে ক্রেতাদের আস্থা আনবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তিনি লাভবান হবেন। তাই আমার মতে, মি. ফরিদের উক্ত সিদ্ধান্ত একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। যার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত ।

প্রশ্ন ১২। সিলেট বোর্ড ২০২১

মি. মুন্না রাজশাহীতে একটি আমের জুস ফ্যাক্টরি গড়ে তোলে। তাদের উৎপাদিত জুস দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপণন করে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া না পাওয়ায় মি. মুন্না জুসের মান BSTI-এর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিয়ে তা নিম্নমানের বলে বিবেচিত হয়। জুসের মানের যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরায় বিপণন কার্যক্রম শুরু করে এবং জুসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

ক. BSTI অর্থ কী?

খ. ISO সনদ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “মি. মুন্নার উৎপাদন সংশোধনমূলক কার্যক্রম জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণ”— তুমি কি একমত? মতামত দাও।

১২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ BSTI-এর অর্থ হলো বাংলাদেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা।

খ) উত্তরঃ ISO পূর্ণরূপ International Organization for Standardization যার অর্থ আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানসনদ প্রদান করে থাকে।

ISO একটি দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করার ক্ষেত্রে পণ্যের মানের সনদ দিয়ে থাকে। আর সনদ পেতে হলে ISO-এর নির্ধারণ করা সব মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। সনদ দেওয়ার পর নিয়মিত পণ্যের মান যাচাই করে থাকে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে মূল্যায়ন ব্যয় এর কথা বলা হয়েছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয় তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে। নিম্নমানের পণ্যকে মানসম্মত পণ্যে পরিণত করতে এ ধরনের ব্যয় হয়ে থাকে। উদ্দীপকে মি. মুন্না রাজশাহীতে একটি আমের জুস ফ্যাক্টরি গড়ে তোলেন। তাদের উৎপাদিত জুস দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপণন করে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই মি. মুন্না জুসের মান BSTI-এর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করান। উক্ত পরীক্ষায় তার পণ্যটি নিম্নমানের বিবেচিত হয়। পণ্যটি নিম্নমানের হওয়ায় তাকে উক্ত পণ্যের মান পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ব্যয় করতে হয়ে। যা নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের মূল্যায়ন ব্যয়ের সাথে মিল রয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকে মূল্যায়ন ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।

ঘ) উত্তরঃ “মি. মুন্নার উৎপাদন সংশোধনমূলক কার্যক্রম জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণ”- উক্তিটির সাথে আমি একমত।

ত্রুটিপূর্ণ পণ্য উৎপাদনের পূর্বে ত্রুটি নির্বাচন ও প্রতিহত করার জন্য যে ব্যয় করা হয় তাকে প্রিভেনশন কস্ট বা নিবারণ ব্যয় বলে। মূলত পণ্য নিম্নমানের হওয়ার প্রেক্ষিতে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উৎপাদনকারী নিম্নমানের পণ্য পুনঃমূল্যায়ন ও ত্রুটি-প্রতিরোধে অর্থ ব্যয় করে থাকে।

উদ্দীপকে প্রাথমিক পর্যায়ে মি. মুন্নার উৎপাদিত জুস মানসম্মত না হওয়ায় তার চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছিল না। এমতাবস্থায় তিনি বাংলাদেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা BSTI থেকে তার পণ্যের মান পরীক্ষা করে বিচ্যুতি সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরায় বিপণন কার্যক্রম শুরু করেন। অর্থাৎ তার উৎপাদিত পণ্যের মানে যেন পরবর্তীতে ত্রুটি না হয় তাই পূর্ব থেকেই পুনঃপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করছেন।

পণ্য যেন ত্রুটিপূর্ণ না হয় এজন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধন করা হয় এবং ক্রেতাদের পরবর্তীতে চাহিদা পূরণের জন্য পণ্য ও প্রক্রিয়ার পুনঃডিজাইন করা হয়। এই বিষয়গুলো কোনো কোনোটি প্রত্যক্ষভাবে এবং কোনো কোনোটি পরোক্ষভাবে পণ্যের মান উন্নয়নে সহায়তা করে। তাই পণ্যমান উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধনমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করে এই অবস্থা উন্নতি করার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক। যার দরুন তার জুসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রশ্ন ১৩। বরিশাল বোর্ড ২০২১

‘লিজা ফ্যান লি.’ পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত ব্যয় করে থকে। বর্তমানে কারখানার আয়তন বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি আরও ১০০ জন শ্রমিককে নিয়োগ দেয়। দ্রুত উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে নবাগত শ্রমিকরা পুরাতন শ্রমিকদের অনুসরণ করার শর্তে সরাসরি কাজে যোগদান করে। কিন্তু এরপর থেকেই ক্রেতাদের কাছ থেকে ঘন ঘন পণ্যের ত্রুটিসংক্রান্ত অভিযোগ আসতে থাকে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ফ্যান মেরামত করে দেয় এবং এতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক. মান কী?

খ. মান ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত খরচ করেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ কর ।

১৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ক্রেতার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষমতাই হলো মান।

খ) উত্তরঃ ভোক্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কার্যক্রমকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।

প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় পরিবেশে টিকে থাকার জন্য মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা জরুরি। মান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানসম্মত পণ্য তৈরি করায় একই ক্রেতা বারবার পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী হয় এবং বর্তমান ক্রেতারাও নতুন ক্রেতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জন এবং পণ্য বা সেবার ধারাবাহিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়। তাই বর্তমানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো মান ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত মূল্যায়ন ব্যয় করেন।

একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয় তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে। নিম্নমানের পণ্য মানসম্মত পণ্যে পরিণত করতে এ ধরনের ব্যয় করে থাকে।

উদ্দীপকের লিজা ফ্যাশন একটি ফ্যান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফ্যান উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত ব্যয় করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। যা নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের মূল্যায়ন ব্যয়ের সাথে মিল রয়েছে। অর্থাৎ লিজা ফ্যাশন নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনজনিত মূল্যায়ন ব্যয় করেন ।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব তথা দক্ষ শ্রমিকের অভাব।

ত্রুটিমুক্ত মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর তথা দক্ষ কর্মীর ওপর গুরুত্ব দেন। ভালো মানের পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী দরকার।

উদ্দীপকের লিজা ফ্যাশন লি.-এর আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানটি আরও ১০০ জন শ্রমিক নিয়োগ করেন। দ্রুত উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি তার নবাগত শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ” প্রশিক্ষণ প্রদান না করে। প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শ্রমিকদের অনুসরণ করে কাজ সম্পাদন করতে বলেন। যার ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে ঘন ঘন অভিযোগ আসতে থাকে ৷ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অভিযুক্ত ফ্যান মেরামত করে দিতে হয়। এতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। এখানে সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান না করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

প্রশিক্ষিত কর্মী তথা দক্ষ শ্রমিকের অভাবে ত্রুটিযুক্ত ফ্যান উৎপাদিত হয়। এসব ত্রুটিযুক্ত ফ্যান বাজারজাত হওয়ায় ক্রেতা কর্তৃক ফ্যান ফেরত আসে। পরবর্তীতে ১৫ লক্ষ টাকা নিবারণ ব্যয় বাবদ খরচ করে গ্রাহকদের ফ্যান মেরামত করে দেওয়া হয়। সুতরাং যথাযথ প্রশিক্ষণ তথা দক্ষ শ্রমিকের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

প্রশ্ন ১৪। বরিশাল বোর্ড ২০২১

‘মোহনা মার্ট লি.’ জায়নামাজ উৎপাদন ও বিপণনের পূর্বে বাংলাদেশের একটি সংস্থা থেকে মানসনদ গ্রহণ করে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি কাতারে জায়নামাজ রপ্তানির পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু কাতারের বিপণনকারীরা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সনদ থাকার শর্ত জুড়ে দেয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক একটি মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা থেকে মানসনদ সংগ্রহ করে রপ্তানি শুরু করে।

ক. ওয়ারেন্টি কী?

খ. সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা কীভাবে উৎপাদনের গুণগত মান নিশ্চিত করে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের মোহনা মার্ট লি. বাংলাদেশের কোন সংস্থা থেকে মানসনদ গ্রহণ করেছিল? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির পণ্য রপ্তানিতে কীরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও ।

১৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ লিখিত চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদক বা বিক্রেতা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার পণ্যের ত্রুটি সংঘটিত হলে তা মেরামতের নিশ্চয়তা প্রদান করে তাকে ওয়ারেন্টি বলে।

খ) উত্তরঃ যে ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হয় তাকে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা বলে ।

সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মীদের সম্পৃক্তকরণ। অর্থাৎ এটি একটি সমন্বিত কাজ। কেননা উক্ত ব্যবস্থাপনায় ভোক্তা বা ক্রেতা সন্তুষ্টি, কর্মী সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন বিষয়কে সমন্বিত করে উদ্দেশ্য অর্জন করা হয়। এ বিষয়গুলো সমন্বয় করার মাধ্যমেই ক্রেতাদের সন্তুষ্টি প্রদান করা হয়। যার ফলে উৎপাদনের গুণগত মান নিশ্চিত করে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের মোহনা মার্ট লি. বাংলাদেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা BSTI থেকে মানসনদ গ্রহণ করেছিল।

BSTI হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল কাজ হলো বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বৈদেশিক বাজার ধরে রাখা। এই প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ ও মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদান করে ।

উদ্দীপকে ‘মোহনা মার্ট লি.’ একটি জায়নামাজ উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদিত জায়নামাজ বিপণন করার পূর্বে বাংলাদেশের একটি সংস্থা থেকে মানসনদ গ্রহণ করে। এ ধরনের সনদ দিয়ে থাকে BSTI। কেননা বাংলাদেশের একমাত্র BSTI হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একটি মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। যে সংস্থা জাতীয় পর্যায়ে পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই বলা যায়, মোহনা মার্ট লি. বাংলাদেশের BSTI সংস্থা থেকে মানসনদ গ্রহণ করেন ।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির পণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কাছ থেকে মানসনদ গ্রহণ করার পর পণ্য রপ্তানি করা উচিত বলে আমি মনে করি।

ISO পূর্ণরূপ International Organization for Standardization যার অর্থ আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানসনদ প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপকে ‘মোহনা মার্ট লি.’ নামের কোম্পানিটি প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জায়নামাজ উৎপাদন ও বিপণন করে। এ পর্যায়ে তারা BSTI এর অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায় ক্রেতারা নিশ্চিন্তে তাদের পণ্য ক্রয় করেন। তাই তারা তাদের ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করার জন্য কাতারে তাদের উৎপাদিত জায়নামাজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু কাতারের বিপণনকারীরা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অর্থাৎ ISO সনদ থাকার শর্ত জুড়ে দেয়। উক্ত সংস্থা থেকে অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে সহজেই মানসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আকর্ষিত করা যায় এবং বিক্রয় সহজ হয়।

পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব হয় না। ISO সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য মান নিয়ে। ক্রেতাদের মাঝে তেমন সন্দেহ থাকে না। তাই তারা নির্দ্বিধায়। প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয় করেন। এতে উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বৃদ্ধি পায়।

তাই বলা যায়, কাতারে জায়নামাজ রপ্তানির জন্য উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি ISO থেকে অনুমোদন লাভ করে যা ক্রেতাকে আকর্ষণ ও বিক্রয় বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। তাই প্রতিষ্ঠানটির পণ্য রপ্তানির জন্য ISO সনদ গ্রহণের পদক্ষেপটি যথাযথ বলে আমি মনে করি ।

Leave a Comment