৯ম-১০ম এবং ২০২৩ সালের এসএসসি বিজ্ঞান সাজেশন্স

নতুন সিলেবাসের আলোকে (অধ্যায় ০২ : জীবনের জন্য পানি) এর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় ০২
জীবনের জন্য পানি

  • প্রাথমিক আলোচনা নিম্নরূপ :

জীবনের অস্তিত্বের জন্য পানি অপরিহার্য। পানির একটি বিশেষ ধর্ম হলো এটি বেশিরভাগ অজৈব যৌগ ও অনেক জৈব যৌগকে দ্রবীভূত করতে পারে। পৃথিবীতে যত পানি আছে তার প্রায় ৯০ ভাগেরই উৎস সমুদ্র। আর পৃথিবীতে মোট যে পরিমাণ পানি আছে, তার মাত্র শতকরা ১ ভাগ হলো মিঠা পানি। যেহেতু পরিবেশের প্রায় প্রতিটি উপাদান ও প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল, তাই পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে পানি অপরিহার্য। পানি না থাকলে গাছপালা জন্মাবে না, ফসল উৎপাদন হবে . না এবং আমাদের অস্তিত্ব তথা পুরো পরিবেশই ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে পানি মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। অপচয় বা দূষিত করে অন্যের এ অধিকার খর্ব করা মোটেই সমীচীন নয় ।


প্রশ্ন ১। ঢাকা বোর্ড ২০২০

তুবা গ্রামে বেড়াতে গিয়ে দেখলো যে, তাদের পুকুরটি ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। সেখানে মানুষ গোসল করে, কাপড় কাচে, থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করে। এমনকি সে পুকুরে গরু-ছাগলও গোসল করায় ।

ক. ETP কাকে বলে?
খ. পানির pH ৭ বলতে কী বুঝায়?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ মানুষের উপর কী প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত দূষণ রোধে করণীয়গুলো বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাকে Effluent Treatment Plant বা সংক্ষেপে ETP বলা হয় ।

খ) উত্তরঃ pH হলো এমন একটি রাশি যেটি দ্বারা বোঝা যায় পানি বা অন্য কোনো জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ হলে pH হয় ৭, এসিডিক হলে ৭-এর কম, আর ক্ষারীয় হলে ৭-এর বেশি। অর্থাৎ পানির pH ৭ বলতে বুঝায় পানি নিরপেক্ষ প্রকৃতির। গবেষণায় দেখা গেছে, নদ-নদীর পানির pH যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে অর্থাৎ ৭-এর কাছাকাছি থাকে তাহলে সেটা জলজ উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত তুবার গ্রামের একই পুকুরে মানুষ গোসল করে, কাপড় কাচে, থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করে, এমনকি গরুছাগল গোসল করানো হয়। এতে পুকুরটির পানি ময়লা আবর্জনায় দূষিত হয়। এই পানি দূষণ মানুষের উপর যে প্রভাব ফেলে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয়, সংক্রামক। হেপাটাইটিস বি হলো পানিবাহিত রোগ। এসব জীবন ধ্বংসকারী রোগসহ অনেক রোগ পানির মাধ্যমে ছড়ায়, এমনকি সতর্ক না হলে এ রোগগুলো মহামারী আকারও ধারণ করতে পারে। এসব রোগের জীবাণু নানাভাবে পানিতে প্রবেশ করে বিশেষ করে মলমূত্র, পচা জিনিস দিয়ে সহজেই এটা ঘটে। এই পানিতে গোসল করলে, এ পানি পান করলে কিংবা এ পানি দিয়ে খাবার রান্না করলে বা ধোয়াধুয়ি করলে অথবা অন্য যেকোনোভাবে এ দূষিত পানির সংস্পর্শে এলে সেটি মানুষ কিংবা অন্যান্য প্রাণীর দেহে সংক্রমিত হয়। এতে মানুষ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে। অতএব বলা যায়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করা উচিত।

সারকথা : দূষিত পানির সংস্পর্শে এলে মানুষ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লেখিত দূষণ হলো পানি দূষণ। এ দূষণ প্রতিরোধে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো :

১. উঁচু কাঠামো নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে যাতে করে পুকুরের পানির উপর চাপ কমে যাবে।

২. সংগৃহীত বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ বিধায় রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

৩. গোসল বা কাপড় কাচার কাজে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

৪. গবাদিপশু পরিষ্কারের কাজে পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে তা অন্যত্র নিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫. সম্ভব হলে বড় খাল বা গর্ত করেও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৬. গভীর বা অগভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৭. দূষণ প্রতিরোধ বিষয়ে গণসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।

উপরে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো পানি দূষণ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

সারকথা : উঁচু কাঠামো নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। গোসল বা কাপড় কাচার কাজে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। গভীর বা অগভীর নলকূপ স্থাপন করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ২। রাজশাহী বোর্ড ২০২০

প্রশ্ন ২। রাজশাহী বোর্ড ২০২০

ক. ক্লোরিনেশন কাকে বলে?
খ. বিশুদ্ধ পানিতে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা হয় না কেন?
গ. ভূঃপৃষ্ঠের ‘B’ উপাদানটি দিন দিন পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে— ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘c’ বেঁচে থাকতে হলে ‘A’ এর প্রয়োজন— যুক্তি দেখাও ৷

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ ক্লোরিন ব্যবহারের মাধ্যমে পানিতে বিদ্যমান রোগ-জীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ক্লোরিনেশন বলে।

খ) উত্তরঃ পানিতে লবণ কিংবা এসিডের মতো তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবীভূত থাকলে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়। কিন্তু বিশুদ্ধ পানিতে এ ধরনের লবণ বা এসিড দ্রবীভূত না থাকার কারণে বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ‘B’ উপাদানটি হলো পানি। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য বিশুদ্ধ পানি অপরিহার্য। তবে নানাবিধ কারণে পানির উৎসগুলো দূষিত হয়ে পানের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পানির উৎস দূষণের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো-

১. গোসলের পানির উৎস, পায়খানার বর্জ্য পানিসহ অন্যান্য কাজের পানি নর্দমার নলের মধ্য দিয়ে নদ-নদীতে পড়া।

২. বাসাবাড়ির কঠিন বর্জ্য পদার্থ বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদ-নদী, খালবিল বা লেকের পানিতে পড়া।

৩. রাসায়নিক সার, জৈব সার, কীটনাশক, বৃষ্টির পানির উৎস বা বন্যার পানির সাথে মিশে পানিতে পড়া।

৪. শিল্প-কারখানা এবং ট্যানারীর বর্জ্যের পানির সাথে মিশ্রিত হওয়া।

৫. নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার বা জাহাজ থেকে ফেলা মলমূত্র ও তেল জাতীয় পদার্থের পানিতে পড়া।

৬. বেশির ভাগ নদীর পানিতে টেক্সটাইল মিল, ডাইং, রং তৈরির কারখানা, সার কারখানা, কাগজ তৈরির কারখানা ইত্যাদি বর্জ্য পদার্থ মিশা।

উপরে উল্লিখিত কারণসহ আরও নানাবিধ কারণে পানির উৎসগুলো দূষিত হয়ে পড়ছে। এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও এ দূষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আমাদের চারপাশে পানির নানারকম উৎস থাকলেও তা দূষিত থাকায় আমরা পান করতে পারছি না। তাই বলা যায়, ‘B’ উপাদানটি দিন দিন পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

সারকথা : গোসলের পানির উৎস, পায়খানার বর্জ্য পানিসহ অন্যান্য কাজের পানি নর্দমার নলের মধ্য দিয়ে নদ-নদীতে পড়া। রাসায়নিক সার, জৈব সার, কীটনাশক, বৃষ্টির পানির উৎস বা বন্যার পানির সাথে মিশে পানিতে পড়া।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ‘C’ হলো মাছ বা জলজ প্রাণী এবং A হলো জলজ উদ্ভিদ। অপছ থাকার জন্য ‘A’ অর্থাৎ জলজ উদ্ভিদ প্রয়োজন।

প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য জলজ উদ্ভিদ প্রয়োজন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলোজলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন ও খাদ্য। জলজ উদ্ভিদগুলো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে। জলজ প্রাণী এ অক্সিজেন ব্যবহার করেই বেঁচে থাকে। আবার পানিতে থাকা জলজ উদ্ভিদগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। তাই জলজ উদ্ভিদের অভাবে জলজ প্রাণীদের খাদ্যসংকট দেখা দিবে এবং খাদ্যের অভাবে অনেক জলজ প্রাণী মারা যাবে। উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, ‘C’ অর্থাৎ জলজ প্রাণীদের বেঁচে

সারকথা : ‘C’ হলো মাছ বা জলজ প্রাণী এবং A হলো জলজ উদ্ভিদ। জলজ উদ্ভিদের অভাবে জলজ প্রাণীদের খাদ্যসংকট দেখা দিবে এবং খাদ্যের অভাবে অনেক জলজ প্রাণী মারা যাবে।

প্রশ্ন ৩। যশোর বোর্ড ২০২০

প্রশ্ন ৩। যশোর বোর্ড ২০২০

ক. পরিস্রাবণ কাকে বলে?
খ. পানির পুনরাবর্তন ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘w’ যৌগের ওপর লবণাক্ততার প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের যৌগটির দূষণ প্রতিরোধের কৌশল বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার প্রক্রিয়াকে পরিস্রাবণ বলে।

খ) উত্তরঃ দিনের বেলা সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের অর্থাৎ সমুদ্র, নদ-নদী, খালবিল ইত্যাদির পানি বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টির আকারে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে। এ বৃষ্টির পানির বড় একটি অংশ নদ-নদী, খাল-বিল ও সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং আবার বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে। এভাবে পানির ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলে এবং বায়ুমণ্ডল থেকে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে চক্রাকারে আবর্তনকে পানির পুনরাবর্তন বলে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে ‘W’ যৌগটি হলো H2O বা পানি। নিচে পানির ওপর লবণাক্ততার প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো :

পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে পড়লে প্রথমত মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তার কারণ পানির তাপমাত্রা বাড়লে যেরকম পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায় ঠিক সেরকম লবণাক্ততা বাড়লেও দ্রবীভূত অক্সিজেন অনেক কমে যাবে যার ফলে জলজ প্রাণীরা আর বেঁচে থাকতে পারবে না। জলজ উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতেও পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। বর্তমানে সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় চিংড়ি চাষের জন্য নালা কেটে লবণাক্ত পানি মূল ভূখণ্ডে আনা হয়। এ কারণে ঐসব এলাকার ভূগর্ভের পানিসহ মিঠা পানির অন্যান্য উৎসও লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে খাওয়ার এবং ব্যবহার উপযোগী পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, পানির উপর লবণাক্ততার প্রভাব ব্যাপক। এর ফলে পানির ব্যবহারযোগ্য উৎসগুলো ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যায়।

সারকথা : পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে পড়লে মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। জ্বলল উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতেও পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দিপকের যৌগটি হলো  H2O বা পানি। নিচে পানি দূষণ প্রতিরোধের কৌশল বিশ্লেষণ করা হলো :

১. শিল্প কারখানার বর্জ্য নির্গত করার সময় এদের রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে এসব বর্জ্য পানি দূষণে ভূমিকা রাখতে না পারে।

২. জলাভূমি ও বনভূমি রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. প্লাস্টিক, পলিথিন জাতীয় পদার্থ জলাভূমিতে না ফেলা। এজন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করে তার যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

৪. জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।

৫. নৌযান যেমন- লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ হতে নির্গত বর্জ্য পদার্থের রিমাণ কমাতে হবে।

৬. সর্বোপরি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে, জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমেই পানি দূষণ প্রতিরোধ করতে হবে।

সারকথা : শিল্প কারখানার বর্জ্য নির্গত করার সময় এদের রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। প্লাস্টিক, পলিথিন জাতীয় পদার্থ জলাভূমিতে না ফেলা। জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা।

প্রশ্ন ৪। সিলেট বোর্ড ২০২০

পানি বিজ্ঞানী জনাব শাহিদ বাংলাদেশের মিঠা পানির উপর বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব কীরূপ তা নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। অপরদিকে মিজান সাহেব একটি বোতলজাত পানি তৈরির কারখানা দেওয়ার . সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মিজান সাহেব তার কারখানায় পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য কোন কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন তা জানার জন্য শাহিদ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান ক্লোরিনেশন, স্ফুটন ও পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা যায়।

ক. বিশুদ্ধ পানির pH মান কত?
খ. ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সময় মিঠা পানিতে আসে কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের শাহিদ সাহেবের গবেষণার বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের মিজান সাহেব তার কারখানার জন্য উল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনটি প্রয়োগ করবেন এবং কেন? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ বিশুদ্ধ পানির pH মান 7।

খ) উত্তরঃ ইলিশ মাছ সামুদ্রিক হলেও ডিম ছাড়ার সময় অর্থাৎ প্রজননের সময় মিঠা পানিতে আসে কারণ সমুদ্রের লোনা পানিতে ডিম ছাড়লে তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পোনা তৈরি হয় না। তাই ইলিশ মাছ মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে ।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে শাহিদ সাহেবের গবেষণার বিষয়বস্তু হলো-

মিঠা পানিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব। বৈশ্বিক উষ্ণতা হলো বিশ্বের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, যা বিভিন্ন কারণে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানির তাপমাত্রাও বেড়ে যাবে। ফলে মেরু অঞ্চলসহ নানা জায়গায় সঞ্চিত বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। এতে করে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদ-নদী, খালবিল, পুকুর, ভূ-গর্ভস্থ পানি, হ্রদের পানিতে মিশে যাবে। এককথায় মিঠা পানির সকল উৎসই লবণাক্ত হয়ে পড়বে। ফলে মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তার কারণ পানির

তাপমাত্রা বাড়লে যেরকম পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়। ঠিক সেরকম লবণাক্ততা বাড়লেও দ্রবীভূত অক্সিজেন অনেক কমে যাবে। ফলে জলজ প্রাণীরা আর বেঁচে থাকতে পারবে না। জলজ উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতেও জন্মাতে পারে না, বেড়ে উঠতেও পারেনা, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন হয়ে নদ-নদী, খাল-বিলে পানির পরিমাণ এবং প্রবাহ পরিবর্তিত হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মিঠা পানির উপর বৈশ্বিক উষ্ণতার উপরে বর্ণিত প্রভাব নিয়েই শাহিদ সাহেব গবেষণা করে যাচ্ছেন।

সারকথা : বৈশ্বিক উষ্ণতা হলো বিশ্বের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, যা বিভিন্ন কারণে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন হয়ে নদ-নদী, খাল-বিলে পানির পরিমাণ এবং প্রবাহ পরিবর্তিত হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ঘ) উত্তরঃ পানি বিশুদ্ধ করার ক্লোরিনেশন, স্ফুটন ও পাতন প্রক্রিয়ার মধ্যে মিজান সাহেব তার বোতলজাত পানি বিশুদ্ধকরণের কারখানার জন্য ক্লোরিনেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

এ প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণে CI যুক্ত জীবাণুনাশক যেমন— ক্লোরিন গ্যাস (Cl2), ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)CI] এবং অন্যান্য জীবাণুনাশক ব্যবহৃত হয়। এ পদার্থ পানিতে বসবাসকারী জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। অনেক সময় ওজোন (O3) অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়েও পানিতে থাকা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে পানি বিশুদ্ধ করা হয় এবং পানি বোতলজাত করা হয়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্লোরিনেশন, স্ফুটন পাতন প্রক্রিয়ার মধ্যে পাতন প্রক্রিয়ায় পানি সম্পূর্ণরূপে রোগ-জীবাণুমুক্ত করা যায় না। স্ফুটন প্রক্রিয়ায় পানি রোগ-জীবাণুমুক্ত করা গেলেও কারখানার জন্য তা উপযোগী নয়। ক্লোরিনেশন প্রক্রিয়ায় পানিকে সম্পূর্ণরূপে রোগজীবাণুমুক্ত করা সম্ভব এবং এ পদ্ধতিটি কারখানায়ও ব্যবহার উপযোগী। এ কারণেই মিজান সাহেব তার কারখানায় ক্লোরিনেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

সারকথা : মিজান সাহেব তার কারখানার জন্য ক্লোরিনেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন। ক্লোরিনেশন প্রক্রিয়ায় পানিকে সম্পূর্ণরূপে রোগ-জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব এবং এ পদ্ধতিটি কারখানায়ও ব্যবহার উপযোগী।

প্রশ্ন ৫। রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

শিফন সাহেবের ফ্যাক্টরি হতে নির্গত ধোঁয়ায় বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। আবার গণি মিয়া লাঙল দিয়ে ধান চাষ করার ফলে জমির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিহারদের এলাকার নদীটি প্রায় ভরাট হওয়ায় এর পানি ধারণক্ষমতা কমে এলাকার চারদিকে পানি ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

ক. পরিস্রাবণ কাকে বলে?
খ. ইলিশ মাছ সমুদ্র থেকে নদীতে আসে কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. শিফন সাহেব দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাটি নদী ও বিলের পানিতে কি ধরনের প্রভাব ফেলবে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের গণি মিয়া ও নিহারদের এলাকায় সৃষ্ট সমস্যা দুটিই কী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ? বিশ্লেষণ কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক) উত্তরঃ তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার প্রক্রিয়াকে পরিস্রাবণ বলে।

খ) উত্তরঃ ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সময় মিঠা পানিতে আসে। ইলিশ সামুদ্রিক মাছ অর্থাৎ লবণাক্ত পানির মাছ হলেও ডিম ছাড়ার সময় অর্থাৎ প্রজননের সময় মিঠা পানিতে আসে কারণ হলো সমুদ্রের পানিতে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে যা ডিমকে নষ্ট করে ফেলে। ফলে ঐ ডিম থেকে আর পোনা মাছ তৈরি হতে পারে না। তাই প্রকৃতির নিয়মেই ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সময় হলে মিঠা পানিতে আসে।

গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে শিফন সাহেবের ফ্যাক্টরি হতে নির্গত ধোঁয়া বায়ুমণ্ডল দূষিত করছে। এ দূষণের প্রভাবে এসিড বৃষ্টি হতে পারে। এসিড বৃষ্টি হলে নদী ও বিলের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাবে এবং মাছ উৎপাদন ব্যাহত হবে। আবার শিফন সাহেবের ফ্যাক্টরি হতে নির্গত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদি নদী ও বিলে এসে পানিকে দূষিত করবে। ফলে এর পানি কালো দুর্গন্ধযুক্ত ও ঘোলাটে হয়ে যাবে। এতে করে সূর্যের আলো পানির অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে না। আর এ প্রক্রিয়া না হলে জলজ উদ্ভিদের খাবার তৈরি ব্যাহত হবে এবং অক্সিজেন উৎপাদনও কমে যাবে। ফলে জলজ প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিবে। তাই জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর সহাখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। উক্ত ফ্যাক্টরি হতে নির্গত কেমিক্যাল এর জন্য pH এর মান হেরফের হবে যা জলজ জীবের জন্য হুমকিস্বরূপ।

উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায় শিফন সাহেবের ফ্যাক্টরি নদী ও বিলের পানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সারকথা : ফ্যাক্টরি হতে নির্গত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদি নদী ও বিলের পানিকে দূষিত করবে। ফলে জলজ উদ্ভিদের খাবার তৈরি ব্যাহত হবে; অক্সিজেন উৎপাদনও কমে যাবে; জলজ প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিবে।

ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে গণি মিয়া লাঙল দিয়ে ধান চাষ করায় জমির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং নিহারদের এলাকার নদী ভরাট হওয়ায় এর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে এলাকার চারদিকে পানি ছড়িয়ে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

গণি মিয়া লাঙল দিয়ে ধান চাষ করায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে আর জমির উর্বরতা কমে গেলে মাটির ক্ষয় অনেক বেড়ে যায়। মাটি ক্ষয়ের ফলে মাটির উর্বরতা কমে গিয়ে ফসল উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে। আর উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়। অপরদিকে নিহারদের এলাকার নদী ভরাট হওয়ার ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যার ফলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ বন্যার ফলে ছোট ছোট গাছপালা ও ফসলের (যেমন- ধান, গম, শাকসবজি) ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যার ফলে পানি দূষণ ঘটে ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়। অনেক সময় মাটি দূষিত হয় এবং এসিডিক হয়ে ওঠে। এ জলাবদ্ধতা ও বন্যায় মৎস্য সম্পদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশির ভাগ জমিই জলাবদ্ধতার কারণে ফসল ফলানো সম্ভব হয় না, কৃষকেরা সময়মতো জমি চাষ করতে পারে না, ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়। এছাড়া নদী ভরাট হওয়ার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, গণি মিয়া ও নিহারদের এলাকায় সৃষ্ট সমস্যা দুটিই পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সারকথা : লাঙল দিয়ে ধান চাষ করায় জমির উর্বরতা কমে যায় ও মাটির ক্ষয় অনেক বেড়ে যায়। অপরদিকে নদী ভরাট হওয়ার ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যার ফলে মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয়।

Leave a Comment